ব্রাহ্ম সমাজের অন্যতম ব্যক্তিত্ব অক্ষয় কুমার দত্ত

36
Social Share

(১৮২০-১৮৮৬) উনবিংশ শতকের মধ্যভাগে নিরবচ্ছিন্ন বৈজ্ঞানিক যুক্তিবাদের অনুপ্রেরণায় যে সব মনীষী বাংলা গদ্যসাহিত্য ও ব্রাহ্ম আন্দোলনের ইতিহাসে সবিশেষ অবদান রেখে গেছেন, অক্ষয়কুমার তাঁদের অন্যতম।
তাঁর জš§স্থান ভারতের পশ্চিমবঙ্গের নবদ্বীপের নিকটবর্তী চুপী গ্রামে। উনিশ বছর বয়সে তাঁর পিতৃবিয়োগ হয়। তাদের সংসারে নেমে আসে আর্থিক বিপর্যয়। ফলে তার স্কুলে যাওয়া পর্যন্ত বন্ধ হয়ে যায়। তাকে চাকরি করে উপার্জনের পথে নামতে হয়। অল্প দিনের মধ্যেই নিজের চেষ্টায় পরিস্থিতি কিছুটা সামাল দেয়ার পর আবার পড়াশোনায় মনোনিবেশ করেন।
বাল্যকাল থেকে পড়াশোনার প্রতি অক্ষয় কুমারের ছিল অদম্য উৎসাহ। তার জ্ঞানস্প্রহা কখনো হ্রাস পায়নি।
বাল্যকালে স্কুল জীবন থেকেই তার মধ্যে কবি প্রতিভার স্ফূরণ ঘটে। তার যখন মাত্র ১৪ বছর বয়স, তখনি তিনি আনন্দমোহন নামে একখানি কাব্যগ্রন্থ রচনা করেন।
যৌবনের প্রারম্ভেই সংবাদ প্রভাকর এর সম্পাদক কবি ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্তের সঙ্গে তার পরিচয় ঘটে। তিনি গুপ্তকবির অনুরোধে সংবাদ প্রভাকরের জন্য ইংলিশম্যান পত্রিকা থেকে কিছু কিছু সংবাদ ও নিবন্ধন ইত্যাদি বাংলায় অনুবাদ করতে থাকেন। এমনি করে গদ্যচরনাতেও তার শক্তির স্ফূরণ ঘটতে থাকে। তিনি অচিরেই সংবাদ প্রভাকরেরও একজন বিশিষ্ট লেখক হিসেবে স্বীকৃতি লাভ করেন।
১৮৯৩ সালের ২৫ ডিসেম্বর ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্তের প্রস্তাবে তিনি দেবেন্দ্রনাথ ঠাকুরের সঙ্গে সাক্ষাত করেন। দেবেন্দ্রনাথ ঠাকুর তাকে তত্ত্বাবোধিনী সভার সভ্য মনোনীত করেন। পরে তিনি এর সহকারী সম্পাদক মনোনীত হন।
১৮৪০ সালের ১৩ জুন কোলকাতায় দেবেন্দ্রনাথ ঠাকুর তত্ত্ববোধিনী পাঠশালা স্থাপন করলে অক্ষয় কুমার দত্ত তার শিক্ষক নিযুক্ত হন।
১৮৪১ সালে তত্ত্ববোধিনী সভা থেকে তার রচিত শিশুতোষ পাঠ্যগ্রস্থ ভুগোল প্রকাশিত হয় এবং সেটি তত্ত্ববোধিনী পাঠশালার ছাত্রদেরও পড়ানো হতে থাকে।
১৮৪৩ সালের ৩০ এপ্রিল পাঠশালাটি হুগলি জেলার অন্তর্গত বাঁশবেড়িয়াতে স্থানান্তরিত হলে তার পক্ষে কোলকাতা ছেড়ে চলে যাওয়া সম্ভব হয় না। তাই তাকে চাকরি ছেড়ে দিতে হয়।
