ভারতের সাতটি রাজ্যে ওয়ার্ল্ড সেন্ট্রাল কিচেনের যাত্রা শুরু

46
Social Share

প্রবালিকা এম বোরাহ

অলাভজনক সংস্থাটি মহামারির চাপে থাকা চিকিৎসা দলের জন্য বিনামূল্যে স্বাস্থ্যকর খাদ্য সরবারাহে সরকারি হাসপাতালের সাথে শেফদের যুক্ত করছে

প্রভাবশালী প্রতিষ্ঠান ওয়ার্ল্ড সেন্ট্রাল কিচেন (ডব্লিউসিকে) দেশের সাতটি শহরে চব্বিশ ঘন্টা কর্মরত হাসপাতাল কর্মীদের সদ্যপ্রস্তুত খাদ্য পরিবেশন করতে ভারতের শেফ সঞ্জীব কাপুরের সাথে যোগ দিয়েছে ।

মুম্বাইয়ে শুরুর দিকে কাজটি করতে গিয়ে শেফদের স্থানীয় একটি দল তাদের প্রথম দিনের পরিবেশনার জন্য ধনিয়ার ভাতের সাথে মাখনওয়ালা সব্জি প্রস্তুত করেছিল।

ডব্লিউসিকে একটি প্রতিবেদনে বলেছে, ‘‘বেশ কয়েকটি হাসপাতালে দুটি শিফটে খাবার সরবরাহ করা হয়েছিল, একটি ছিল দিনের বেলার কর্মীদের জন্য অন্যটি ছিল রাতে কর্মরত দলের জন্য। আমরা অবশ্য প্রথমসারির চিকিৎসা কর্মীদের ফলের রসও সরবরাহ করেছিলাম- কেননা প্রচন্ড দাবদাহ চলছে এবং কর্মীরা আপাদমস্তক পিপিই পরে রয়েছেন, সুতরাং পানিশূন্যতার মতো বড় উদ্বেগ তো রয়েছেই।’’

২০১০ সালে স্প্যানিশ-আমেরিকান শেফ জোস আন্দ্রেস এবং তার স্ত্রী প্যাট্রিসিয়া প্রতিষ্ঠিত সংস্থা ওয়ার্ল্ড সেন্ট্রাল কিচেন-এর লক্ষ্য হচ্ছে কমিউনিটিগুলির ক্ষমতায়ন এবং অর্থনীতিকে শক্তিশালী করার জন্য খাদ্যের ব্যবহার করা।  সময়ের সাথে সাথে তাঁরা আরও শিখেছেন যে সংকটের সময়ে খাদ্য কমিউনিটিগুলির কল্যাণ সাধনে একটি শক্তিশালী হাতিয়ার হতে পারে।

ডব্লিউসিকে দলগুলি বর্তমানে প্রতিদিন ১০,০০০-এরও বেশি পুষ্টিকর খাবার প্রস্তুত করছে। বর্তমানে তারা সাতটি ভারতীয় শহর (মুম্বাই, আহমেদাবাদ, দিল্লি, বেঙ্গালুরু, হায়দ্রাবাদ, কলকাতা এবং চিকালিম)-এর সাথে কাজ করছে, ডব্লিউসিকে জানিয়েছে যে তারা এ পর্যন্ত সম্মুখসারির স্বাস্থ্যসেবা কর্মীদের জন্য ৫০,০০০-এরও বেশি খাবার সরবরাহ করেছে।

ভারতে যেভাবে শুরু

২০২০ সালের লকডাউনের সময় শেফ সঞ্জীব কাপুর উপলব্ধি করলেন যে মহামারির চ্যালেঞ্জ থাকা সত্ত্বেও তাঁর রন্ধনশালা ঠিকঠাক রাখা এবং কর্মীদের অনুপ্রাণিত করার জন্য অন্য কোন উপায় খুঁজে বের করার প্রয়োজন রয়েছে।  এছাড়া, তিনি চিকিৎসা দলের সেবা করার জন্যও একটি উপায় খুঁজে পেতে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ ছিলেন।

