বিজয়ের মাসে ঘুরে আসুন বঙ্গবন্ধুর গোপালগঞ্জ

10
Social Share

লিয়াকত হোসেন খান: গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়া চিরনিন্দ্রায় শায়িত রয়েছেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। আমার নবম শ্রেণীতে পড়াকালীন (১৯৬৮) প্রিয় নেতা হয়ে উঠেছিলেন শেখ মুজিবুর রহমান। তখন তিনি জেলে। আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলায় তাঁকে জড়ানো হয়েছিল। এদিকে গোটা দেশজুড়ে স্লোগান উঠল : ‘আগরতলার মিথ্যা মামলা মানি না শেখ মুজিবের মুক্তি চাই’।
অতীতের সেইসব কথা আজও মনে পড়ে। এরই কয়েক বছর পর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র, হাজী মোহাম্মদ মোহসীন হলের ২১৬ নং রুমে থাকি। ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট খুব ভোরে শুনলাম, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে হত্যা করা হয়েছে। কে বলে সেদিন কেউ কাঁদেনি! অনেকেই নীরবে দুচোখের জর ফেলেছিল। প্রতিবাদ করবে কে? খোদ রাজধানী শহরে নামানো হয়েছিল সেনাবাহিনী। প্রতিবাদ করলেই চলবে গুলি। তাই সেদিন বঙ্গবন্ধুর ভালোবাসার লোকজন ঘর থেকে বেরিয়ে আসতে পারেনি। বঙ্গবন্ধু নিহত হয়েছেন ১৯৭৫ সালে। তাঁকে আর কোনোদিন দেখতে পাব না। তবে তিনি আমাদের হৃদয়ের মাঝে বারবার জেগে ওঠেন। এজন্যই বলি : ‘নয়ন সম্মুখে তুমি নাই, নয়নের মাঝখানে নিয়েছে যে ঠাঁই’।


টুঙ্গিপাড়া গিয়ে প্রথমেই দেখুন বঙ্গবন্ধুর মাজার। গোপালগঞ্জ শহর থেকে ১৯ কিলোমিটার দূরে টুঙ্গিপাড়ায় বঙ্গবন্ধুর মাজার। গোপালগঞ্জ শহরের বঙ্গবন্ধু বিশ্ববিদ্যালয় কলেজের পাশ থেকে ১০ মিনিট পরপর বাস, টেম্পো ছেড়ে যায় টুঙ্গিপাড়া। পৌঁছতে সময় লাগে প্রায় ৩০ মিনিট।
টুঙ্গিপাড়ায় বঙ্গবন্ধুর মাজার, বঙ্গবন্ধুর বাড়ি দেখতে গিয়ে শতাব্দীর শ্রেষ্ঠ বাঙালি শেখ মুজিবুর রহমানের কথা বারবার মনে পড়বে। টুঙ্গিপাড়া নির্জন নিরিবিলি এক উপজেলা শহর। এখানে চারদিকে গাছগাছালি, খাল ও বিল চোখে পড়বে। শরৎকালে বিলের পাশে দাঁড়ালে কাশবনও দেখা হবে। আকাশে সাদা মেঘের ভেলা দেখে টুঙ্গিপাড়ায় বারবার খুঁজে পাবেন শরৎ ঋতুর প্রতিচ্ছবি। যেদিকেই যান না কেন, টুঙ্গিপাড়ায় বঙ্গবন্ধুর মাজারের কাছে বারবার ফিরে আসতে ইচ্ছে হবে। শতাব্দীর শ্রেষ্ট বাঙালির কথা বাবরার মনে পড়তেই কষ্টে বুকটা ফেটে যাবে। বঙ্গবন্ধুর মাজার কমপ্লেক্সে দেখবেন সুবিশাল আঙিনা, মসজিদ, লাইব্রেরি, প্রদর্শনীকেন্দ্র, উন্মুক্ত মঞ্চ। টুঙ্গিপাড়ায় থাকার জন্য রয়েছে মধুমতি মোটেল।