পাঠশালায় শিক্ষকতাকালে ১৮৪২ সালের জুন মাসে প্রসন্নকুমার ঘোষের সহযোগিতায় তিনি বিদ্যাদর্শন নামে একটি মাসিক পত্রিকা প্রকাশ করেন। তবে পত্রিকাটি দীর্ঘস্থায়ী হয়নি। আর্থিক কারণে তিনি এর প্রকাশকাল দীর্ঘ করতে পারেননি। মাত্র ছয়টি সংখ্যা প্রকাশের পরই বিদ্যাদর্শন বদ্ধ হয়ে যায়।
কোলকাতার ব্রাহ্মসমাজ ও তত্ত্ববোধিনী সভার মুখপাত্র ছিল তত্ত্ববোধিনী পত্রিকা। এই পত্রিকার সম্পাদক নিয়োগ করার জন্য একবার প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়। প্রবন্ধ রচনার মাধ্যমে এই প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়। অক্ষয় কুমার দত্ত এই প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ করে প্রথম স্থান অধিকার করেন। প্রতিযোগিতায় জিতে তিনি তত্ত্ববোধিনী পত্রিকার সম্পাদক নিযুক্ত হন। তার মাসিক বেতন ধার্য করা হয়েছিল ৩০ টাকা।
অক্ষয় কুমার দত্তের সম্পাদনায় মাসিক তত্ত্ববোধিনী প্রত্রিকার প্রথম সংখ্যা প্রকাশিত হয় ১৮৪৩ সালের ১৬ আগষ্ট। ১৮৪৩ সাল থেকে ১৮৫৫ সাল পর্যন্ত তিনি অত্যন্ত যোগ্যতার সঙ্গে এই পত্রিকা সম্পাদনা করেছিলেন। তার অসাধারণ পরিচালনা গুণে এবং লেখার গুণগম মানে পত্রিকাটি তৎকালীন সমগ্র বঙ্গদেশের শ্রেষ্ঠ সাময়িকপত্রে পরিণত হয়।
তত্ত্ববিদ্যা ছাড়াও এই পত্রিকায় সাহিত্য, বিজ্ঞান, দর্শন, পুরাতত্ত্ব, ইতিহাস ও ভুগোল প্রভৃতি বিষয়েও মূল্যবান সব প্রবন্ধ প্রকাশিত হতো। কোন কোন রচনা সচিত্র অলংকরণ সহযোগেও প্রকাশ করা হতো। এই তত্ত্ববোধনী পত্রিকাতেই অক্ষয়কুমার দত্তেরও অধিকাংশ উৎকৃষ্ট রচনাসমূহ প্রকাশিত হয়েছিল।
তিনি শুধু তত্ত্ববোধিনী পত্রিকার একজন বেতনভোগী সম্পাদকই ছিলেন না, মনে প্রাণে ছিলেন ব্রাহ্মধর্মে বিশ্বাসী ব্যক্তি। সর্বান্ত:করণে তিনি ব্রাহ্মসমাজের আদর্শকে গ্রহণ করেছিলেন।
১৮৪৩ সালের ২১ ডিসেম্বর তিনি দেবেন্দ্রনাথ ঠাকুর এবং অন্য উনিশজন বন্ধু পণ্ডিত রামচন্দ্র বিদ্যাবাগীশের কাছে ব্রাহ্মধর্মে দীক্ষাগ্রহণ করেন। এইভাবে প্রথম দীক্ষিত ব্রাহ্মসম্প্রদায়ের পত্তন হয়।
অক্ষয় কুমারের মনে সর্বক্ষণই বৈজ্ঞানিক যুক্তিবাদ প্রবল ছিল। তখন পর্যন্ত ব্রাহ্মসমাজের বেদের অভ্যান্ততায় বিশ্বাস করত। তাদের মধ্যে এ ধরনের অন্ধশাস্ত্র বিশ্বাসের বিরুদ্ধে যারা প্রথম প্রশ্ন তুলেছিলেন, অক্ষয় কুমার তাদের মধ্যে ছিলেন নেতৃস্থানীয়।
আসলে এদের সকলের সঙ্গে সমস্যাটি নিয়ে আলোচনা করেই দেবেন্দ্রনাথের মনেও এ বিষয়ে সন্দেহ জাগে এবং বহু চিন্তা ও অনুশীলনের পর অবশেষে ব্রাহ্মসমাজ অভ্রান্তশাস্ত্রে তাদের বিশ্বাস সর্বসম্মতভাবে পরিত্যাগ করে।
