বাবরি মসজিদের জমি ছেড়ে দিতে রাজি মুসলিমরা!

বহুল আলোচিত ভারতের অযোধ্যায় রাম জন্মভূমি-বাবরি মসজিদ নিয়ে বিতর্কিত জমি ছেড়ে দিতে প্রস্তুত ভারতের কেন্দ্রীয় সুন্নি ওয়াকফ বোর্ড। আদালতে জমা দেওয়া মধ্যস্থতাকারী কমিটির এক প্রতিবেদনে এমনটাই জানানো হয়েছে। সুন্নি ওয়াকফ বোর্ড রামমন্দির-বাবরি মসজিদ মামলার অন্যতম পক্ষ।

বেশ কয়েকটি সূত্রের বরাত দিয়ে ভারতের সংবাদ মাধ্যম এনডিটিভির প্রতিবেদনে বলা হয়, রাম মন্দির নির্মাণের জন্য সরকার যদি জমিটি অধিগ্রহণ করতে চায়, তাহলে সুন্নি ওয়াকফ বোর্ড বাধা দেবে না। তবে এ জন্য অযোধ্যার মসজিদগুলো সংস্কার করে দিতে হবে সরকারকে। আর উপযুক্ত কোনো জায়গায় নতুন আরেকটি মসজিদ নির্মাণের প্রস্তাব করা হবে।

গালফ নিউজের খবরে বলা হয়, ২ দশমিক ৭৭ একরের জমিটির মালিকানা দাবি ত্যাগ করে সুপ্রিমকোর্টে একটি বন্দোবস্ত দাখিল করেছে ওয়াকফ বোর্ড। এই জমিতেই ১৯৯২ সাল পর্যন্ত মোগল আমলের মসজিদটি দাঁড়িয়েছিল। তখন উগ্র হিন্দুত্ববাদী গোষ্ঠী মসজিদটি গুঁড়িয়ে দেয়।

এনডিটিভির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সুন্নি ওয়াকফ বোর্ড ভূমির দাবি যদি ছেড়েই দেয়, তাহলে বাকি দুই পক্ষ নিরমোহি আখড়া ও রাম লালার মধ্যে ভূমির মীমাংসা কীভাবে হবে সে বিষয়ে প্রশ্ন উঠেছে। তবে এ প্রসঙ্গে সুপ্রিম কোর্টের মধ্যস্থতাকারী কমিটি কী বলেছে তা জানা যায়নি।

২০১০ সালে বিতর্কিত জমিটি বিবদমান তিনটি পক্ষ- সুন্নি ওয়াকফ বোর্ড, নিরমোহি আখড়া ও রাম লালা বিরাজমানের মধ্যে সমানভাবে ভাগ করে দেওয়ার রায় দিয়েছিলেন এলাহাবাদ হাইকোর্ট। কিন্তু শীর্ষ আদালতে ওই রায়ের বিরুদ্ধে ১৪টি আপিল জমা পড়ে। গত বুধবার ওই মামলার শুনানি শেষ হয়। এখন এটি রায়ের অপেক্ষায় রয়েছে। ভারতের প্রধান বিচারপতি রঞ্জন গগৈ নেতৃত্বাধীন ৫ সদস্যের বেঞ্চ মামলাটির রায় অপেক্ষমাণ রেখেছেন।

আদালত সূত্রে জানা গেছে, ১৭ নভেম্বর ভারতের প্রধান বিচারপতি গগৈর মেয়াদ শেষ হচ্ছে। তার আগেই মামলাটির রায় হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। রায় কী হবে, সেই দিকেই এখন তাকিয়ে আছেন ভারতবর্ষের আপামর জনতা।