বিশ্বজয়ী বীরেরা ফিরছে আজ

Social Share

বিমান থেকে নামার সময় ট্রফিটা কি বুকে জড়িয়ে রাখবে আকবর আলী! বা অন্য কেউ। ২২ বছর তপস্যা করার পর পাওয়া গেছে বিশ্বের কাপ। তাকে তো পাঁজরের সঙ্গে জড়িয়ে রাখতেই হবে। ওরা ১৫ জন আগেই ভালোবাসার চুম্বন এঁকে দিয়েছে ট্রফির সুডোল গালে। প্রেয়সীর মতো গত দুটো দিন ট্রফিটিকে কাছে কাছে রেখেছে তারা। সুদূর দক্ষিণ আফ্রিকা থেকে ঢাকায় পৌঁছানো পর্যন্ত বিমানভ্রমণে ক্লান্তি ম্লান হয়ে গেছে ট্রফির ওপর চোখ পড়তেই। বাঙালি-অবাঙালি বিমান সহযাত্রীদের কাছ থেকে পাওয়া ভালোবাসাও বিশাল প্রাপ্তি। বিমান ক্রুদের কাছ থেকে মিলেছে সম্মান মেশানো শুভেচ্ছা। এসবের মূলে কিন্তু একটি ট্রফি, বিশ্বের কাপ। আরাধ্য বিশ্বকাপ ট্রফি নিয়ে আজ বীরের বেশে দেশে ফিরবে চ্যাম্পিয়ন বাংলাদেশ অনূর্ধ্ব-১৯ দলের ক্রিকেটাররা।
গতকাল বিসিবি জানায়, বিকেল ৪টা ৫৫ মিনিটে এমিরেটস এয়ারলাইন্সের একটি বিমান বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের নিয়ে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করবে। এই প্রথম বিশ্বচ্যাম্পিয়ন দলকে বহন করে কোনো বিমান বাংলাদেশে নামবে। আগে ২০০৪ ও ২০১৬ সালের অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপের আয়োজক বিসিবি কর্মকর্তারা দেখেছেন পাকিস্তান ও ওয়েস্ট ইন্ডিজ দলকে ট্রফি নিয়ে দেশ ছাড়তে। তাদের বিদায় জানানোর আনুষ্ঠানিকতা করতে বিমানবন্দরে যেতে হয়েছে বোর্ডের কর্মকর্তাদের। নাজমুল হাসান পাপনরা এবার বিমানবন্দরে থাকবেন ক্রিকেটবীরদের বরণ করে নিতে। ফুলের তোড়া ও মালার অর্ডার দেওয়া হয়েছে শুভেচ্ছা জানাতে। বিসিবির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) নিজামউদ্দিন চৌধুরী জানান, বিমানবন্দরে চ্যাম্পিয়ন দলের খেলোয়াড়দের বরণ করা হবে। নাজমুল হাসান পাপনের নেতৃত্বে বিসিবি পরিচালকরা তো থাকবেনই, বোর্ড কর্মচারী এবং কর্মকর্তাদেরও বিমানবন্দরে থাকতে বলা হয়েছে। যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী জাহিদ আহসান রাসেল বিজয়ী ক্রিকেটারদের অভিনন্দন জানাবেন বিমানবন্দরে। এ ছাড়াও দেশের গণ্যমান্য ব্যক্তিরা থাকবেন বীরবরণ অনুষ্ঠানে। তবে আজ কোনো র‌্যালি বা ‘শোডাউন’ করা হবে না বলে জানান নিজামউদ্দিন চৌধুরী। কারণ হিসেবে তিনি বলেন, ‘ছেলেগুলো দেশের বাইরে ছিল লম্বা সময়। সবকিছু বিবেচনা করে আমরা যতটুকু সম্ভব স্বল্প সময়ের মধ্যে কিছু অনুষ্ঠান রেখেছি। বিমানবন্দরে তাদের অভ্যর্থনা জানিয়ে মিরপুর শেরেবাংলা স্টেডিয়ামে আনা হবে। এখানে কিছু আয়োজন রাখা হয়েছে, কেক কাটবে এবং মিষ্টি মুখ করবে। একটা সংবাদ সম্মেলন রাখা হয়েছে। এর পরই ছেলেদের পরিবারের কাছে পাঠানো হবে।’
দেড় বছর ধরে অনূর্ধ্ব-১৯ দলের ক্রিকেটাররা পরিবার থেকে দূরে দূরে। সিরিজ খেলতে কখনও বিদেশে কখনও ক্যাম্প করেছে ঢাকার মিরপুর শেরেবাংলা স্টেডিয়াম বা সাভারের বিকেএসপিতে। এরপর বিশ্বকাপের উদ্দেশে ৩ জানুয়ারি দেশ ছাড়ে আকবর আলীরা। এক মাস আট দিনের মতো দক্ষিণ আফ্রিকা থেকে বিশ্বকাপ জিতে দেশে ফিরছে তারা। টানা খেলার ক্লান্তিও আছে। এ জন্য দেশে ফেরার পরই ক্রিকেটারদের ছুটি দিতে চায় বোর্ড। সিইও বলেন, ‘খেলোয়াড়রা লম্বা সময় পরিবার থেকে দূরে। তারা চ্যাম্পিয়ন হয়ে এসেছে। বাড়িতে সবার পরিবার এবং এলাকার মানুষ অপেক্ষা করছে। যাদের পরিবার ঢাকায়, তারা রাতেই চলে যাবে। আর ঢাকার বাইরের ছেলেরা যাবে পরের দিন। কেউ কেউ রাতেও যেতে পারে।’
তবে ছুটি শেষ হলে বিশ্বকাপজয়ী ক্রিকেটারদের জমকালো অনুষ্ঠান করে সংবর্ধনা দেওয়া হবে। সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সংবর্ধনা পাবেন অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপজয়ী দলের খেলোয়াড়রা। যুবাদের এই সাফল্য মুজিববর্ষের উপহার হিসেবে দেখা হচ্ছে। দেশের ক্রীড়াঙ্গনে প্রথম বৈশ্বিক টুর্নামেন্টজয়ী দলের খেলোয়াড়দের জন্য উপহারসামগ্রী ছাড়াও আর্থিক পুরস্কার দেবে বিসিবি। সরকার থেকেও দেওয়া হতে পারে আর্থিক পুরস্কার। এরই মধ্যে জাতীয় সংসদে প্রস্তাব উঠেছে, যুব বিশ্বকাপজয়ী ক্রিকেটারদের প্লট এবং শিক্ষা বৃত্তি দেওয়ার। ১৯৯৭ সালে আইসিসি ট্রফিজয়ী ক্রিকেটারদেরও রাষ্ট্রীয় সংবর্ধনা দেওয়া হয়েছিল। জাতীয় সংসদের দক্ষিণে মানিক মিয়া এভিনিউয়ে গণসংবর্ধনা পেয়েছিলেন আকরাম খানরা। ২০১৫ সালের বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনাল খেলা বাংলাদেশ দলের খেলোয়াড়দেরও সংসদের দক্ষিণ পাশে মঞ্চ তৈরি করে সংবর্ধনা দিয়েছিল বিসিবি।