এরপর আÍপ্রত্যয়সিদ্ধ জ্ঞানের আলোতে উজ্জ্বল বিশুদ্ধ হৃদয়। এই বাণী ব্রাহ্মধর্মের ভিত্তিভূমি বলে স্থির হয়। ব্রাহ্মসামজের ধর্ম মরেত বিবর্তনে এই বড় ধরনের পট পরিবর্তনের সঙ্গে অক্ষয় কুমার দত্তের নাম নিবিড়ভাবে জড়িত। তিনি সব ধরনের সমাজ সংস্কারের উৎসাহী সমর্থক ছিলেন।
১৮৫৪ সালের ১৫ ডিসেম্বর কাশীপুরে কিশোরচাঁদ মিত্রের বাড়িতে মুলত কুসংস্কার উচ্ছেদ ও সমাজ কল্যাণ সাধনের উদ্দেশ্যে এক সভা অনুষ্ঠিত হয়। এই সভায় কিশোরী চাঁদ মিত্র, লেখক প্যারীচাঁদ মিত্র, হরিশচন্দ্র মুখোপাধ্যায়, চন্দ্র শেখর দেব, রাজন্দ্রেলাল মিত্র, রসিককৃষ্ণ মল্লিক, রাধানাথ শিকদার প্রমুখ ব্যক্তি উপস্থিত ছিলেন। এই সভাতেই সকলের উদ্যোগে সমাজোন্নতি বিধায়িতা সুহৃৎসমিতি নামে একটি সংস্থা গঠিত হয়। এই সংস্থার সভাপতি ও সম্পাদক নির্বাচিত হয়েছিলেন যথাক্রমে দেবেন্দ্রনাথ ঠাকুর ও অক্ষয়কুমার দত্ত।
শাস্ত্রীয় সংস্কার ছাড়াও স্ত্রীশিক্ষার প্রবর্তন ও প্রসার, হিন্দু বিধবাদের পুনরায় বিবাহদানের রীতির প্রচলন, বাল্যবিবাহ বর্জন ও বহু বিবাহ রোধই ছিল এই সংস্থা বা সভার কার্যতালিকার অন্তর্ভূক্ত।
ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরের বিধবাবিবাহ আন্দোলনেরও তিনি একজন জোরালো সমর্থক ছিলেন। এই প্রথার সমর্থনে তিনি তত্ত্বাবোধিনী পত্রিকা-য় অনেক লেখা প্রকাশ করেছেন। নিজেও লিখেছেন।
খ্রিষ্টান ধর্মযাজকরা যখন বল পূর্বক হিন্দুদেরকে খ্রিষ্টাধর্মে দীক্ষাদানের চেষ্টা করছিলেন, তখন এর বিরুদ্ধে দেবেন্দ্রেনাথ সমগ্র শিক্ষিত হিন্দুসমাজকে সংঘবদ্ধ করার জন্য উদ্যোগ গ্রহণ করেন। এই উদ্যোগে তাঁর প্রধান সহকারী ছিলেন অক্ষয় কুমার দত্ত। তত্ত্বাবোধিনী পত্রিকায় তিনি নীলকর সাহেবদের অত্যাচার ও জমিদারদের নিষ্ঠুর প্রজাপীড়নের বিরুদ্ধেও লেখনী চালনা করেন।
১৮৫৫ সালের ১৭ জুলাই কোলকাতায় নর্মাল স্কুল প্রতিষ্টিত হয়। প্রতিষ্ঠাতা ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরের অনুরোধে তিনি স্কুলের প্রধান শিক্ষকের দায়িত্বভার গ্রহণ করেন। এই সময় তার বেতন হয়েছিল ১৫০ টাকা। কিন্তু তার পক্ষে বেশিদিন এই কাজ করা সম্ভব হয়নি। শির:পীড়ার কারণে ১৮৫৮ সালের আগষ্ট মাসে তিন চাকরি ছেড়ে দিতে বাধ্য হন।