টুঙ্গিপাড়ায় বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের মাজার দেখতে গিয়ে তাঁর ঐতিহাসিক ভাষণের উদ্দেশে রেসকোর্স ময়দানে (বর্তমানে) সোহরাওয়ার্দী উদ্যান) এক বিশাল জনসভায় বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ঐতিহাসিক ভাষণ দেন। সেই ভাষণে তিনি বলেন, ‘ঘরে ঘরে দুর্গ গড়ে তোলো। তোমাদের যা-কিছু আছে তাই নিয়ে শত্রুর মোকাবেলা করতে হবে। এবারের সংগ্রাম মুক্তির সংগ্রাম, এবারের সংগ্রাম স্বাধীনতার সংগ্রাম।’বস্তুত এ ভাষণের মধ্য দিয়েই বঙ্গবন্ধু বাঙালি জাতিকে স্বাধীনতাযুদ্ধের জন্য সর্বাত্মক প্রস্তুতি গ্রহণের আহ্বান জানিয়েছিলেন। তাঁর আহ্বানেই এদেশে মুক্তিযুদ্ধ শুরু হয় এবং আমরা একদিন দেশকে শত্রুমুক্ত করি। বঙ্গবন্ধু আমাদের জাতির পিতা, তাই তিনি আমাদের অন্তরে চিরদিন বিচরণ করভেন।
মনে পড়ে, বঙ্গবন্ধুকে প্রথমে দেখার সেই দিনটির কথার ১৯৭০ সালের কোনো এক সময়ের কথা। বঙ্গবন্ধু আমাদের ছোট্ট শহর পিরোজপুরে আসবেন। তাঁর ভাষণ শোনার জন্য জনতার ঢল নামল। বঙ্গবন্ধুকে কাছ থেকে সেই প্রথম দেখলাম। আজও সেই দেখা ভাসা ভাসা মনে পড়ে। বক্তৃতা শেষ করে বঙ্গবন্ধু পিরোজপুরের সার্কিট হাউসে এলেন, সঙ্গে তোফায়েল আহমেদ। তারপর ৩৮ বছর কেটে গেল, তবুও সেই দেখার স্মৃতি আজও ভুলতে পারি না।


যাঁরাই এই টুঙ্গিপাড়ায় একবার বঙ্গবন্ধুর মাজারের সামনে আসবেন তাঁরাই বলবেন ‘আহা আমার বহুদিনের স্বপ্ন যে আজ পূরণ হল।’ টুঙ্গিপাড়ায় এলে তাই কী যেন এক মায়ায় জড়িয়ে পড়বেন। বঙ্গবন্ধুর মাজার দেখার স্মৃতি কোনোদিনই মন থেকে সরে যাবেন না, যেতে পারে না।
মধুমতি নদীর তীরে অবস্থিত গোপালগঞ্জ জেলা শহর। গোপালগঞ্জ জেলা শহরের রয়েছে এক প্রাচীন ইতিহাস। দক্ষিণেশ্বরের রানী রাসমণির নাতি গোপালের নামানুসারের মধুমতি নদীর তীরসংলগ্ন এই ছোট গঞ্জের নাম রাখা হয় গোপালগঞ্জ। এ জেলার রাজনৈতিক ইতিহাস অত্যন্ত সমৃদ্ধ।
গোপালগঞ্জ জেলা মোট ৫টি উপজেলা নিয়ে গঠিত। উপজেলাগুলো হলোÑ গোপালগঞ্জ সদর, মুকসুদপুর, কোটালিপাড়া, টুঙ্গিপাড়া, কাশিয়ানী। এ জেলার আয়তন প্রায় ১,৪৯০ বর্গকিলোমিটার।
ফরিদপুরের দক্ষিণের জেলা শহর গোপালগঞ্জ। এই জেলার দক্ষিণে পিরোজপুর ও বাগেরহাট জেলা। পশ্চিমে নড়াইল, উত্তরে ফরিদপুর এবং পূর্বে মাদারীপুর ও বরিশাল জেলা।


