বিধিনিষেধের মধ্যেও ঈদযাত্রায় সড়কে প্রাণ গেল ২৮৩ জনের

46
Social Share

করোনার মহামারির সংক্রমণ প্রতিরোধে সরকার ঘোষিত বিধিনিষেধের মধ্যেও এবারের ঈদ যাত্রায় সড়ককে ২২৪টি দুর্ঘটনা ঘটেছে। এসব দূর্ঘটনায় ২৮৩ জন নিহত ও ৩১৯ জন আহত হয়েছেন। শনিবার (২২ মে) যাত্রী অধিকার সংরক্ষণ পরিষদ এ তথ্য জানিয়েছে। সংগঠনটির দুর্ঘটনা গবেষণা ও মনিটরিং সেল ও প্যাসেঞ্জার ভয়েস ডটনেট যৌথভাবে সড়ক দুর্ঘটনার প্রতিবেদন তৈরি করেছে।

সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক সামসুদ্দীন চৌধুরী জানান, পর্যবেক্ষণে দেখা গেছে, ১৯টি বাস-মিনিবাস, ৬৭টি ট্রাক-কাভার্ডভ্যান ও পিকআপ, ৩৪টি কার-মাইক্রো, ৪৫টি নছিমন-করিমন, ভটভটি-ইজিবাইক, অটোরিকশা, ৯৩টি মোটরসাইকেল, ১৭টি অন্যান্য যানবাহন এসব দুর্ঘটনার কবলে পড়ে।

দুর্ঘটনার ধরন বিশ্লেষণে দেখা যায়, ৬৩টি গাড়িচাপায়, ৮০টি সংঘর্ষ, ১৬টি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে খাদে পড়ে, অন্যান্য কারণে ৬৫টি দুর্ঘটনা সংঘটিত হয়। গত ৮ থেকে ২০ মে পর্যন্ত ১৩ দিনে ২২৪টি সড়ক দুর্ঘটনায় ২৮৩ জন নিহত ও ৩১৯ জন আহত হয়েছেন। প্রথম রমজান থেকে বিধিনিষেধ ছিল সারাদেশে। সারাদেশে গণপরিবহন বন্ধ থাকলেও পণ্য পরিবহনের যান ও ব্যক্তিগত গাড়িতে ঈদযাত্রা অব্যাহত ছিল। তবুও ঈদের আগে ও পরে সড়ক দুর্ঘটনা ছিল আগের তুলনায় বেশি।

যাত্রী অধিকার সংরক্ষণ পরিষদের তথ্য মতে, ২০১৯ সালের ঈদুল ফিতরের ঈদযাত্রায় ১৮৫ সড়ক দুর্ঘটনায় ২২১ জন নিহত ও ৬৫২ জন আহত হয়েছিল। এছাড়া ২০২০ সালের ঈদুল ফিতরে ১৪৩ সড়ক দুর্ঘটনায় ১৬২ জন নিহত এবং ২৭১ জন আহত হন। গত বছরের চেয়ে এবারের ঈদযাত্রায় নিহতের সংখ্যা বেড়েছে ৭৪ শতাংশ।

যাত্রী অধিকার সংরক্ষণ পরিষদ পর্যবেক্ষণে ১০টি কারণে এই দুর্ঘটনা সংঘঠিত ও হতাহতের ঘটনা ঘটেছে বলে উল্লেখ করা হয়েছে। এর মধ্যে লকডাউনে গণপরিবহন বন্ধ থাকায় ছোট ও পণ্য পরিবহনের যানবাহনে যাত্রী পরিবহন, রাস্তায় চালকদের বেপরোয়া আচরণ ও গতি, ফিটনেসবিহীন যানবাহনে যাত্রী বহন, মহাসড়কে অটোরিকশা, ব্যাটারিচালিত রিকশা, নছিমন-করিমন অবাধে চলাচল, বিপজ্জনক ওভারটেকিং অন্যতম।