এই সময প্রধানত বিদ্যাসাগরের প্রচেষ্টায় তত্ত্বাবোধিনী সভা থেকে তাঁকে মাসিক ২৫ টাকা করে বৃত্তিপ্রদান করা হতে থাকে। কিন্তু অল্পকালের মধ্যে তাঁর পুস্তক বিক্রয় থেকে আয় বৃদ্ধি পেলে তিনি তত্ত্বাবোধিনী সভার বৃত্তি নিতে অসম্মতি প্রকাশ করেন। এটা ছিল তার চারিত্রিক সততার চমৎকার দৃষ্টান্ত।
রাজা রামমোহনের চিন্তাধারার মধ্যে এই দুটো ধারার সুন্দর সমন্বয় লক্ষ্য করা গিয়েছিল। বৈদান্তিক ব্রহ্মজ্ঞানের সঙ্গে তিনি পাশ্চাত্য জ্ঞান বিজ্ঞানকে সার্থকভাবে মেলাতে পেরেছিলেন।
পরবর্তীকালের ব্রাহ্মসমাজের নেতৃবৃন্দর চিন্তাধারায় ব্যক্তিগত প্রকৃতি অনুসারে কখনো বা প্রথমটি কখনো বা দ্বিতীয়টি ওপর ঝোক পড়লেও অক্ষয় কুমার দত্ত তার জীবনে, চিন্তায় ও রচনাকর্মে মুখ্যত রাজা রামমোহনের জীবনদর্শনের যুক্তিবাদী দিকটিকেই ফুটিয়ে তুলেছিলেন। এক্ষেত্রে তিন প্রধান হলেও একক ছিলেন না। তাঁদের একটি গোষ্ঠী ছিল।
ভক্তিবাদী দেবেন্দ্রনাথের সঙ্গে তাদের কখনো কখনো মতবিরোধও হতো। যদিও এই মতভেদ তাদের মধ্যে কখনো বিচ্ছেদ ঘটায়নি।
অভ্রান্তশাস্ত্রে বিশ্বাস বর্জন, সর্ববিধ সামাজিক কুপ্রথার উচ্ছেদ সাধন ও সমাজ কল্যাণমূলক ব্যবহারের প্রচলন ইত্যাদি বিষয়ের প্রতি অক্ষয় কুমারসহ প্রমুখ যুক্তিবাদী ব্রাহ্মদিগের অকুন্ঠ সমর্থন ছিল।
এখানে উল্লেখ্য, অক্ষয়কুমার দত্ত ব্রাহ্মসমাজে সংস্কৃত ভাষার পরিবর্তে বাংলাভাষায় ঈশ্বরের উপাসনা রীতি প্রচলনের অন্যতম সমর্থক ছিলেন। ব্রাহ্ম হলেও তিনি প্রার্থনার আবশ্যকতা স্বীকার করতেন না। শেষ জীবনে তিনি অনেকটা অজ্ঞাবাদী (অমহড়ংঃরপ) হয়ে উঠেছিলেন।
পাশ্চাত্যযুক্তবাদী দার্শনিক ও বৈজ্ঞানিক গ্রন্থের আদর্শে বাংলাভাষায় জ্ঞান বিজ্ঞান চর্চার সার্থক সুত্রপাত করে তিনি আধুনিক বাংলা গদ্যরীতির যে বিশেষ পরিপুস্টি সাধান করে গেছেন, তার জন্য বাংলা সাহিত্যে তিনি চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবেন। তাঁর গদ্যরচনা স্পষ্ট, তথ্যনিষ্ঠ, যুক্তিনির্ভর ও প্রসাদগুণযুক্ত।
প্রথমদিকে দেবেন্দ্রনাথ ও বিদ্যাসাগর তার রচনার কিছু কিছু অংশ সংশোধন করে দিতেন, কিন্তু অচিরকালের মধ্যে তিনি তার এই ত্র“টি কাটিয়ে উঠতে সক্ষম হন।
১৮৫১ সালে প্রকাশিত হয় তার বাহ্যবস্তুর সহিত মানবপ্রকৃতির সম্বন্ধ বিচার (প্রথম খন্ড), ১৮৫৩ সালে প্রকাশিত হয় এর দ্বিতীয় খণ্ড। ১৮৫৬ সালে প্রকাশিত হয় ধর্মনীতি। এই বইগুলোতে তিনি অত্যন্ত সুশৃংখলভাবে বিষয়বস্তুর যুক্তিনিষ্ঠ আলোচনা করেছেন। তার প্রথম গ্রন্থটি জর্জ কুম্ব রচিত কনষ্টিটিউশন অব ম্যান (ঈড়হংঃরঃঁঃরড়হ ড়ভ গধহ) নামক গ্রন্থ অবলম্বনে রচিত। তিনি গ্রন্থটির ভাবানুবাদ করেছেন মাত্র।
