ভাবনায় বিদেশ, তাই দেশেও ৫ পেসার

20
Social Share

বাংলাদেশ দলের দায়িত্ব নেওয়ার পরপরই আফগানিস্তানের কাছে টেস্ট হারের লজ্জার সঙ্গে নাম জুড়ে যায় হেড কোচ রাসেল ডমিঙ্গোর। সেটিই চট্টগ্রামে হওয়া সর্বশেষ টেস্ট (২০১৯ সালের সেপ্টেম্বরে)। যে ম্যাচে একজনও পেসার খেলানোর আগ্রহ দেখায়নি স্বাগতিকরা। অথচ বছরখানেকের করোনা বিরতি কাটিয়ে এবার তারা সেই চট্টগ্রামেই টেস্টে ফিরছে এক ঝাঁক পেসার নিয়ে। ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে ৩ ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হতে যাওয়া টেস্টের স্কোয়াডে বাংলাদেশ রেখেছে পাঁচ-পাঁচজন পেসার।

কিন্তু খেলবেন কয়জন? বরাবরের মতো স্পিন সহায়ক উইকেটে ক্যারিবীয়দের ফাঁদে ফেলার পরিকল্পনা যেখানে অনুমিতই, সেখানে স্কোয়াডে পেসারের আধিক্য নিয়ে প্রশ্ন থাকাও অবান্তর নয়। সংশ্লিষ্টদের কাছ থেকে যে জবাব মিলেছে, তাতে ফুটে উঠেছে সংস্কৃতি বদলে ফেলার চিন্তাই। আফগানিস্তান কাণ্ডের কয়েক মাস পরের ভারত সফর থেকেই যে পরিবর্তনের প্রয়োজনের কথা বলে আসছিলেন ডমিঙ্গো নিজেও। সেই সফরে দুই টেস্টে বাংলাদেশের ৩৩ উইকেটই ভারতীয় পেসাররা তুলে নেওয়ার পর এই দক্ষিণ আফ্রিকান কোচ এমন পেস আক্রমণ গড়ার স্বপ্নের কথা বলেছিলেন, যারা দেশেও টেস্ট জেতাতে সক্ষম। তাই বলে চট্টগ্রামে টেস্ট প্রত্যাবর্তনেই একাদশে পেসারদের উপস্থিতি বাড়ানোর সম্ভাবনা নেই। তবে বিদেশের মাটিতে পেসারদের কাছ থেকে ভালো কিছু পাওয়ার তাগিদ আছে। তাই দেশেও দলের সঙ্গে রেখে তাঁদের তৈরি করার ভাবনা। এ জন্যই মুস্তাফিজুর রহমান, তাসকিন আহমেদ, আবু জায়েদ, এবাদত হোসেনদের সঙ্গে স্কোয়াডে ঠাঁই হয়ে গেছে তরুণ হাসান মাহমুদেরও।

যাঁরা স্কোয়াডে স্পিনারদের চেয়েও সংখ্যাগরিষ্ঠ। দলে বিশেষজ্ঞ স্পিনার আছেন চারজন। চট্টগ্রাম টেস্টে স্বাগতিকদের রণপরিকল্পনার ছক এঁদের নিয়েই। সে ক্ষেত্রে একাদশে দুজনের বেশি পেসার দেখার সম্ভাবনা নেই বললেই চলে। তাহলে এত পেসার রাখার কারণ ব্যাখ্যায় প্রধান নির্বাচক মিনহাজুল আবেদীন বললেন বিদেশ ভাবনার কথাই, ‘দলের মধ্যে স্পিনার, পেস বোলার সবাইকেই প্রস্তুত রাখতে হয়। কারণ আমরা যখন পুল তৈরি করি, তখন শুধুই একটি টেস্ট ম্যাচের কথা মাথায় রেখে করা হয় না। সামনের কথা ভেবে, বিদেশের মাটিতে খেলার বিষয় মাথায় রাখা হয়।’

ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে হোম সিরিজ শেষেই নিউজিল্যান্ড সফরে যাবে বাংলাদেশ। যদিও এই সফরে টেস্ট নেই। দেশের বাইরে টেস্ট খেলার জন্য এপ্রিলে শ্রীলঙ্কায় সম্ভাব্য সফরের অপেক্ষা। নিজেদের মাটিতে লঙ্কানরা গত বেশ কয়েক বছর ধরে এই উপমহাদেশের প্রতিপক্ষের জন্য সবুজ উইকেটেই খেলে আসছে। ওই সফর সামনে রেখে পেসারদের তৈরি হওয়ার সুযোগ দেওয়ার কথাও বলতে শোনা গেল মিনহাজুলকে, ‘যারা খেলবে না, তারা যেন একটা সিস্টেমে থাকে। টিম ম্যানেজমেন্টের সঙ্গে কাজ করে অভ্যস্ত হয়ে যেন আরো উন্নতি করতে পারে, স্কোয়াড করার সময় মাথায় রাখা হয়েছে এটিও।’

তা ছাড়া সব পেসার সব সময় একই অবস্থায় থাকবেন, সেই নিশ্চয়তা না থাকাও পাঁচ পেসার রাখার একটি কারণ বলে জানিয়েছেন প্রধান নির্বাচক, ‘এখানে পাঁচজন পেসার রাখা হয়েছে। কারণ অনেক দিন পর আমরা টেস্ট খেলছি। যেকোনো সময় যে কেউ ইনজুরিতে পড়তে পারে। পাঁচ দিনের টেস্ট শেষে আপনি বলে দিতে পারবেন না যে ওদের সবার স্ট্যামিনা একই রকম থাকবে। সেই হিসাবে ওদের ফিটনেস লেভেলের কথা চিন্তা করে আমরা এতজন পেসার রেখেছি। আশা করি, দুই টেস্টেই ওদের ভালো অবস্থায় পাব।’