বাংলাদেশে স্বর্ণ কেনা বিনিয়োগ হিসেবে কতটা লাভজনক?

48
Social Share

স্টার্ফ রিপোর্টার: বাংলাদেশে বুধবার স্বর্ণের দাম আরেক দফা বাড়ানো হয়েছে। ২০২০ সালের জানুয়ারি থেকে এ পর্যন্ত ১৪ বার দেশের বাজারে সোনার দাম পরিবর্তন হয়েছে।

বাংলাদেশ জুয়েলার্স সমিতি বলছে, নতুন দাম অনুযায়ী আজ থেকে ২২ ক্যারেটের এক ভরি স্বর্ণ কিনতে ৭৪ হাজার ৬৫০ টাকা গুনতে হবে।

২২, ২১ ও ১৮ ক্যারেট — এই তিন মানের স্বর্ণের দাম ভরিতে ১ হাজার ৯৮৩ টাকা বাড়ানো হয়েছে।

স্বর্ণের দাম ক্রমাগত বেড়ে চললেও করোনাভাইরাস মহামারির মধ্যে বিশ্ব জুড়ে এই ধাতু কেনার হার কিংবা চাহিদা কমেনি।

মহামারিতে মানুষের আয় ও স্বাভাবিক বিনিয়োগ কমে গেলেও, এ সময়ে মূলত শেয়ারবাজার বা পুঁজিবাজারে বিনিয়োগে অনিশ্চয়তা সৃষ্টি হয়েছে।

যে কারণে স্বর্ণে বিনিয়োগের প্রতি মানুষের আগ্রহ বেড়েছে বলে মনে করেন বিশেষজ্ঞরা।

স্বর্ণকে বলা হয় ‘সেফ হেভেন’, এর মানে হচ্ছে বড় ক্ষতির আশংকা ছাড়া বিনিয়োগ করা যায় যেখানে।

স্বর্ণ কেনা

স্বর্ণে বিনিয়োগ কি লাভজনক?

বিশ্বের শীর্ষ ধনী এবং সফল বিনিয়োগকারীদের কেউ হয়ত আদর্শ বিনিয়োগ বলতে প্রথমেই স্বর্ণের কথা বলবেন না।

কিন্তু তারপরেও শতাব্দীর পর শতাব্দী ধরে বহু মানুষ নিরাপদ ভেবে স্বর্ণে বিনিয়োগ করে যান।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের অধ্যাপক সায়মা হক বিদিশা বলছেন, বাংলাদেশে সাধারণ মানুষের মধ্যে স্বর্ণে বিনিয়োগ বেশ জনপ্রিয়, গয়না হিসেবে এবং স্বর্ণের বার—দুইভাবেই বাংলাদেশে এ বিনিয়োগ হয়।

তিনি বলেন, “এর বড় কারণ হচ্ছে, বাংলাদেশে পুঁজিবাজারে অনিশ্চয়তার কারণে মানুষের আস্থা অনেক কম। সে কারণে সাধারণ মানুষ স্বর্ণে বিনিয়োগ করেন।

সাধারণ বিনিয়োগকারী অর্থাৎ স্বল্প আয়ের মানুষজনের কাছে স্বর্ণে বিয়োগের আরেকটি বড় কারণ হচ্ছে, স্বর্ণের দাম বাড়লে বা কমলে তাতে আকাশ-পাতাল ফারাক হয় না। ফলে এটি ঝুঁকিমুক্ত।”

বাংলাদেশে ২০২০ সালের জানুয়ারি থেকে এ পর্যন্ত মোট ১৪ বার দেশটির বাজারে স্বর্ণের দাম পরিবর্তন হয়েছে।

তার মধ্যে আটবার বেড়েছে, কমেছে ৬ বার, কিন্তু এই ওঠানামার মধ্যে দাম কখনোই অপ্রত্যাশিত পর্যায়ে পৌঁছেনি।