বিটিআরসি-গ্রামীণফোন দ্বন্দ্বে পুঁজিবাজারে শঙ্কা

বকেয়া কর আদায় নিয়ে বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন (বিটিআরসি) ও পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত বহুজাতিক কম্পানি গ্রামীণফোন লিমিটেডের দ্বন্দ্ব ক্রমেই জোরদার হচ্ছে। গ্রামীণফোন এ বিষয়ে আদালতে সমাধানের প্রস্তাব দিলেও সরকার প্রতিষ্ঠানটিতে প্রশাসক নিয়োগের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। আলোচনার মাধ্যমে সমস্যার সমাধান না করলে পুঁজিবাজারে এই কম্পানিটিতে প্রশাসক নিয়োগে নেতিবাচক অবস্থার সৃষ্টি হবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

তাঁরা বলছেন, গ্রামীণফোন পুঁজিবাজারে বড় মূলধনী কম্পানি। মোট মূলধনের ২৫ শতাংশই এই কম্পানিটির। এই কম্পানিতে প্রশাসক নিয়োগ দেওয়া হলে পুঁজিবাজারে লাখ লাখ বিনিয়োগকারী ভোগান্তিতে পড়বেন। পাশাপাশি বিদেশি বিনিয়োগকারীদের কাছেও একটা নেতিবাচক বার্তা পৌঁছাবে। চলতি বছরের এপ্রিলে ১২ হাজার ৫৮০ কোটি টাকা বকেয়া দাবি করে নোটিশ পাঠায় বিটিআরসি। অডিট আপত্তির এই টাকা পরিশোধ না করায় বিটিআরসি ব্যান্ডউইথ সীমিত করে দেয়। এনওসি (নো অবজেকশন সার্টিফিকেট) দেওয়া বন্ধ করে। গত ৫ সেপ্টেম্বর কেন অপারেটরটির লাইসেন্স বাতিল হবে না তা জানতে চেয়ে কারণ দর্শাও নোটিশ পাঠানো হয়।

বিটিআরসি ও গ্রামীণফোনের টানাপড়েনে পুঁজিবাজারে নেতিবাচক প্রভাব পড়ে। শেয়ার বিক্রির চাপ বেড়ে যাওয়ায় ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) মূল্যসূচকে বড় পতন ঘটে। কারণ গ্রামীণফোন বড় মূলধনী কম্পানি হওয়ায় পুঁজিবাজার প্রভাবিত হয়। পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থার মতে, গ্রামীণফোনের শেয়ারের দাম এক টাকা কমলে ডিএসইর সূচক কমে ০.৬ পয়েন্ট।

ডিএসইর তথ্যানুযায়ী, বকেয়া আদায় নিয়ে বিটিআরসির চিঠির পর থেকে গ্রামীণফোনের শেয়ারের দাম ক্রমহ্রাসমান হারে কমে যায়। গত ৪ সেপ্টেম্বর গ্রামীণফোনের শেয়ারের দাম কমতে কমতে দাঁড়ায় ২৮৯ টাকা। তবে এই সময়ের পর শেয়ারের দাম বাড়লেও ২৩ সেপ্টেম্বরের পর থেকে কম্পানিটির শেয়ারের দাম নিম্নমুখী হয়। বর্তমানে কম্পানিটির শেয়ারের দাম ৩১৭.৮ টাকা।

জানা যায়, বিটিআরসি ও গ্রামীণফোন দ্বন্দ্ব জোরদার হলে সমস্যার সমাধানে এগিয়ে আসেন অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল। গত ১৮ সেপ্টেম্বর সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে বৈঠকের পর আলোচনার মাধ্যমে সমস্যার সমাধানের উদ্যোগের কথা জানানো হয়। তবে সে বিষয়ে তেমন কোনো অগ্রগতি না হলেও গত ১৭ অক্টোবর গ্রামীণফোনে প্রশাসক নিয়োগ দেওয়ার সিদ্ধান্তে সায় দেয় ডাক ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রণালয়।

ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের এক পরিচালক নাম না প্রকাশ করে বলেন, ‘গ্রামীণফোন ইস্যু পুঁজিবাজারকে ব্যাপকভাবে প্রভাবিত করবে। অর্থমন্ত্রী আলোচনার মাধ্যমে সমাধানের উদ্যোগের কথা জানানো হলেও এখন প্রশাসক নিয়োগের বিষয়ে সরকার সায় দিয়েছে। এই দ্বান্দ্বিক পরিস্থিতি কম্পানিটির শেয়ার তথা পুঁজিবাজারে নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে। লাখ লাখ বিনিয়োগকারীও প্রভাবিত হবে।’

গ্রামীণফোন ইস্যু খুবই বড় ঘটনা
অধাপক আবু আহমেদ, পুঁজিবাজার বিশ্লেষক

পুঁজিবাজারের জন্য গ্রামীণফোন ইস্যুটা খুব বড় ঘটনা। আলোচনার মাধ্যমে সমাধান না করে গ্রামীণফোনে প্রশাসক বসালে নেতিবাচক বার্তা পাবে বিদেশি বিনিয়োগকারীরা। আবার পুঁজিবাজারে কম্পানিটির শেয়ার বিক্রি বেড়ে গেলে অস্থিরতা বাড়বে। তবে তালিকাভুক্ত এই কম্পানিটির কোনো বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষেত্রে লাখ লাখ বিনিয়োগকারীর স্বার্থও চিন্তা করা উচিত। এ বিষয়ে কোনো চিন্তা না করে হুটহাট সিদ্ধান্ত নেওয়া হচ্ছে, যা খুব একটা ভালো হবে না।