বিদেশে উচ্চশিক্ষা : কেন করবেন? যোগ্যতা কি লাগে? স্কলারশিপ লাভের উপায়

67
উচ্চশিক্ষা
Social Share

বিদেশে উচ্চশিক্ষা করতে যাওয়া অনেকের কাছে সোনার হরিণ। আবার কারো কাছে পান্তা ভাত। সবাই বিদেশের স্টুডেন্ট ভিসা পান না।আবার অনেকেই আছে যারা একটু চেষ্টা করলেই বিদেশী বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি ও ভিসা পাবে। এটি হয় শিক্ষার্থীর যোগ্যতার বলে।

এমনকি স্কলারশিপও পেয়ে যাবে। নিশ্চই আপনার মনে প্রশ্ন জাগছে, কারা সেই সৌভাগ্যের অধিকারী। আবার হত ভাগাটাই বা কে?
কেন বিদেশে উচ্চশিক্ষার জন্য যাবেন। কিভাবে যাবেন এবং কোন দেশে পড়তে গেলে আপনার জন্য ভালো হবে।
মনোযোগ দিয়ে নিচের লেখাটি পড়ুন।

কেন বিদেশে উচ্চশিক্ষা গ্রহণ করবেন?
যদি খরচের কথা চিন্তা করেন তাহলে দেশের সরকারী বিশ্ববিদ্যালয়ের চেয়ে ভালো অপশন নেই। তার পর কেন বিদেশে পড়তে চায়?
কারণ পড়াশোনার মান, কর্ম সংস্থান ও নিরাপদ জীবন যাপনের উপর যারা গুরুত্ব দেন, তারাই বিদেশী বিশ্ববিদ্যলয়ে ভর্তি হতে চায়।

বিদেশী বিশ্ববিদ্যালয় গুলো সাধারণত ছাত্র রাজনীতি মুক্ত থাকা ও খাওয়ার মান অনেক ভলো। পড়াশোনার মান তো আছেই।

বিশ্বের সেরা বিশ্ববিদ্যালয় গুলোর বেশির ভাগই আমেরিকা, ইংল্যান্ড, কানাডা, জার্মানী, ফ্রান্স, অস্ট্রেলিয়া, নিউজিল্যান্ড, নেদারল্যান্ড অবস্থিত।
এছাড়াও ফিনল্যান্ড, অস্ট্রিয়া, আয়ারল্যান্ড, সুইজারল্যান্ড, স্কটল্যান্ড, বেলজিয়াম, মালয়েশিয়া, চায়না, ইন্ডিয়াসহ উন্নত দেশ গুলোতে অবস্থিত।
তাই যদি আপনার আর্থিক স্বচ্ছলতা থাকে তাহলে জীবনের সবচেয়ে বেটার বিনিয়োগটা বিদেশে পড়া লেখার জন্যই করুন।
আর যদি স্কলারশিপ পেয়ে যান, তাহলে তো সোনায় সোহাগা।

কিভাবে বিদেশে স্টুডেন্ট ভিসা পাবেন?
ধরেন আপনি কানাডার একটি বিশ্ববিখ্যাত বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়তে যেতে চান। তাহলে আপনার প্রথম কাজ হল সে বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়তে যাওয়ার জন্য নিজেকে প্রস্তুত করা। প্রস্ততি বলতে আমি বলছি না যে শুধু ভাল ফল অর্জন করলেই চলবে। বরং যে দেশে উচ্চশিক্ষার জন্য যেতে চান সে দেশের আর্থ সামাজিক অবস্থা সম্পর্কে ভালো ধরণা নিতে হবে। সংশ্লিষ্ঠ দেশের বা বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবেশের সাথে নিজেকে মানিয়ে নেওয়ার যোগ্যতাটাও তৈরি করতে হবে। সংশ্লিষ্ট বিশ্ববিদ্যালয় আপনাকে ভর্তির প্রাথমিক অনুমতি জানিয়ে যে চিঠি দিবে তাই অফার লেটার। বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃক প্রদত্ত অফার লেটার প্রত্যেক শিক্ষার্থীকে বার বার পড়তে হবে। ভালভাবে জেনে নিন টিউশন ফির পরিমাণসহ অন্যান্য বিষয়।

স্কলারশিপ পাওয়ার জন্য করণীয় কি?
স্কলারশিপের জন্য দরকার হল, ভালো রেজাল্ট, ভাষা দক্ষতা, সময়মত পরিকল্পনা গহন ও নিরলস প্রচেষ্টা। এ কয়টি জিনিসই বিদেশে উচ্চশিক্ষা বৃত্তি পাওয়ার পূর্বশর্ত। এ বিষয়গুলো যথা যথভাবে পালন করলেই স্কলারশিপ খুব সহজেই হাতে নাগালে চলে আসবে। অন্যথায় পণ্ডশ্রমই করে যেতে হবে। তখন স্কলারশিপ নামক সোনার হরিণ আর ধরা দেবে না। মনে রাখতে হবে যে শিক্ষার্থী দেশে স্কলারশিপ
পাওয়ার জন্য যোগ্য সে বিদেশেও বৃত্তি পাওয়ার যোগ্য। রেজাল্ট খারাপ, ইংরেজিতে ভালো দক্ষতা নেই এমন শিক্ষার্থীর জন্য কিন্তু ফুল স্কলারশিপ পাওয়ার সম্ভনা কম।

বিদেশে পড়াশোনার খরচ কেমন?
বিদেশে উচ্চশিক্ষা গ্রহণের জন্য যে পরিমাণ অর্থের প্রয়োজন হবে, শুরুতেই নিশ্চিত হোন আপনার পরিবার সে খরচের যোগান দিতে পারবে কি না। এছাড়া যদি অন্য কেউ আপনার ব্যয়ভার বহন করে তাহলে তার সঙ্গে আপনার রক্তের সম্পর্ক কি না তা নিশ্চিত হোন । কারণ, ভিসা অফিসের অফিসার চান শিক্ষার ব্যয়ভার বহনকারীর সঙ্গে যেন শিক্ষার্থীর রক্তের সম্পর্ক থাকে। এবং আর্থিক সচ্ছলতার প্রমাণস্বরূপ প্রতিটি দূতাবাসেই ব্যাংক সলভেন্সি সার্টিফিকেট জমা দিতে হয়। যা সংশ্লিষ্ঠ ব্যাংক থেকে গ্রহণ করতে হয়। দূতাবাসের নির্দেশনা অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ক্ষেত্রে মেডিকেল সার্টিফিকেট প্রদানও করতে হয়।

ভিনিউজ/তাসনিম।