বাংলাদেশে ঢোকার আপেক্ষায় ভারতের বিভিন্ন স্থলবন্দরে প্রচুর পেঁয়াজের চালান

Social Share

॥ দীপক মুখার্জী ॥
কলকাতা, ১৬ সেপ্টেম্বর, ২০২০ (বাসস) : ভারতের বিভিন্ন স্থলবন্দরে বাংলাদেশের প্রবেশের জন্য দাঁড়িয়ে থাকা পেঁয়াজ বোঝাই ট্রাক ও ওয়াগন গুলো এখন পর্যন্ত বাংলাদেশে ঢোঁকার আনুমতি দেয়নি ভারত সরকার।
তবে, আজকের মধ্যে ভারত সরকারের পক্ষ থেকে পেঁয়াজ বোঝাই ট্রাকগুলোকে বাংলাদেশে ঢোকার আনুমতি দেয়ার সম্ভাবনা রয়েছে বলে দু”দেশের আমদানি রফতানি সংস্থা ও ব্যবসায়ী মহল আশা করছেন।
পেট্রাপোল আমদানি-রফতানি সমিতির সাধারণ স¤পাদক কার্তিক চক্রবর্তী বাসসকে আজ জানান, পেট্রাপোলসহ বিভিন্ন স্থলবন্দরে এই মূহূর্তে আনুমানিক ২০ হাজার মেট্রিক টন পিয়াজ বোঝাই ট্রাক দাঁড়িয়ে আছে বলে জানা গেছে। সোমবার এই নোটিশ জারির আগেই ভারতের বিভিন্ন স্থলবন্দরে শত শত ট্রাক পৌঁছে যায়।
তিনি জানান, সোমবার সকালে বিভিন্ন স্থলবন্দর দিয়ে পেঁয়াজ ভর্তি কয়েকশ ট্রাক বাংলাদেশে ঢুকেছে বা ঢোকার আপেক্ষায় রয়েছে ঠিক সেই মুহূর্তে ভারত সরকারের বাণিজ্য মন্ত্রনালয় থেকে পেঁয়াজ রফতানি বন্ধের নির্দেশ জারি করা হয়। সোমবার সকাল বেলার দিকে পেঁয়াজভর্তি বেশ কিছু ট্রাক বাংলাদেশে ঢুকলেও দুপুরের দিকে আর কোন ট্রাক ঢোকার অনুমতি দেয়া হয়নি।
এই নিয়ে দু’দেশের পেঁয়াজ ব্যবসায়ী ও আমদানি রফতানি সংস্থাগুলোর মাঝে ব্যাপক ক্ষোভের সৃষ্টি হলে মঙ্গলবার ভারতের কেন্দ্রীয় অর্থ মন্ত্রনালয় থেকে বিভিন্ন স্থলবন্দরে কত ট্রাক রয়েছে এবং তাতে পেঁয়াজের পরিমান কত তা সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোকে সত্ত্বর জানাতে বলা হয়। সেই কারণে তাদের ধারণা বুধবার যে কোন সময় ট্রাক ও ওয়াগনগুলো বাংলাদেশে ঢোকার আনুমতি দিতে পারে কেন্দ্রীয় বাণিজ্য মন্ত্রানালয়, জানিয়েছেন কার্তিক চক্রবর্তী।
হিলি স্থল বন্দর আমদানি-রফতানিকারক গ্রুপের সভাপতি হারুন উর রশিদ জানান, বিভিন্নস্থল বন্দরে এখন যে সব পেঁয়াজ ভর্তি ট্রাক ওয়াগন দাঁড়িয়ে আছে এগুলো বাংলাদেশে ঢোকার অনুমতি দেয়া না হলে আচিরেই বেশিরভাগ পেঁয়াজ পচে নষ্ট হবে, এতে দুদেশের পেঁয়াজ ব্যবসায়ীরাই আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্থ হবেন।
হারুন-উর রশিদ জানান, বিভিন্ন স্থল বন্দরে আনুমানিক ২০ হাজার মেট্রিকটন পেঁয়াজ ভর্তি ট্রাক অপেক্ষা করছে, যেগুলো গত রোববার এলসির বিপরীতে সঠিকভবে টেন্ডার প্রক্রিয়া স¤পূর্ণ হয়েই এসেছে এবং তা নিষেধাজ্ঞার আওতায় পড়ার কথা নয়, তার পরেও কেন এই বিপুল পরিমান পেযাঁজ বাংলাদেশে ঢোকার অনুমতি দেয়া হচ্ছেনা না? এই পচনশীল পণ্যটি বাংলাদেশে না গেলে ব্যাপকভাবে আর্থিক ক্ষতির সন্মুখিন হতে হবে দু’দেশের পেঁয়াজ ব্যসায়ীদেরকে।
তিনি বলেন, ‘আমরা মঙ্গলবার ভারতের কেন্দ্রীয় বাণিজ্য মন্ত্রনালয়ের কাছে এ ব্যাপারে সহজ প্রতিকারের দাবি জানিয়েছি। দাবির পরিপ্রেক্ষিতে কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রনালয় মঙ্গলবার পোর্টগুলোর কাছে কি পরিমান পেঁয়াজ রয়েছে এর তথ্য চেয়ে পাঠিয়েছে। আমাদের পক্ষ থেকে ইতোমধ্যে সমস্ত তথ্য বিভিন্ন স্থল বন্দরকে লিখিত জানিয়ে দিয়েছি, এখন দেখার বিষয় ভারত সরকার নিষেধাজ্ঞা জারির পূর্বে টেন্ডারভূক্ত এই পণ্যটি খালাসের অনুমতি দেয় কিনা ?
