বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমিতে বঙ্গবন্ধু-বাপু ডিজিটাল প্রদর্শনী আজ থেকে উন্মুক্ত

131
Social Share

আজ শনিবার ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২১ বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমিতে বঙ্গবন্ধু-বাপু ডিজিটাল প্রদর্শনী জনসাধারণের জন্য উন্মুক্ত করা হয়েছে। যৌথভাবে প্রদর্শনীর উদ্বোধন করেন বাংলাদেশের মাননীয় শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি, মাননীয় সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী জনাব কে এম খালিদ এবং ভারতীয় হাই কমিশনার শ্রী বিক্রম কুমার দোরাইস্বামী।

এই অনুষ্ঠানে আরো  উপস্থিত ছিলেন সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের সচিব জনাব মো. আবুল মনসুর এবং বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির মহাপরিচালক জনাব লিয়াকত আলী লাকী। বাংলাদেশ সরকারের সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয় ও বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির সহযোগিতায় ভারতীয় হাই কমিশন আয়োজিত এই প্রদর্শনী ২৬ সেপ্টেম্বর থেকে ১১ অক্টোবর ২০২১ পর্যন্ত ঢাকায় থাকবে।

বঙ্গবন্ধু-বাপু ডিজিটাল প্রদর্শনী আমাদের দুই দেশের জাতির পিতা মহাত্মা গান্ধী এবং বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জীবন ও উত্তরাধিকারের মতন অনন্য একটি বিষয়কে উদযাপন করছে। দুই দেশের সরকার মুজিববর্ষ স্মরণে এবং মহাত্মা গান্ধীর সার্ধশততম জন্মবার্ষিকী এবং ভারত-বাংলাদেশ দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের সুবর্ণ জয়ন্তী উপলক্ষে প্রদর্শনীটি বিশেষভাবে তৈরি করেছিল।

দুই দেশের প্রধানমন্ত্রী  মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শ্রী নরেন্দ্র মোদী এবং বাংলাদেশের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ১৬ ডিসেম্বর ২০২০ ভারত-বাংলাদেশ ভার্চুয়াল শীর্ষ সম্মেলনে প্রদর্শনীটি উদ্বোধন করেছিলেন।

২০২১ সালের মার্চ মাসে ভারতের প্রধানমন্ত্রী শ্রী নরেন্দ্র মোদীর বাংলাদেশ সফরকালে দুই প্রধানমন্ত্রী ঢাকার বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে আয়োজিত বিশেষ প্রদর্শনীটি পরিদর্শন করেন এবং এর ভূয়সী প্রশংসা করেন।

মহাত্মা গান্ধী ডিজিটাল জাদুঘরের কিউরেটর শ্রী বিরাদ ইয়াগনিক দ্বারা বিশেষভাবে পরিচালিত এই অনন্য ডিজিটাল প্রদর্শনী ১৬ ডিসেম্বর ২০২০ থেকে ৩১ জানুয়ারি ২০২১ পর্যন্ত নয়াদিল্লীর বিজ্ঞান ভবনে প্রদর্শিত হয়েছিল যেখানে এটি বেশ প্রশংসিত হয়।


আগামী ১১ অক্টোবর ২০২১-এর পর, চট্টগ্রাম, সিলেট, রাজশাহী, খুলনা এবং কলকাতায়ও বঙ্গবন্ধু-বাপু ডিজিটাল প্রদর্শনীটি প্রদর্শিত হবে।

অনুষ্ঠানে শিক্ষামন্ত্রী দীপু মনি বলেন, মহান নেতা বঙ্গবন্ধু ও মহাত্মা গান্ধী দুজনেই জনগণের শক্তিতে বিশ্বাস করতেন। দুজনই ঘৃণ্য বিরোধিতার শিকার হয়েছিলেন এবং আততায়ীর গুলিতে নিহত হয়েছেন। কিন্তু তারা সবসময় নিজেদের ল্েয অবিচল ছিলেন। রাজনৈতিক দর্শন ও আন্দোলন-সংগ্রামের মধ্য দিয়ে উভয়েই জনগণের আস্থা অর্জন করেছিলেন।

তিনি আরো বলেন, মহাত্মা গান্ধী আজীবন লড়াই করেছেন অস্পৃশ্যতা, মানুষে মানুষে হিংসা ও হানাহানির বিরুদ্ধে। অহিংস আন্দোলন করে গোটা ভারতবর্ষে পরিচিতি পেয়েছেন বাপু হিসেবে। বঙ্গবন্ধুও ১৯৭১ সালের মার্চের শুরুতে অসহযোগ আন্দোলনের ডাক দিয়েছিলেন। বাঙালি জাতির স্বাধিকার আন্দোলনে বলিষ্ঠ নেতৃত্ব দিয়েছেন। আজীবন একটি স্বাধীন অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশ গঠনের জন্য লড়াই করেছেন বঙ্গবন্ধু।

সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী কে এম খালিদ বলেন, ভারত-বাংলাদেশের বন্ধুত্বকে বিশ্বব্যাপী তুলে ধরতে এই আয়োজন। মহান দুই নেতাই মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠায় সকল আন্দোলন-সংগ্রাম করেছেন সাধারণ জনগণকে সাথে নিয়ে। তাদের জীবনাদর্শ থেকে নতুন প্রজন্মকে শিক্ষা নিতে হবে।

ভারতীয় হাই কমিশনার বিক্রম কুমার দোরাইস্বামী বলেন, বাংলাদেশ ও ভারতের জনগণের সংগ্রাম একসূত্রে গাঁথা। দুই দেশের ইতিহাস-ঐতিহ্যের মেলবন্ধন এই প্রদর্শনীতে ফুটে উঠেছে। এই প্রদর্শনী নিউইয়র্কস্থ জাতিসংঘ সদরদপ্তরে ও কলকাতায় আয়োজনের প্রস্তুতি চলছে।

মহাপরিচালক লিয়াকত আলী লাকী বলেন, প্রদর্শনীটি ২২টি তথ্যদেয়াল ও শতাধিক ডিজিটাল মুহুর্তের সমন্বয়ে তৈরি করা হয়েছে। প্রদর্শনীতে ১৯৪৭ সালে এই দু’জন নেতার সরাসরি সাাতের ছবিটিকে তাঁদের রাজনৈতিক আদর্শিক সমন্বয় ও ইতিহাসের বিশেষ বার্তা বাহক হিসেবে উল্লেখ করেন তিনি।

ভারতীয় হাই কমিশন, বাংলাদেশ সরকারের সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয় এবং বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমি সবাইকে আন্তরিকভাবে এই প্রদর্শনী দেখার জন্য আমন্ত্রণ জানাচ্ছে। এই প্রদর্শনীতে অভিজ্ঞতাকে আরও বেশি সমৃদ্ধ করার জন্য অনন্য এবং বিশেষায়িত প্রযুক্তি অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।