বিশ্বের বিনিয়োগকারীদের চোখ চট্টগ্রামের দিকে

35
Social Share

বাংলাদেশে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত আর্ল আর মিলার বলেছেন, সরকার চট্টগ্রাম ঘিরে যে বড় বড় প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে সেগুলো সম্পন্ন হলে চট্টগ্রাম অচিরেই রিজিওন্যাল ও গ্লোবাল কানেকটিভিটির কার্যকর যোগসূত্র হবে।

আজ বুধবার চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন মেয়রের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এই মন্তব্য করেন।

মিলার বলেন, চট্টগ্রামে যে সব বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল গড়ে উঠেছে তাতে বিশ্বের বড় বড় অর্থনৈতিক শক্তির অংশগ্রহণ নিশ্চিত হলে তার ইতিবাচক প্রভাব শুধু বাংলাদেশ বা অঞ্চলগত নয়, বৈশ্বিকভাবে প্রতিফলিত হবে।

মার্কিন রাষ্ট্রদূত বলেন, বর্তমানে চট্টগ্রামে বিনিয়োগের অপার সম্ভাবনা ও ক্ষেত্র তৈরি হয়েছে বলে বিশ্বের বিনিয়োগকারীদের চোখ চট্টগ্রামের দিকে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রও চট্টগ্রামে বিনিয়োগে আগ্রহী। বিশেষ করে শিক্ষা, স্বাস্থ্য, আইসিটি ও পর্যটনখাতে বিনিয়োগে ও সম্ভাব্যতা যাচাই পূর্বক পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

আলাপকালে সিটি মেয়র বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. রেজাউল করিম চৌধুরী মিয়ানমার থেকে বিতাড়িত রোহিঙ্গাদের তাদের নিজদেশে প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়া নিশ্চিত করতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের জরুরি উদ্যোগ গ্রহণের আহ্বান জানান।

মেয়র বলেন, বাংলাদেশ একটি ঘন জনবসতিপূর্ণ জনপদ। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা মানবিক কারণে রোহিঙ্গাদের এদেশে আশ্রয় দিয়েছেন এবং তাদের লালন-পালনের জন্য বড় অঙ্কের অর্থ ব্যয় করে যাচ্ছেন। রোহিঙ্গা সমস্যা আমাদের জন্য অত্যন্ত বিব্রতকর। এ পরিস্থিতি নিরসণের একমাত্র সমাধান হচ্ছে তাদের দ্রুত নিজ মাতৃভূমিতে প্রাপ্য মর্যাদা ও স্বীকৃতি অনুযায়ী প্রত্যাবাসন করা।

মেয়র মো. রেজাউল করিম চৌধুরী মার্কিন রাষ্ট্রদূত আর্ল আর মিলারকে স্বাগত জানিয়ে বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার একান্ত অকৃত্রিম আগ্রহে চট্টগ্রাম এখন বৈশ্বিক সম্পদে পরিণত হচ্ছে। দেশি-বিদেশি বিনিয়োগের অনুকূল পরিবেশ-পরিস্থিতি তৈরি করে দিতে পারাটাই আমাদের এখন বড় কাজ ও দায়বদ্ধতা। এজন্য বৈশ্বিক অর্থনৈতিক শক্তির সহায়তা ও অংশগ্রহণ প্রয়োজন। একই সঙ্গে আমরা অর্থনৈতিক অঞ্চলগুলোতে বিদেশি বিনিয়োগের পাশাপাশি সরকারি-বেসরকারি অংশীদারিত্বের (পিপিপি) ওপর জোর দিতে চাই।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন চসিক প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো. শহীদুল আলম, মেয়রের একান্ত সচিব মুহাম্মদ আবুল হাশেম, প্রধান প্রকৌশলী রফিকুল ইসলাম মানিক, যুক্তরাষ্ট্র দূতাবাসের কাউন্সিলর ফর পলিটিকেল অ্যান্ড ইকোনোমিক অ্যাফেয়ার্স স্কট এ ব্র্যান্ডন, ইকোনোমিক অ্যান্ড কর্মাশিয়াল স্পেশালিস্ট শাহীনুর সিকদার, চসিকের ভারপ্রাপ্ত প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. মোহাম্মদ আলী, অতিরিক্ত প্রধান হিসাবরক্ষণ কর্মকর্তা হুমায়ুন কবির চৌধুরী প্রমুখ।