হিলি বন্দরের সি এন্ড এফ এজেন্ট শংক লাল দাশ বলেছেন, গত বছরও ১১ সেপ্টেম্বর এই ভাবেই হঠাৎ পেঁয়াজ রফতানি বন্ধ করে দেয় ভারত সরকার, সেইবারও বহু পণ্য খালাসের অপেক্ষায় ছিল, তখনও ভারত সরকার অনুমতি দেবে বলা হলেও শেষ পর্যন্ত অনুমতি দেয়নি, তাই শংকরের আশঙ্কা এবারও আবার সেই অবস্থা হয় কিনা তা দেখার বিষয়।
অল ইন্ডিয়া কৃষাণ সভার সাধারণ স¤পাদক অভিজিত নাভালে বলেছেন, কেন্দ্রের এই সিদ্ধান্তে সংশ্লিষ্ট কৃষকেরা মোটেই খুশী নয় বরং তাদেরকে বিশাল আর্থিক দূরবস্থার মধ্যে ফেলে দেয়া হয়েছে। তাই, কেন্দ্রীয় সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে কৃষকরা আন্দালনে সামিল হবে বলে জানিয়েছেন আভিজিত।
মহারাষ্ট্র সরকারের শরীক ন্যাশনাল কংগ্রেস পার্টি (এন সি পি)-র প্রেসিডেন্ট শারদ পাওয়ার আবিলম্বে পেঁয়াজ রফতানি বন্ধের সিদ্ধান্ত বাতিল করার জন্য কেন্দ্রিয় বাণিজ্যমন্ত্রী পিযুষ গোয়েলের নিকট দাবি জানিছেন।
এদিকে, মহারাষ্ট্র নাসিকের বেশ কয়েকজন পেঁয়াজ ব্যবসায়ী জানান, এই মূহূর্তে বাংলাদেশে পেঁয়াজ রফতানি বন্ধের ঘোষণা দেয়া সরকারের একটি ভুল সিদ্ধান্ত, কারণ এ বছর প্রচুর পেঁয়াজের ফলন হওয়ায় প্রতিদিন চাষীরা প্রতি কেজি ২০/২৫ রুপিতে তা বিক্রি করছে। এখন আমরা পেঁয়াজ মজুদ করতে পারবো না। তাদের প্রশ্ন রফতানি না হলে এতো পেঁয়াজ কোথায় রাখা হবে? সব পচে যাবে। তাই, আবিলম্বে এই ব্যবসায়ীরা নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের দাবি জানিয়েছেন।
গত মার্চ মাসে ভারতে প্রতি কেজি পেঁয়াজ বিক্রি হয়েছে ১৫ রুপি দরে। সম্প্রতি দেশটির সবচেয়ে বৃহত্তম পেঁয়াজের বাজার মহারাষ্ট্রের লাসালগাঁওয়ে সেই মূল্য বেড়ে দ্বিগুণ হয়েছে, এর পরে ভারতের সর্বত্র মূল্য বৃদ্ধি অব্যাহত থাকে। এর পরই সোমবার কেন্দ্রীয় বাণিজ্য মন্ত্রনালয় পণ্যটি রফতানি বন্ধের সিদ্ধান্ত নেয় বলে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক সংশ্লিষ্ট মন্ত্রনালয়ের একটি সূত্র এই তথ্য জানায়।