বড়পুকুরিয়া কয়লা কেলেঙ্কারি: ৬ সাবেক এমডিসহ ২২ জন জামিনে মুক্ত

16
Social Share

দিনাজপুরের বড়পুকুরিয়া কয়লা খনিতে এক লাখ ৪৩ হাজার ৭২৭.৯৯ মেট্রিক টন কয়লা (আনুমানিক মূল্য ২৪৩ কোটি ২৮ লাখ টাকা) আত্মসাতের অভিযোগে জেলা কারাগারে পাঠানো খনির ৬ সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালকসহ (এমডি) ২২ জনকে কারাগার থেকে জামিনে মুক্তি দেওয়া হয়েছে।

আজ বৃহস্পতিবার (১৪ জানুয়ারি) সকালে তাঁদেরকে জামিনের আদেশ সাপেক্ষে মুক্তি দেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন দিনাজপুর জেলা কারাগারের সুপার মোকাম্মেল হোসেন। তিনি বলেন, গতকাল বুধবার (১৩ জানুয়ারি) সন্ধ্যায় তাঁদের জামিনের জন্য আদেশ পেয়েছিলাম। আজ বৃহস্পতিবার সকালেই তাঁদেরকে মুক্তি দেওয়া হয়েছে।

জানা যায়, গতকাল বুধবার দুপুরে চার্জ গঠনের দিনে আসামিরা দিনাজপুর বিশেষ জজ আদালতে হাজির হয়ে জামিনের আবেদন করেন। তবে আদালত তাঁদের জামিন নামঞ্জুর করে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন। পরে তাঁদের জামিন সংক্রান্ত একটি রিট উচ্চ আদালতে বিচারাধীন থাকায় আসামিপক্ষের আইনজীবী নুরুজ্জামান জাহানী প্রয়োজনীয় কাগজপত্র আদালতে উপস্থাপন করেন। এরপর  বিকেলে এক আদেশে তাঁদেরকে জামিন দেন একই আদালত। পরে সেই জামিন আদেশের কপি জেলা কারাগারে পাঠানো হয়। তবে নির্দিষ্ট সময় পর আদেশের কপি কারাগারে পৌঁছনোয় বুধবার তাঁদেরকে কারাগার থেকে মুক্তি দেয়নি কর্তৃপক্ষ।

আসামিপক্ষের আইনজীবী অ্যাড. নুরুজ্জামান জাহানী বলেন, ‘সম্প্রতি জামিনের নিষেধাজ্ঞা এনে রাষ্ট্রপক্ষ উচ্চ আদালতে একটি রিট করেছে। সেই রিটের বিষয়টি উচ্চ আদালতে বিচারাধীন। সেই অবস্থায় বুধবার ২২ জনের জামিন নামঞ্জুর করে দিনাজপুর বিশেষ জজ আদালত। পরে উচ্চ আদালতের বিচারাধীন রিটের কাগজপত্র বিশেষ জজ আদালতে উপস্থাপন করা হলে তাঁদের জামিন মঞ্জুর করেন একই আদালত।

মামলা সূত্রে জানা যায়, গত ২০০৬ সালের জানুয়ারি মাস থেকে ২০১৮ সালের ১৯ জুলাই পর্যন্ত ১ লাখ ৪৩ হাজার ৭২৭ দশমিক ৯২ মেট্রিক টন কয়লা চুরি হয় বড়পুকুরিয়া কয়লা খনি থেকে, যার আনুমানিক মূল্য ২৪৩ কোটি ২৮ লাখ ৮২ হাজার ৫০১ টাকা ৮৪ পয়সা। ওই ঘটনায় তোলপাড় শুরু হয় এবং কয়লাভিত্তিক তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্র বন্ধ হয়ে যায়।

কয়লা গায়েবের ঘটনায় বড়পুকুরিয়া কোল মাইনিং কম্পানির ব্যবস্থাপক (প্রশাসন) আনিসুর রহমান বাদী হয়ে গত ২০১৮ সালের ২৪ জুলাই ১৯ জনের নাম উল্লেখ করে পার্বতীপুর মডেল থানায় মামলা দায়ের করেন। মামলাটি দুদকের তফশিলভুক্ত হওয়ায় দুদক কার্যালয়ে হস্তান্তর করা হয়। পরে মামলাটি দুদকের উপ-পরিচালক শামসুল আলম তদন্তকারী কর্মকর্তা হিসেবে তদন্ত করেন। গত ২০১৯ সালের ২৪ জুলাই মামলার বাইরে আরো চারজনকে যুক্ত করে  সাবেক সাত ব্যবস্থাপনা পরিচালকসহ (এমডি) ২৩ জনের বিরুদ্ধে মামলাটির চার্জশিট আদালতে দাখিল করা হয়।

