বিধানসভা উপনির্বাচনে প্রচারণা দলে নেই বাবুল-নুসরাত

47
Social Share

পশ্চিমবঙ্গে আসন্ন চার বিধানসভার উপনির্বাচনে তারকা প্রচারকদের (স্টার ক্যাম্পেইনার) তালিকা তৈরি করল রাজ্যটির ক্ষমতাসীন দল তৃণমূল কংগ্রেস। তালিকায় নাম রয়েছে ২০ জনের।

আগামী ৩০ অক্টোবর রাজ্যটির কোচবিহার জেলার দিনহাটা, নদিয়া জেলার শান্তিপুর, উত্তর চব্বিশ পরগনা জেলার খড়দহ ও দক্ষিণ চব্বিশ পরগনা জেলার গোসাবা বিধানসভা কেন্দ্রে উপনির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। ইতিমধ্যেই তার মনোনয়নপর্ব জমা দেওয়া শুরু হয়েছে। সেই ভোটের জন্যই দলের তারকা প্রচারকদের নাম নির্বাচনে কমিশনে জমা দিয়েছে তৃণমূল কংগ্রেস।

ওই তালিকায় শীর্ষে রয়েছে দলনেত্রী ও মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জির নাম। এছাড়াও রয়েছে দলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক ও সাংসদ মমতার ভাতিজা অভিষেক ব্যানার্জি, দলের রাজ্য সভাপতি ও রাজ্যসভার সাংসদ সুব্রত বক্সি, মন্ত্রী পার্থ চ্যাটার্জি, সুব্রত মুখার্জি, ফিরহাদ হাকিম, চন্দ্রি ভট্টাচার্য, অরূপ বিশ্বাস, সাংসদ সৌগত রায়’এর মতো রাজনৈতিক ব্যক্তিরা।

এছাড়াও তালিাকায় নাম রয়েছে সাংসদ শতাব্দী রায়, দীপক অধিকারী (দেব), মিমি চক্রবর্তী, বিধায়ক রাজ চক্রবর্তী, জুন মালিয়া, সোহম চক্রবর্তী, অদিতি মুন্সির মতো সেলিব্রিটিদেরও। এমনকি দলের যুব নেত্রী সায়নী ঘোষ, সায়ন্তিকা বন্দোপাধ্যায়, কুণাল ঘোষদেরও জায়গা হয়েছে। তবে ওই তালিকায় জায়গা হয়নি সাংসদ অভিনেত্রী নুসরাত জাহান এবং সস্প্রতি বিজেপি থেকে তৃণমূলে যোগ দেওয়া সাবেক কেন্দ্রীয় মন্ত্রী বাবুল সুপ্রিয়’এর নামও।

গত মার্চ-এপ্রিল মাসে রাজ্যে বিধানসভার নির্বাচনে তৃণমূলের স্টার ক্যাম্পেইনারদের মধ্যে অন্যতম ছিলেন নুসরাত, সেসময় সক্রিয় ভাবে নির্বাচনী প্রচারণায় অংশও নিয়েছিল। যদিও সেসময় তার কিছু আচরণে বিতর্ক তৈরি হয়েছেল। এরপর অতি সম্প্রতি স্বামী নিখিল জৈনের সাথে তার ব্যক্তিগত সম্পর্কের টানাপোড়েন ও বিজেপি নেতা অভিনেতা যশ দাশগুপ্তের সাথে সম্পর্কে জড়িয়ে যাওয়ার অভিযোগ ওঠায় বেশ কিছুটা ব্যাকফুটে নুসরত।
তেমনি বিধানসভার নির্বাচনে বিজেপির প্রচারকদের তালিকায় শীর্ষে ছিলেন গায়ক বাবুল সুপ্রিয়। কিন্তু এরপর কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভা থেকে তার বাদ পড়া এবং ভবানীপুরের উপনির্বাচনের ঠিক আগেই বিজেপি ছেড়ে তৃণমূলে যোগ দেন বাবুল সুপ্রিয়। শোনা যায় সেসময়ই ভবানীপুরের বিজেপি প্রার্থী প্রিয়াঙ্কা টিবরেওয়ালের বিরুদ্ধে তাকে প্রচারণার তালিকায় না রাখতে মমতাকে অরুরোধ জানান বাবুল। আর সেই ধারাবাহিকতায় বাবুলের নাম এবারও বাদ রাখা হয়েছে বলে খবর।

অন্যদিকে, চার কেন্দ্রের উপনির্বাচনে ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি)ও তাদের প্রার্থীদের সমর্থনে স্টার ক্যাম্পেইনারদের তালিকা প্রকাশ করেছে। সেই তালিকায় রয়েছে সাত কেন্দ্রীয় মন্ত্রী, অন্য রাজ্যের মন্ত্রীরা। নির্বাচন কমিশনে ২০ জনের তারকা প্রচারকের তালিকা জমা দিয়েছে তারা। সেই তালিকায় দলের রাজ্য সভাপতি সুকান্ত মজুমদার, সর্বভারতীয় সহ-সভাপতি দিলীপ ঘোষ, রাজ্যের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীদের পাশাপাশি কেন্দ্রীয় মন্ত্রী স্মৃতি ইরানি, গিরিরাজ সিং, প্রতিমা ভৌমিক, সুভাষ সরকার, জন বার্লা, শান্তনু ঠাকুর, নিশীথ প্রামাণিক, অসমের মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্বশর্মার মতো নেতারাও রয়েছেন। এছাড়াও বিশজনের প্রচাকরদের তালিকায় রয়েছেন সাংসদ রূপা গাঙ্গুলী, লকেট চট্টোপাধ্যায়, বিধায়ক অগ্নিমিত্রা পাল, সাংসদ দেবশ্রী চৌধুরী, অর্জুন সিং প্রমুখ।

সম্প্রতি ভবানীপুর কেন্দ্রে উপনির্বাচনে ও মুর্শিদাবাদ জেলার সামসেরগঞ্জ ও জঙ্গিপুর কেন্দ্রে বিধানসভার নির্বাচনে পরাজয়ের মুখ দেখতে হয়েছে বিজেপিকে। কিন্তু তাই বলে আসন্ন চার কেন্দ্রে উপনির্বাচনে বিনা যুদ্ধে এক ইঞ্চি জমি ছেড়ে দিতে রাজি নয় গেরুয়া শিবির। তৃণমূলকে টক্কর দিতে তারাও প্রচারণায় কোন খামতি রাখতে চাইছে না।

গত বিধানসভার নির্বাচনে শান্তিপুর কেন্দ্রে বিজেপি প্রার্থী সাংসদ জগন্নাথ সরকার ও দিনহাটা কেন্দ্রে সাংসদ নিশীথ প্রামাণিক উভয়েই জয়ী হন। কিন্তু পরে তারা বিধায়ক পদে ইস্তফা দিয়ে সাংসদ পদে বহাল থাকেন। ফলে ওই দুই কেন্দ্রে উপনির্বাচন জরুরী হয়ে পড়ে। সেক্ষেত্রে এই দুইটি কেন্দ্রই নিজেদের দখলে রাখাটা বিজেপির কাছে চ্যালেঞ্জ। অন্যদিকে শান্তিপুর ও খড়দহ কেন্দ্রে জয়ী তৃণমূল প্রার্থীদের মৃত্যুর কারণে সেখানেও উপনির্বাচন হবে। ভোট গণনা আগামী ২ নভেম্বর।