ভাতিজিকে ধর্ষণ করে ভিডিও-ছবি ছড়িয়ে দিল চাচা

73
ধর্ষণ
Social Share

বরগুনার আমতলী উপজেলার কুকুয়া ইউনিয়নের কৃষ্ণনগর গ্রামে নবম শ্রেণির এক স্কুলশিক্ষার্থীকে ধর্ষণ করেছে দূর সম্পর্কের চাচা। ধর্ষণের ভিডিও ধারণ এবং পরবর্তীতে ভয় দেখিয়ে ফের আপত্তিকর ছবি তুলে তা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়ার হুমকিও দেওয়া হয়েছে। এসব অভিযোগে মামলা দায়েরের পর ধর্ষক সোহেল (১৭) ও তার সহযোগী খালাত বোন মারুফাকে (১৪) গ্রেপ্তার করেছে আমতলী থানা পুলিশ। ধর্ষিতাকে ডাক্তারি পরীক্ষার জন্য বরগুনা জেনারেল হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

মামলা ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার কুকুয়া ইউনিয়নের কৃষ্ণনগর গ্রামের এক স্কুলছাত্রী তার দূর সম্পর্কের চাচা রাসেল মুসুল্লীর কাছে দর্জির কাজ শিখতে যায়। রাসেলের ছোট ভাই সোহেল মুসুল্লী প্রায়ই ওই শিক্ষার্থীকে প্রেমের প্রস্তাব দিয়ে আসছিল। কিন্তু মেয়েটি তা প্রত্যাখ্যান করে। অভিযুক্ত সোহেল এবং ধর্ষণের শিকার কিশোরী মেয়েটি সম্পর্কে চাচা-ভাতিজি। তাদের উভয় পরিবার একই বাড়িতে বসবাস করে। গত ৯ আগস্ট বিকেল ৩টার দিকে মেয়েটি দর্জির কাজ শিখতে রাসেলের ঘরে গিয়ে দেখে তিনি ঘরে নেই। এসময় ঘরে ছিল ধর্ষক সোহেল এবং তার খালাতো ভাই শামীম। মেয়েটি ঘরে প্রবেশের পর কিছু বুঝে ওঠার আগেই সোহেল ঘরের দরজা আটকে তার শামীমের সহযোগিতায় তাকে ধর্ষণ করে এবং কৌশলে তা মোবাইলে ধারণ করে রাখে। ধর্ষণের ওই ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়ার ভয় দেখিয়ে সোহেল পরবর্তিতে একাধিকবার মেয়েটিকে ধর্ষণ করেছে। এ ঘটনার পর আবার গত ১৭ আগস্ট ধর্ষক সোহেল তার খালাতো বোন মারুফাকে মেয়েটির ঘরে পাঠিয়ে তার আপত্তিকর ছবি মুঠোফোনে ধারণ করে তা সংগ্রহে রাখে।

গত বুধবার সোহেল মেয়েটিকে আবার শারীরিক সম্পর্কের প্রস্তাব দেয়। ভিকটিম তাতে রাজি না হওয়ায় পরদিন বৃহস্পতিবার সোহেল তার মুঠোফোন ধারণ করা ভিডিও ও ছবিগুলো সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেয়। ভিকটিমের পরিবার বিষয়টি জানতে পেরে তার মা বাদী হয়ে শুক্রবার রাতে সোহেলকে প্রধান করে এবং ধর্ষণে সহযোগিতার জন্য খালাতো বোন ফারুফা এবং খালাতো ভাই শামীকে আসামি করে আমতলী থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন এবং পর্নোগ্রাফি আইনে মামলা দায়ের করেন। মামলার পর ধর্ষক সোহেল এবং তার খালাতো বোন মারুফাকে ওই রাতেই আমতলী থানার পুলিশ গ্রেপ্তার করে।

ধর্ষক সোহেল কুকুয়া ইউনিয়নের কৃষ্ণনগর গ্রামের মাইনুদ্দিন মুসুল্লীর ছেলে। আর তার দুই সহযোগী খালাতো ভাই-বোন সফি আকনের দুই ছেলে-মেয়ে।

ধর্ষিতার মা কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, সোহেল সম্পর্কে আমার ফুপাতো দেবর। একই বাড়িতে আমরা বসবাস করি। সম্পর্কে সে আমার মেয়ের চাচা হয়। চাচা হয়েও সে আমার মেয়ের সর্বনাশ করেছে। জোরপূর্বক ধর্ষণ করে ছবি এবং ভিডিও ধারণ করে ভয় দেখিয়ে একাধিকবার ধর্ষণ করেছে। আবার শারীরিক সম্পর্ক করতে চাইলে মেয়ে রাজি না হওয়ায় জোর করে তোলা ছবি ফেসবুকে ছড়িয়ে দিয়ে আমাদের মানসম্মান নষ্ট করেছে। আমি এ ঘটনার কঠিন শাস্তি চাই।

মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই নাসরিন সুলতানা জানান, মামলার পর পরই ধর্ষক সোহেল এবং সহযোগী খালাত বোন মারুফাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। অপর আসামি শামীম পলাতক রয়েছে। ধর্ষক সোহেলের মোবাইল ফোন জব্দ করা হয়েছে।

আমতলী থানার পুলিশ পরিদর্শক (ওসি তদন্ত) রনজিত কুমার সরকার বলেন, ধর্ষক সোহেল এবং ধর্ষণে সহযোগিতার অপরাধে তার খালাত বোন মারুফাকে গ্রেপ্তারের পর আমতলী উপজেলা সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে। ধর্ষিতাকে ডাক্তারি পরীক্ষার জন্য বরগুনা জেনারেল হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।