বাচ্চার মোবাইলে গেম খেলার নেশা? কী কী ক্ষতি হতে পারে জানেন?

Social Share

মোবাইল ফোনের নেশা নেই এমন বাচ্চা এখন হাতে গোনা। বাবা মায়েরা ছেলেমেয়েদের অত্যাচারে অতিষ্ঠ, যখন তখন ফোন তো তারা কেড়ে নিচ্ছেই, পড়াশোনাও ডকে উঠেছে। বাইরে গিয়ে খেলাধুলো নয়, খেলা বলতে শুধুই মোবাইলে হরেকরকম গেম খেলা। কিন্তু এই নেশা কোনও উপকার তো করেই না, বরং এর ফলে মারাত্মক ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে আপনার সন্তানের শরীর।

মোবাইলের পর্দার দিকে বেশিক্ষণ তাকিয়ে থাকলে চোখের জ্যোতি কমে যায়। শুরু হয় মাথা ধরা, মাইগ্রেন ও পেশিতে ব্যথার মত সমস্যা। যে সব ছেলেমেয়েদের মোবাইলের নেশা অ্যাডিকশনের পর্যায়ে চলে গিয়েছে, দেখা যায়, খাওয়ার সময়েও তারা মোবাইলে কিছু না কিছু দেখছে। এই পরিস্থিতি উদ্বেগজনক। এতে তার ওজন আচমকা বেড়ে যেতে পারে। তাই যত দ্রুত সম্ভব এই অভ্যাস ছাড়ান। পাশাপাশি ৮ বছরের কম বয়সের ছেলেমেয়েদের মোবাইল থেকে দূরে রাখুন। দিনের বেশিরভাগ সময় মোবাইল ঘেঁটে কাটালে তাদের মস্তিষ্কের বিকাশ হয় না। শিশুদের মস্তিষ্কের বৃদ্ধি স্বাভাবিকভাবে হওয়া উচিত। এর ফলে তাদের মধ্যে সংবেদনশীলতা বাড়ে, চিন্তার ক্ষমতা বৃদ্ধি পায়।

মোবাইল ফোনের নেশা ছাড়ানো মুখের কথা নয়। বাচ্চা জেদ করতে পারে, অনেক সময় খাওয়াদাওয়া বন্ধ করে দেয়। প্রথমে তাকে এ ব্যাপারে বোঝান। তারপর ধীরে ধীরে নেশা কমানোর চেষ্টা করুন। এ কাজ সহজ নয়, তবে হাল না ছেড়ে চেষ্টা চালালে সুফল মিলতে পারে।

কীভাবে বাচ্চার মোবাইলের নেশা ছাড়াবেন

বাইরে বেরিয়ে খেলাধুলোয় যোগ দিতে জোর দিন।

আউটডোর গেমসে যোগ দেওয়ান।

বন্ধুদের সঙ্গে খেলতে উৎসাহ দিন।

টাইমটেবিল তৈরি করে দিন, তা মেনে চলতে বলুন।

অবসর সময়ে হাতের কাজ, ছবি আঁকা এই সবে জোর দিন।

রাতে তাড়াতাড়ি শুয়ে পড়ার অভ্যাস করান, বেশি রাত জাগা বাচ্চার শরীরের পক্ষে ভাল নয়।

খাওয়াদাওয়ার দিকে নজর রাখুন

খাবারে পুষ্টি যেন ঠিকমত হয়।

সবুজ শাকসব্জি যেন বেশি করে খায়।

শোওয়ার আগে ইষদুষ্ণ দুধ খাওয়ান।

জাঙ্ক ফুড খাওয়া বন্ধ করুন।

কোল্ড ড্রিঙ্কের বদলে দিন লস্যি ও ফলের রস।

প্রথমে তাকে এ ব্যাপারে বোঝান। তারপর ধীরে ধীরে নেশা কমানোর চেষ্টা করুন। এ কাজ সহজ নয়, তবে হাল না ছেড়ে চেষ্টা চালালে সুফল মিলতে পারে।