বিজয় নিশান

895
Social Share

জাকিয়া রুমা:

তোমরা যে বিজয়ের খুশিতে উল্লাস করো পুরো মাস
আমরা সে কাঙ্ক্ষিত বিজয় পেতে যুদ্ধ করেছি দীর্ঘ ন’মাস।
হানাদারদের নির্মম অত্যাচার
ঘরে ঘরে মানুষের ভয়ার্ত চিৎকার
অসহায় পিতার বুক ফাটা আর্তনাদ
দুধের শিশুর অসহ্য ক্ষুধার যন্ত্রণা
সন্তান হারা মায়েদের হামাগুড়ি দিয়ে কান্না
রক্তে রঞ্জিত তখন বাংলাদেশের মাটি
রাজাকারদের ছিল সুখের সময়
নানান দূর সন্ধি রচিয়ে মিছে ছোটাছুটি ।
হায়! হায় ! মানুষ এতো নৃশংস, নর পিশাচ হয় ?
ডোবা,পুকুর,খাল-বিল, নদী-নালায় ক্ষত-বিক্ষত লাশেদের স্তুপ
দূর থেকে ভেসে আসা পচা লাশের উৎকট গন্ধ
দুর্ভিক্ষের করালগ্রাস আর নিদারুণ উপোস
কোলের শিশুকে আছড়ে মেরে মায়ের পরে শকুনের উল্লাস
পুঞ্জীভূত আক্রোশ রণাঙ্গনে ভয়ার্ত কালো রাত
ধর্ষিতা কিশোরীর দেহে অগ্নুৎপাতের মরণ জ্বালা-পোড়া
লজ্জায় বেঁচে থেকেও এ যেন জ্যান্ত মরা !
নাম না জানা কত লক্ষ শহীদ অকালে হারিয়েছে নিজ প্রাণ
ঘর-বাড়ি, দোকান, অফিস,কল-কারখানা  পুড়েছে,বাবা-মায়ের অকাল মৃত্যু,বোন হারিয়েছে সম্মান
নব বধূর সিঁথির সিঁদুর কদিনেই  মুছে গিয়েছে
নরপিশাচ গুলো কিশোরী মেয়ে, বধূ পাকিস্তানিদের হাতে তুলে দিয়েছে
নগ্ন দেহ হানাদার ক্যাম্পের ঘুটঘুটে অন্ধকারে
কখনও রাজাকার,কখনও হানাদারদের পৈশাচিক ভোগের স্বীকারে ।
রাস্তার পাশে পড়ে আছে  বিভৎস শরীর, কাক,শকুনে খাওয়া
যুদ্ধ শেষে ফিরে এসে, ক্লান্ত শরীরে আত্মীয় পরিজন ফিরে না পাওয়া
শরীরের বিভিন্ন অঙ্গ হারিয়ে গাজীর সম্মান পেল মুক্তিযোদ্ধারা
রণাঙ্গনে জীবন দিয়ে বীর শহীদ হলো এদেশের সন্তানেরা
বঙ্গবন্ধু দিল তাদের “বীরাঙ্গনা মায়ের” সম্মান
যে সকল নারী হারিয়েছে তার গচ্ছিত সম্ভ্রম
শহীদ,গাজীর রক্ত আর বীরাঙ্গনাদের সতীত্বের দাম
দুয়ে মিলে এ দেশের মানুষ  ছিনিয়ে আনল মুক্তির বিজয় অগ্নি নিশান ।
আকাশে উড়াল লাল সবুজের পতাকা
কন্ঠে ধ্বনিত হলো “আমার সোনার বাংলা আমি তোমায় ভালবাসি”এতদিন যা ছিল স্বপ্নে আঁকা
সকল মুক্তিযোদ্ধা পেল নানা উপাধি , পেল দেশ গড়ার উদাত্ত  আহ্বান
শত্রু মুক্ত হলো দেশ,বিশ্বের কাছে সমৃদ্ধ হলো এ দেশের মান ।
শেষ কথাটি সুধাই তোমাদের,,,
গর্বের সাথে কখনও বলতে পারবে,তোমরা বিরাঙ্গনা মায়ের সন্তান?