চার্জশিটে বলা হয়, আসামিরা পরস্পর যোগসাজশে ২০০৬ সালের জানুয়ারি থেকে ২০১৮ সালের ১৯ জুলাই পর্যন্ত  (মেয়াদে) ঘাটতিকৃত ১ লাখ ৪৩ হাজার ৭২৭.৯৯ মেট্রিক টন কয়লা আত্মসাতে জড়িত। আসামিরা দণ্ডবিধির ৪০৯/১০৯ এবং ১৯৪৭ সালের দুর্নীতি প্রতিরোধ আইনের ৫(২) ধারায় শাস্তিযোগ্য অপরাধ করেছেন বলে তদন্তে প্রমাণিত হয়েছে। এই অভিযোগপত্রে এজাহার নামীয় ছাড়াও ৯ জনকে যুক্ত করা হয় এবং তদন্তে ঘটনার সঙ্গে সংশ্লিষ্টতা না থাকায় ৫ জনকে আসামির নাম থেকে বাদ দেওয়ার কথা বলা হয়।

আদালতে ২৩ জনের বিরুদ্ধে চার্জশিট দাখিল করা হলেও তাদের মধ্যে বড়পুকুরিয়া কোল মাইনিং কম্পানির সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) মাহবুবুর রহমান মৃত্যুবরণ করেছেন।

জামিনে যাঁদেরকে মুক্তি দেওয়া হয়েছে তাঁরা হলেন বড়পুকুরিয়া কোল মাইনিং কম্পানির সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) আবদুল আজিজ খান, প্রকৌশলী খুরশীদুল হাসান, প্রকৌশলী কামরুজ্জামান, আমিনুজ্জামান, প্রকৌশলী এস এম নুরুল আওরঙ্গজেব ও সাবেক এমডি প্রকৌশলী হাবিব উদ্দিন আহমেদ, সাবেক মহাব্যবস্থাপক (জিএম, প্রশাসন) শরিফুল আলম, আবুল কাসেম প্রধানীয়া, আবু তাহের মো, নূর-উজ-জামান চৌধুরী (মাইন অপারেশন বিভাগ), আরিফুর রহমান মেইন্টেন্যান্স অ্যান্ড অপারেশন বিভাগের ব্যবস্থাপক, নিরাপত্তা বিভাগের ব্যবস্থাপক মাসুদুর রহমান হাওলাদার, নিরাপত্তা বিভাগের ব্যবস্থাপক সৈয়দ ইমাম হাসান, কোল হ্যান্ডলিং ম্যানেজমেন্ট বিভাগের উপ-মহাব্যবস্থাপক (ডিজিএম) মুহাম্মদ খলিলুর রহমান, মেইন্টেন্যান্স অ্যান্ড অপারেশন বিভাগের উপ-মহাব্যবস্থাপক (ডিজিএম) মোর্শেদুজ্জামান, প্রোডাকশন ম্যানেজমেন্ট বিভাগের উপ-মহাব্যবস্থাপক (ডিজিএম) হাবিবুর রহমান, মাইন ডেভেলপমেন্ট বিভাগের উপ-মহাব্যবস্থাপক (ডিজিএম) জাহেদুর রহমান, ভেন্টিলেশন ম্যানেজমেন্ট বিভাগের উপ-মহাব্যবস্থাপক ব্যবস্থাপক (ডিজিএম) সত্যেন্দ্র নাথ বর্মণ ও মনিরুজ্জামান, কোল হ্যান্ডলিং ম্যানেজমেন্টের ব্যবস্থাপক শোয়েবুর রহমান, স্টোর ডিপার্টমেন্টের উপ-মহাব্যবস্থাপক (ডিজিএম) এ কে এম খালেদুল ইসলাম, প্রোডাকশন ম্যানেজমেন্টের ব্যবস্থাপক অশোক কুমার হালদার ও মাইন প্ল্যানিং অ্যান্ড ডেভেলপমেন্টের উপ-মহাব্যবস্থাপক (ডিজিএম) জোবায়ের আলী।