গোপালগঞ্জ জেলার ওপর দিয়ে গেছে মধুমতি নদী। মধুমতি নদী ছাড়াও এ জেলার ওপর দিয়ে বয়ে গেছে কুমার নদী, ঘাঘর নদী, বাগিয়ার নদী। বিল-বাঁওর রয়েছে অনেক, যেমন চান্দার বিল, কান্দির বিল, বর্নির বাঁওর।
অনেক কিংবদান্তর উপকরণ ছড়িয়ে রয়েছে গোপালগঞ্জে। প্রাকৃতিক সৌন্দর্যে ভরা গোপালগঞ্জের কোটালিপাড়া, মুকসুদপুর, টুঙ্গিপাড়া আর কাশিয়ানী। ছোট বনবনানীতে আচ্ছাদিত রয়েছে বেশকিছু এলাকা, যা দেখে মনে জাগবে রোমাঞ্চ।
যেভাবে যাবেন : ঢাকা থেকে গোপালঞ্জে যাওয়ার জন্য বেশ কয়েকটি বাস ছাড়ে ঢাকার গাবতলী বাসস্ট্যান্ড থেকে। সোহেল, মধুমতি অথবা কমফোর্ট পরিবহনে গেলে ভালো হয়। এসব পরিবহনে যাতায়াতে সময় লাগে সাড়ে ৫ ঘণ্টা। বিআরটিসির যেতে পারেন। এটি ছাড়ে ঢাকার ফুলবাড়িয়া বাসস্ট্যান্ড থেকে। সুন্দরবন পরিবহনে গেলে সায়েদাবাদ থেকে উঠবেন। এটি খুলনা যায়, তবে গোপালগঞ্জে নামিয়ে দিয়ে যাবে।


যেখানে থাকবেন : গোপালগঞ্জ শহরে রাত যাপন করার জন্য পোস্ট অফিসের মোড়ে সোহাগ হোটেল রয়েছে। চৌরঙ্গীর মোড়ে রিফাত হোটেল। এখানেও উঠতে পারেন। এছাড়া রয়েছে মৌসুমী, গোল্ডেন ও জনতা হোটেল।
যা যা দেখবেন : গোপালগঞ্জ শহরে দেখবেন থানাপাড়া মসজিদ জজকোর্ট, সেন্ট মথুরানাথ এজি চার্চ, একাত্তরের জয়বাংলা বধ্যভূমি।, কোর্ট মসজিদ। গোপালগঞ্জ জেলা শহরের প্রাণকেন্দ্রে অবস্থিত জেলার কেন্দ্রীয় মসজিদ। এই মসজিদে একটি সুউচ্চ মিনা দেখতে পাবেন। তাছাড়া এটিতে রয়েছে একটি সুদৃশ্য বড় গম্বুজ ও দুটি ছোট গম্বুজ। এ মসজিদটির স্থাপত্যশৈলী দৃষ্টিনন্দনও বটে।
১৮৭৫ সালে খ্রিস্টান ধর্মাবলম্বীদের জন্য তৈরি করা হয়। মথুরানাথ চার্চ। এর প্রতিষ্ঠাতা ছিলেন মথুরানাথ বোস। এই চার্চটি দেখার মতো।
এবার আসুন থানাপাড়ার মসজিদটি দেখতে। এটি গোপালগঞ্জ জেলা শহরের প্রথম মসজিদ। ১৯২০ থেকে ১৯২১ সালের মধ্যে এটি নির্মাণ করা হয়। খেলাফত আন্দোলন ও অসহযোগ আন্দোলনের সময় থানাপাড়া মসজিদ ছিল এ এলকার মুসলমানদের মিলনকেন্দ্রে।
একাত্তরের বধ্যভূমি অর্থাৎ জয়বাংলা বধ্যভূমি শহরের একপ্রান্তে উপজেলা পরিষদের পাশে অবস্থিত। গোপালগঞ্জের বিভিন্ন উপজেলা থেকে মুক্তিযোদ্ধা ও জনসাধারণকেও ধরে এনে পাকিস্তানি হানাদারবাহিনী ক্যান্টনমেন্ট সংলগ্ন পুকুরের পাশে বিভিন্নভাবে অত্যাচার করে গুলি করে মারত। এই পুকুরটি ‘জয়বাংলা পুকুর’ নামে পরিচিত। এই পকুরের আশপাশে মুক্তিযুদ্ধের অনেক জানা-অজানা শহীদের গণকবর রয়েছে। পরবর্তী সময়ে পুকুরটি ভরাট করে এখানে শহীদদের স্মৃতিরক্ষার্থে একটি স্মৃতিস্তম্ভ নির্মাণ করা হয়। এই স্মৃতিসৌধটি ঘুরে দেখুন।