তার দ্বিতীয় গ্রন্ত ধর্মনীতি অনেকগুলো ইংরেজী গ্রন্থের তথ্য অবলম্বনে রচিত।
প্রথম গ্রন্থ বাহ্যবস্তুর সহিত মানবপ্রকৃতির সম্বন্ধে বিচার এ তিনি ইংরেজী শব্দ অবলম্বনপুর্বক বাংলায় যে পরিভাষাসমূহ সৃষ্টি করেছিলেন, বর্তমান সময়ের সরকারি ও বেসরকারি কাজে ব্যবহারযোগ্য পরিভাষা সৃষ্টির পরিপ্রেক্ষিতে তা কৌতুল উদ্দীপক ও মুল্যবান। তিনি অনেকগুলো শিশুপাঠ গ্রন্থও রচনা করেছিলেন। এগুলো মধ্যে যে গ্রন্থটি সেইকালে যুগান্তর আনতে সক্ষম হয়েছিল, সেটি হল তার চারুপাঠ। এর প্রথমভাগ ১৮৫৩ সালে, দ্বিতীয় ভাগ ১৮৫৪ সালে, তৃতীয় ভাগ ১৮৫৯ সালে প্রকাশিত হয়।
অক্ষয় কুমারের আরেকটি অসাধারণ পাণ্ডিত্য গবেষণাগ্রন্থের নাম ভারতবর্ষীয় উপাসক সম্প্রদায়। এটি তার এক শ্রেষ্ঠ কীতি। এর প্রথমভাগ প্রকাশিত হয় ১৮৭০ সালে ও দ্বিতীয় ভাগ প্রকাশিত হয় ১৮৮৩ সালে। বাংলাভাষায় এ জাতীয় গ্রন্থ রচনার এটাই প্রথম সার্থক প্রয়াস। এ গ্রন্থটিও একটি বিদেশী গ্রন্থের অনুকরণে রচিত। এশিয়াটিক রিসার্চেস (অংরধঃরপ জবংবধৎপযবং) পত্রিকার ষোড়শ ও সপ্তদশ খণ্ডে প্রকাশিত হোরেস হেম্যান উইলসনের স্কেচ অব দি রিলিজিয়াস সেক্টর অব দি হিন্দুস (ঝঃশবঃপয ড়ভ ঃযব জবষরমরড়ঁং ঝবপঃং ড়ভ ঃযব ঐরহফঁং) নামক দুটো পৃথক প্রবন্ধের অনুসরণে তিনি এটি রচনা করেন। তবু এতে অক্ষয় কুমারের মৌলিক গবেষণাও যথেষ্ট বর্তমান।
তার আরেকটি গ্রন্থ প্রাচীন হিন্দুদিগের সমুদ্রযাত্রা ও বাণিজ্য বিস্তার প্রকাশিত হয় তার মৃত্যুর পর ১৯০১ সালে। গ্রন্থটি অক্ষয় কুমারের মৃত্যুর পর তার পুত্র রজনীনাথ দত্তের সম্পাদানায় প্রকাশিত হয়। এটি একটি মৌলিক গবেষনাগ্রন্থ। তার অন্যান্য গ্রন্থের মধ্যে আছে শ্রীযুক্ত ডেভিড হেয়ার সাহেবের নাম স্বরণার্থ তৃতীয় সাম্বৎসরিক সভার বক্তৃতা। এটি প্রকাশিত হয় ১৮৪৫ সালে। বাস্পীয় রথারোহীদিগের প্রতি উপদেশ প্রকাশিত হয় ১৮৫৫ সালে। তার অন্য উল্লেখযোগ্য দুটি গ্রন্থ যথাক্রমে ধর্মোন্নতি সংশোধন বিষয়ক প্রস্তাব (১৮৫৫) সালে। তার অন্য উল্লেখযোগ্য দুটি গ্রন্থ যথাক্রমে ধর্মোন্নতি সংশোধন বিষয়ক প্রস্তাব (১৮৫৫) ও পদার্থবিদ্যা (১৮৫৬) ইত্যাদি।
বঙ্গ সাহিত্যের সুপরিচিতি কবি সত্যেন্দ্রনাথ দত্ত অক্ষয়কুমার দত্তের পৌত্র।