বাজেট বাস্তবায়নই হবে বড় চ্যালেঞ্জ

Social Share

জাতীয় পার্টি চেয়ারম্যান ও বিরোধী দলীয় উপনতো গোলাম মোহাম্মদ কাদের এমপি বলেছেন, করোনা ভাইরাসের কারণে বিশ্ব অর্থনীতিতে অস্থিরতা বিরাজ করছে। বাংলাদেশও এর বাইরে নয়। এই প্রেক্ষিতে মাননীয় অর্থমন্ত্রী যে বাজেট পেশ করেছেন তা স্বাভাবিকভাবেই পূর্ণ করা সম্ভব নাও হতে পারে। তবুও সরকারের পক্ষ থেকে জনকল্যাণমূখি বাজেট দিতে চেষ্টা করা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (১১ জুন) বিকেলে জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যানের বনানী কার্যালয়ে বাজেট পরবর্তী এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি একথা বলেন।

তিনি বলেন, প্রয়োজনীয় খাতগুলোতে যথেষ্ট পরিমাণে বরাদ্দ নিশ্চিত করা হয়েছে। বাজেটে বড় ধরণের একটি ঘাটতি আছে, গত বছরের স্বাভাবিক পরিস্থিতির চেয়ে আয় এবার বেশি ধরা হয়েছে। যা পুরোপুরি বাস্তবায়ন হবেনা। সেক্ষেত্রে আয়ের চেয়ে ব্যায় বেশি ধরা হয়েছে। তাই যথাযথ খাত নির্দিষ্ট করে যেনো খরচ করা হয় এবং সেভাবেই বরাদ্দ দেয়া হয়, সেদিকে দৃষ্টি দিয়ে বাজেট বাস্তবায়ন করতে হবে।

জাতীয় পার্টি চেয়ারম্যান বলেন, বাজেট বাস্তবায়নটা এবার চ্যালেঞ্জ হবে। যেহেতু আয়ের সাথে ব্যায়কে সমন্বয় করতে হবে এবং যথাযথ খাতকে প্রাধান্য দিয়ে বরাদ্দ ব্যবহার করতে হবে। তিনি বলেন, স্বাস্থ্যখাত এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ খাত হয়ে দাঁড়িয়েছে বর্তমান বাস্তবতায়। তার সঙ্গে সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনী খাতেও যথেষ্ট বরাদ্দ দেয়া দরকার। নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি করতে পারে এবং স্বাভাবিক ব্যবসা-বানিজ্য স্বাভাবিক গতিতে পরিচালিত হতে পারে তার জন্য সরকারকে অর্থায়ন করতে হবে। এছাড়া যে অর্থ বরাদ্দ হবে তা যেন যথযযথভাবে খরচ হয়, সেজন্য সুশাসন নিশ্চিত করতে হবে। এছাড়া দুর্নীতি মুক্ত ও অপচয় রোধ করে যথাযথভাবে জনকল্যাণে যেন বরাদ্দ ব্যায় হয় সেদিকে দৃষ্টি দিতে হবে। তবেই বাজেট জনকল্যাণমূখি হবে।

জাতীয় পার্টি মহাসচিব ও বিরোধী দলীয় চিফ হুইপ মসিউর রহমান রাঙ্গাঁ এমপি বলেছেন, বর্তমান ভিন্ন পরিস্থিতিতে সরকার গণমুখি বাজেট দিতে চেষ্টা করেছে। যেসব মন্ত্রণালয়ে বেশি বরাদ্দ দেয়া দরকার তা দেয়া হয়েছে। বাজেটের জন্য টাকা আহরণ করা কষ্ট সাধ্য হয়ে পড়বে। কারণ, গত বছরও তারা যে বাজেট দিয়েছিলো তা পুরোপুরি বাস্তবায়ন করতে পারেনি। এবার বাজেট বাস্তবায়ন করতে না পারলে সরকারকে আরো কষ্ট করতে হবে। যদি বাস্তবায়ন করতে পারে তাহলে এটি গণমুখি বাজেট হবে। বর্তমান পরিস্থিতির কারণে স্বাস্থ্যখাতে বরাদ্দ যথার্থ হয়েছে।

তিনি বলেন, পরিবহহণ মালিক হিসেবে বলবো ট্যাক্স ১০ ভাগ থেকে ২৫ ভাগ করা হয়েছে। এটা অনেক বেশি করা হয়েছে, আশা করছি সরকারের এ বিষয়ে দৃষ্টি দিবেন। বাজেটকে ফলপ্রসূ করতে হলে সঠিকভাবে কর আহরণ করতে দুর্নীতি পরায়ণ কর্মকর্তাদের দূরে রাখতে হবে। তবেই বাজেট গণমূখি হবে।

এসময় উপস্থিত ছিলেন প্রেসিডিয়াম সদস্য সুনীল শুভ রায়, মীর আব্দুস সবুর আসুদ, শামীম হায়দার পাটোয়ারী এমপি, লেঃ জেনারেল (অব.) মাসুদ উদ্দিন চৌধুরী এমপি, জহিরুল ইসলাম জহির, উপদেষ্টা- হাসিবুল ইসলাম জয়, মনিরুল ইসলাম মিলন, শাহ-ই আজম, যুগ্ম মহাসচিব-ফখরুল আহসান শাহজাদা, সাংগঠনিক সম্পাদক-সৈয়দ ইফতেকার আহসান হাসান, হুমায়ুন খান, দফতর সম্পাদক-সুলতান মাহমুদ, শিক্ষা বিষয়ক সম্পাদক-মিজানুর রহমান মিরু, যুগ্ম কোষাধ্যক্ষ-এ্যাড. আবু তৈয়ব, যুগ্ম সাংগঠনিক সম্পাদক-নজরুল ইসলাম, যুগ্ম দফতর সম্পাদক-মাহমুদ আলম, সমরেশ মন্ডল, যুগ্ম যুব সম্পাদক দ্বীন ইসলাম শেখ, কেন্দ্রীয় নেতা- হারুন অর রশীদ, শেখ সারোয়ার, ফারুক শেঠ, হাবিবুর রহমান, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ছাত্রসমাজ- আলামিন সরকার।