গোপালের কথা : গোপালগঞ্জ শহরের নামকরণ নিয়ে কাহিনী রয়েছে। রাজগঞ্জ থেকে গোপালগঞ্জ নাম হয়েছে যার নামে, তিনি কোনো কীর্তিমান ব্যক্তি ছিলেন না। ‘গোপাল’-এর নাম থেকে যে গোপালগঞ্জ নামের উৎপত্তি একথা সবাই বলেন। মুকিমপুর স্টেটের জমিদার ছিলেন রানী রাসমণি। তিনি বাস করতেন কলকাতায়। মাঝে মাঝে জমিদারি এলাকায় আসতেন। কলকাতা থেকে এখানে আসতে হত পানসী বা বজরা নৌকা করে। একবার রানী রাসমণি তার আদরের নাতি গোপালকেও সঙ্গে করে নিয়ে আসেন। কলকাতা শহরে বড় হয়েছে গোপাল। বিল-হাওয়া-নদীর বিমুগ্ধ দৃশ্যের সঙ্গে তার কোনো পরিচয়ই ছিল না। রাজগঞ্জ ঘাটে পানসী থেকে নেমে গোপাল যেদিকে তাকায় সেদিকেই অন্তহীন প্রকৃতি দেখতে পায়। বিলে-ঝিলে শাপলা-শালুকের মেলা দেখে আনন্দে আত্মহারা হয়ে পড়ে সে। রাজগঞ্জ এলাকাটিকে খুব ভালো লাগে গোলাপের। রানী রাসমণি তার প্রিয় নাতির ভালোলাগার জায়গাটিকে স্মরণীয় করে রাখার জন্য রাজগঞ্জের ‘রাজ’ শব্দটির স্থলে গোপালের নাম যুক্ত করে এলাকার নাম রাখেন ‘গোপালগঞ্জ’।


কোটালিপাড়া : বিল-ঝিল রয়েছে এই উপজেলার অভ্যন্তরে। কোটালিপাড়ার পিঞ্জরি ইউনিয়নের শিকদারবাড়িতে বহুতলা জামে মসজিদটি দেখার মতো। এটি আনুমানিক পঞ্চদশ শতকে নির্মিত হয়। তিনটি গম্বুজ রয়েছে এই মসজিদে। মসজিদটির নির্মাণশৈলী খুব আকর্ষণীয়। এটি প্রাচীন মুসলিম স্থাপত্যকলার এক অনন্য নিদর্শন।
কোটালিপাড়ার শিবমন্দিরটিও দেখার মতো। এটি সিদ্ধান্তবাড়ি নামক স্থানে অবস্থিত। ১৮০০ খ্রিস্টাব্দে স্থাপিত স্থানীয় লোকদের কাছে এটি ‘পুড়া ঠাকুর’ মন্দির নামে অধিক পরিচিত ছিল। প্রায় ২০০ বছর ধরে চৈত্র মাসের ২৯ তারিখে এখানে নিয়মিত চৈত্র সংক্রান্তির মেলা হয়ে আসছে।
কোটালিপাড়ার হরিণহাটি জমিদারবাড়িটিও ঘুরে দেখতে পারেন। গোপালগঞ্জ শহর থেকে কোটালিপাড়ায় যাবেন সড়কপথে বাসে। সময় লাগবে ১ ঘণ্টা।
কেউবা বলেন, শৈলদাহ নদী, কেউবা বলেন ঘাঘর নদী, এরই পাশে কোটালিপাড়া উপজেলা সদর। কোটালিপাড়াকে মাছের রানীও বলা হয়। এই উপজলার অভ্যন্তরে জালের মতো ছড়িয়ে-ছিটিয়ে রয়েছে বির-ঝিল। বছরের চার থেকে পাঁচ মাস বাদ দিলে এই উপজেলার অধিকাংশ জায়গায় নৌকায় চলাচল করতে হয়। রয়েছে বেশকিছু বিল। তালপুকুরিয়ার বিল, লেবুবাড়ি বিল, চাকদার বিল, সাতুরিয়ার বিল, হিজলবাড়ি বিল, কান্দিরাবিল, সোনাখালী, কলাবাড়ি, রামশীল, কলস ফোঁটার, সুয়াকান্দি, কান্দিরÑ আরো কত নাম। বর্ষা, শরৎ আর হেমন্তে বিলাঞ্চলে নৌকা নিয়ে বেড়ানোর মজাই আলাদা। স্থানীয় হোটেলে খেতে পাবেন কৈ, চিতল, শিং, আইর, মাগুর, বোয়াল, গজার, পাবদা, রয়না, টেংরাসহ সুস্বাদু মাছ।