মুম্বাই থেকে ফোনে তিনি বলেন, “আমি যে শেফদের সাথে কথা বলেছি তারা সাহায্য করতে অতি আগ্রহী ছিল।”  তারা কস্টুরবা গান্ধী হাসপাতালে প্রতিদিন আড়াইশো খাবার দিয়ে শুরু করেছিলো যার মধ্যে ছিল রুটি, ভাত, ডাল, সবজি, ফলমূল, জুস এবং মিষ্টি । “কথাটি ছড়িয়ে যাওয়ার সাথে সাথে আমরা অন্যান্য ছোট হাসপাতাল থেকে তাদের কর্মীদের খাদ্য সরবরাহের জন্য ডাক পেতে শুরু করি। অতি সত্ত্বর, আমরা বেশিরভাগ হাসপাতালে বিনামূল্যে স্বাস্থ্যকর এবং সুষম খাবার সরবরাহ করছিলাম। ”

শেফ কাপুর বলেন, হোটেলগুলি এবং শেফদের দল এই উদ্যোগের জন্য কৃতজ্ঞ কারণ এর ফলে এই সংকটে তারা নিজেদেরকে সহায়তাকারী ভাবতে পেরেছে। এই বছর তিনি ইন্ডিয়ান হোটেল কোম্পানি লিমিটেড (আইএইচসিএল) এর সাথে হাত মিলিয়েছেন, এটিই তাজ হোটেলস গ্রুপ এবং তাজ ফ্লাইট কিচেন। হায়দ্রাবাদ ও তাজ সান্তাক্রুজ মুম্বাইয়ের আঞ্চলিক পরিচালক আয়ান ডুবিয়ার বলেন, গত বছর এই অতিমারির শুরুতে সংস্থাটি চিকিৎসা দলকে খাদ্য সরবরাহ ও আতিথ্য দিতে শুরু করে।  “তখন থেকে আমরা আমাদের প্রচার বাড়িয়ে চলেছি,” তিনি যোগ করেন।

মুম্বইয়ের এই প্রকল্পে দারুণ সন্তুষ্ট শেফ কাপুর বলেন, “জোস আন্দ্রেস একজন বন্ধু এবং যখন আমি তাকে বললাম যে আমরা অন্যান্য শহরেও খাদ্য সরবরাহ সম্প্রসারিত করতে চাই, তখন তিনি ডব্লিউসিকেতে নিয়ে এলেন।’

 

দৈনিক খাদ্য সরবরাহের সংখ্যা

মুম্বাই: ৪৫০০; আহমেদাবাদ: ৩১০০; দিল্লি: ৫৬২৫; বেঙ্গালুরু: ৩৮০০; হায়দ্রাবাদ: ১৪০০; কলকাতা: ২৬১০; গোয়া: ২৫০

যদিও রেস্তোঁরাগুলো, হোম শেফ এবং স্বেচ্ছাসেবকরা হাসপাতালে কর্মীদের এবং রোগীদের খাওয়ানোর জন্য কাজ করে যাচ্ছেন, সরকারি হাসপাতালগুলোতে সদস্য সংখ্যা বেশি হওয়ায় সেখানে ধারাবাহিকতা রক্ষা করা রীতিমতো কঠিন।  ডব্লিউসিকে তার পূর্ণ জনশক্তি, অবকাঠামো এবং বেশি পরিমাণে রান্নায় অভিজ্ঞদের কাজে লাগিয়ে স্থানীয় দলগুলিকে উন্নীত করতে সহায়তা করছে।  এর ত্রাণ দলটি শীঘ্রই চেন্নাইয়ে কাজ শুরু করবে।

আইএইচসিএল-এর এয়ারলাইন ক্যাটারিং ব্র্যান্ড –তাজস্যাটসের রয়েছে প্রতিদিন স্বাস্থ্যকর উপায়ে পর্যাপ্ত খাবার রান্না ও প্যাক করার জন্য জনশক্তি ও অর্থসংস্থান, বলেন ডুবিয়ার। তিনি আরও বলেন, “হায়দ্রাবাদে আমরা তাজ ফালাকনুমা প্যালেস থেকে প্রতিদিন প্রায় ১,৪০০ খাবার (দুপুরের ও রাতের খাবার) সরবরাহ করছি এবং শেফ সঞ্জীব কাপুর ও ডব্লিউসিকের সাথে যুক্ত হতে পেরে আমরা অত্যন্ত কৃতজ্ঞ।”