‘বার্ন ইনস্টিটিউটে কেরানীগঞ্জের দগ্ধরা কেউই শঙ্কামুক্ত নয়’

Social Share

ঢাকার কেরানীগঞ্জের প্লাস্টিক কারখানার অগ্নিকাণ্ডে দগ্ধদের অবস্থা গত ৪০ বছরের মধ্যে সবচেয়ে ভয়াবহ বলে উল্লেখ করেছেন শেখ হাসিনা জাতীয় বার্ন অ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটের প্রধান সমন্বয়ক ডা. সামন্ত লাল সেন।

আজ শুক্রবার (১৩ ডিসেম্বর) সাংবাদিকদের সামনে এ মন্তব্য করেন তিনি।

ডা. সামন্ত বলেন, শেখ হাসিনা জাতীয় বার্ন অ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জারি  ইনস্টিটিউটে এখন ১০ জন রোগী ভর্তি রয়েছেন। এদের কেউই শঙ্কামুক্ত নয়। প্রত্যেকেই লাইফ সাপোর্টে। সবার ইনহ্যালেশন বার্ন এবং এর পরিমাণ এমন যে আমার এই ৪০ বছরের অভিজ্ঞতায় এত ভয়াবহ বার্ন কখনো দেখিনি। যেমন গতকালকে এখানে একজন রোগী মারা গেছে যাকে তার স্ত্রী চিনতে পারেনি। মুখমণ্ডল এমনভাবে বিকৃত হয়েছিল। পরে তার হাতের কাটা দেখে তাকে শনাক্ত করতে পেরেছে।

তিনি বলেন, এদের মধ্যে একজন আব্দুর রাজ্জাক যার শরীরের শতভাগ পুড়ে গেছে। তিনি অত্যন্ত ঝুঁকিতে রয়েছেন। যেকোনো সময় তাঁর অবস্থার আরো অবনতি হতে পারে। বিশ্বের কোথাও শতভাগ বার্ন বাঁচানো সাধারণত সম্ভব হয় না। আমরা চেষ্টা করছি বাকিটা সৃষ্টিকর্তার ইচ্ছা। বাকি যারা রয়েছে তাদেরও শরীরের ৬০ থেকে ৮০ ভাগ পোড়া রয়েছে। প্রত্যেকেরই শ্বাসনালী পুড়ে গেছে এবং মুখমণ্ডল ও শ্বাসনালী এমনভাবে পুড়েছে যে সেটা রিকভার করা অত্যন্ত দুরূহ।

সামন্ত লাল আরো বলেন, আমারা রোগীর স্বজনদের কেউ সবসময় সবকিছু জানাচ্ছি, চিকিৎসাও সঠিকভাবে হচ্ছে। প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশ রয়েছে চিকিৎসা যেন সঠিকভাবে হয় এবং ব্যয় ভার যেন সরকার বহন করে, সেভাবেই সব চলছে। আর আমরা এ পর্যন্ত ৬০ ভাগ পোড়া রোগী বাঁচাতে পেরেছি। তবে ঢামেকের বার্ন ইউনিটে যে আটজন ভর্তি রয়েছেন তারা সম্পূর্ণ শঙ্কামুক্ত বলে জানান ডা. সামন্ত। তাদের শরীরে ১৫ থেকে ২০ শতাংশ পোড়া বলে জানান তিনি।

গত বুধবার (১১ ডিসেম্বর) ঢাকার দক্ষিণ কেরানীগঞ্জের চুনকুটিয়া হিজলতলার প্রাইম পেট অ্যান্ড প্লাস্টিক ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেড নামের কারখানায় ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। এতে আজ শুক্রবার (১৩ ডিসেম্বর) পর্যন্ত মৃত্যু হয়েছে ১৩ জনের।