‘বঙ্গবন্ধু দারিদ্র্য বিমোচন প্রকল্পের’ পরেই ঘাঘর ব্রিজ। এই ব্রিজে পড়ন্ত বিকেরে বেড়াতে পারেন। শৈলদাহ নদীতে নৌকায় যাবেন ৪ থেকে ৫ ঘণ্টার জন্য। নৌকা ভাড়া করে বহুদূরে বিলাঞ্চলে বেড়াতে গিয়ে নৈসর্গিক দৃশ্য খুঁজে পাবেন। জেলেরা মাছ ধরছে, হাঁসের দল ভেসে বেড়াচ্ছে, শাপলাফুলের ফাঁকে ফাঁকে ফড়িংয়ের ওড়াউড়ি, দূরে গ্রাম, ঘরবাড়ি। বিভিন্ন প্রজাতির পাখিও দেখবেন বিলে-বিলে। চোখে পড়বে কোথাওবা পানিতে কচুরিপানার উপরে হালকা মাটি দিয়ে বিভিন্ন ধরনের শাকসবজির চাষ। কোটালিপাড়ার পশ্চিমপাড় থেকে ভ্যানে উনশিয়ায় গেলে দেখতে পাবেন কবি সুকান্তের বাড়ির ভিটা। রামধনুশা মঠ, মনসামন্দির দেখবেন এই উনশিয়া গ্রামে। আরো দেখবেন গণেশ পাগলের আশ্রম। ঘাঘর নদীর তীরেই রয়েছে ‘বঙ্গবন্ধু দারিদ্র্য বিমোচন প্রকল্প’।


কোটালিপাড়ার ঘাঘর নদীই আপনাকে বেশি কাছে টানব। কোটালিপাড়া একদা ছিল প্রাচীন বাংলার রাজধানীÑএকথাও লোকমুখে শুনবেন। ঐতিহাসিক ‘চন্দ্রবর্মণ কোট’ বর্তমানে কোটালিপাড়ার ভেতরে দিয়ে প্রবহমান ‘সুবর্ণরেখার’ মতোই কালের স্রোতধারা ঘরঘরা বা ঘাঘর নদী। খ্রিস্টীয় ষষ্ঠ শতকে ঘাঘর নদীকে কেন্দ্র করেই গড়ে উঠেছিল নগরকেন্দ্রিক জীবনযাত্রা। ঘাঘর শাদুল্লাপুরসহ কত জানা-অজানা নগর-জনপদ ছিল এখানে। পুরাতাত্ত্বিক অনেক মূল্যবান প্রতœরাজি নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে বলে অনেকে অনুমান করেন।
কাশিয়ানী : গোপালগঞ্জ থেকে কাশিয়ানী যাবেন সড়কপথে বাসে। এখানের ওড়াকান্দি গ্রামের ঠাকুরবাড়িটি দেখার মতো। এটি হিন্দুদের একটি তীর্থস্থান। এখানে প্রতিবছর চৈত্রমাসে ত্রয়োদশী তিথিতে বারুনীর মেলা অনুষ্ঠিত হয়। শ্রী হরিচাঁদ ঠাকুরের জন্ম-মৃত্যু স্মরণে পুণ্যলাভ-প্রত্যাশী হিন্দুসম্প্রদায় হরিচাঁদ ঠাকুর মন্দিরসংলগ্ন ‘কামনা সাগর’ নামক পুকুরে পুণ্য স্নান করে হরিচাঁদ মন্দিরটি সাতবার প্রদক্ষিণ করেন।