বিচারের জন্য প্রস্তুত করে নথি দায়রা আদালতে স্থানান্তর

বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) ছাত্র আবরার ফাহাদ হত্যা মামলাটি বিচারের জন্য প্রস্তুত হয়েছে। আজ সোমবার ঢাকার মুখ্য মহানগর হাকিম আদালত মামলাটি বিচারের জন্য ঢাকা মহানগর দায়রা জজ আদালতে স্থানান্তরের নির্দেশ দিয়েছেন।

আজ এই মামলার পলাতক চার আসামির বিরুদ্ধে জারি করা পত্রিকার বিজ্ঞপ্তি আদালতে দাখিল করার দিন ধার্য ছিল। আজ ওই চারজনের বিজ্ঞপ্তি আদালতে দাখিল করার পর মামলাটি বিচারের জন্য প্রস্তুত হয়। নথি পর্যালোচনা শেষে অতিরিক্ত মুখ্য মহানগর হাকিম কায়সারুল ইসলাম মামলা স্থানান্তরের নির্দেশ দেন। মুখ্য মহানগর হাকিম মো. জাহিদুল কবির স্বাক্ষর করে নথি মহানগর দায়রা জজ আদালতে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

চার্জশিটভুক্ত পলাতক চার আসামির মধ্যে একজন মো. মোর্শেদ ওরফে মোর্শেদ অমর্ত্য ইসলাম আগের দিন রবিবার আদালতে আত্মসমর্পন করার পর তাকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। তিনজন এখনও পলাতক রয়েছেন। এই তিনজন হলেন, মুহাম্মদ মোর্শেদ-উজ-জামান (বাড়ি রংপুর জেলার কোতোয়ালী থানার কেসি রায় রোড), এহতেশামুল রাব্বি ওরফে তানিম (বাড়ি সৈয়দপুর জেলার নীলফামারি থানার নেয়ামতপুর মুন্সিপাড়া গ্রাম) ও মুজতবা রাফিদ (বাড়ি-দিনাজপুর জেলার কোতোয়ালী থানার উত্তর বালুবাড়ি)।

গত ১৮ নভেম্বর এই মামলার চার্জশিট গ্রহণ করেন একই আদালত। ওইদিন পলাতক চার আসামির বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারিরও নির্দেশ দেন। এরপর গত ৩ ডিসেম্বর তাদের অস্থাবর সম্পত্তি ক্রোকের নির্দেশ দেওয়া হয়। তার আগে গত ১৩ নভেম্বর আবরার হত্যা মামলায় ২৫ জনকে আসামি করে চার্জশিট দেওয়া হয়। মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ তদন্ত শেষে এই চার্জশিট দেয়। এই মামলার ২১ আসামিকে ঘটনার পর গ্রেপ্তার করা হয়েছে। আর একজন আত্মসমর্পন করেন। তারা বর্তমানে কারাগারে আছেন। চার্জশিটভুক্ত সব আসামি বুয়েটের ছাত্র ও ছাত্রলীগের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত।

কারাগারে থাকা ২২ আসামি হলেন মেহেদী হাসান রাসেল, মো. অনিক সরকার, ইফতি মোশাররফ সকাল, মেহেদী হাসান রবিন,  মেফতাহুল ইসলাম জিওন, মুনতাসির আলম জেমি, খন্দকার তাবাখখারুল ইসলাম তানভির, মো. মুজাহিদুর রহমান, মুহতাসিম ফুয়াদ,  মনিরুজ্জামান মনির, মো. আকাশ হোসেন, হোসেন মোহাম্মদ তোহা, মাজেদুর রহমান, শামীম বিল্লাহ, মোয়াজ আবু হুরায়রা, এ এস এম নাজমুস সাদাত, ইসতিয়াক আহম্মেদ মুন্না, অমিত সাহা, মো. মিজানুর রহমান ওরফে মিজান, শামসুল আরেফিন রাফাত , এস এম মাহমুদ সেতু ও মো. মোর্মেদ ওরফে অমত্য ইসলাম মোর্শেদ।

উল্লেখ্য, ফেসবুকে একটি স্ট্যাটাস দেওয়ার জেরে বুয়েট শিক্ষার্থী আবরার ফাহাদকে গত বছর ৬ অক্টোবর রাতে ডেকে নিয়ে যায় বুয়েট শাখা ছাত্রলীগের কয়েকজন নেতাকর্মী। এরপর রাত ৩টার দিকে শেরে বাংলা হলের নিচতলা ও দোতলার সিঁড়ির করিডোর থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় ফাহাদের বাবা মো. বরকত উল্লাহ ১৯ জনকে আসামি করে চকবাজার থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন।

মামলার তদন্তে জানা গেছে, রাত দশটা থেকে একটানা রাত ২টা পর্যন্ত আবরারকে শিবির সন্দেহে পেটানো হয়। ক্রিকেট স্ট্যাম্প, স্কিপিং দড়ি দিয়ে বেধড়ক পেটানো হয়। কিলঘুষি, লাথিও মারা হয়। এইভাবে আবরারকে হত্যা করা হয়।

এ মামলায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন আট আসামি। তারা হলেন ইফতি মোশাররফ হোসেন সকাল, বুয়েট শাখা ছাত্রলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক মেহেদী হাসান রবিন, মেফতাহুল ইসলাম জিয়ন, অনিক সরকার, মো. মুজাহিদুর রহমান, মনিরুজ্জামান মনির, এ এস এম নাজমুস শাদাত ও তাবাখখারুল ইসলাম তানভীর।