বাংলাদেশে টিকা পৌঁছানো ভারতের কর্তব্য

48
Social Share

বাংলাদেশিদের কাছে কভিড ভ্যাকসিন পৌঁছানোকে ভারত তার কর্তব্য মনে করে বলে জানিয়েছেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। তিনি আশ্বাস দিয়েছেন, বাংলাদেশের উন্নয়নযাত্রায় ভারত সহযোগী হিসেবে থাকবে। গতকাল শনিবার দুপুরে গোপালগঞ্জের কাশিয়ানী উপজেলার ওড়াকান্দিতে হরিচাঁদ ঠাকুরের মন্দিরে পূজা শেষে মতুয়া সম্প্রদায়ের উদ্দেশে বক্তব্য দেওয়ার সময় তিনি এ আশ্বাস দেন।

মোদি বলেন, ‘কভিড মহামারির সময় ভারত ও বাংলাদেশ তাদের সক্ষমতা প্রমাণ করেছে। আজ উভয় রাষ্ট্রই এই মহামারি কঠোরভাবে মোকাবেলা করছে এবং এর বিরুদ্ধে লড়াই করছে। ভারতে তৈরি ভ্যাকসিন বাংলাদেশের নাগরিকদের কাছে পৌঁছানোকে ভারত তার দায়িত্ব বলে মনে করে কাজ করছে।’

নরেন্দ্র মোদি বলেন, ‘সবকা সাথ, সবকা ভিকাশ, সবকা বিশওয়াস’ (সবাইকে সঙ্গে নিয়ে, সবার বিকাশ ও সবাইকে বিশ্বাস) নীতি নিয়ে ভারত আজ এগিয়ে যাচ্ছে। বাংলাদেশ এই অগ্রযাত্রার সহযাত্রী। আবার একই সঙ্গে বাংলাদেশ বিশ্বে উন্নয়ন ও পরিবর্তনের জোরালো দৃষ্টান্ত হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে। বাংলাদেশের এসব প্রচেষ্টায় ভারত সহযাত্রী হিসেবে থাকবে।

ভারতের প্রধানমন্ত্রী বলেন, ভারত ও বাংলাদেশ—উভয়েই বিশ্বে অস্থিতিশীলতা, সন্ত্রাস ও অশান্তির বদলে বিশ্বে শান্তি, স্থিতিশীলতা ও ভালোবাসা দেখতে চায়। উভয় দেশই চায় নিজেদের ও বিশ্বের অগ্রগতি।

ওড়াকান্দি মন্দিরে পূজা করা প্রসঙ্গে ভারতের প্রধানমন্ত্রী জানান, তিনি অনেক বছর ধরেই এই সুযোগের অপেক্ষায় ছিলেন। তিনি বলেন, ‘২০১৫ সালে বাংলাদেশ সফরের সময় আমি ওড়াকান্দি যাওয়ার আগ্রহ প্রকাশ করেছিলাম। আজ আমার সেই স্বপ্ন পূরণ হয়েছে।’

এর আগে গতকাল দুপুর ১টার দিকে ওড়াকান্দিতে মতুয়া সম্প্রদায়ের প্রাণপুরুষ হরিচাঁদ ঠাকুরের মন্দিরে পূজা দেন মোদি। তাঁর আগমন উপলক্ষে এই এলাকায় ছিল নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তাব্যবস্থা। ২৩ মার্চ থেকে নিরাপত্তাজনিত কারণে ঠাকুরবাড়িতে সাধারণ মানুষের যাতায়াত বন্ধ ছিল। পূজা শেষে তিনি সেখানে উপস্থিত ৩০০ জন মতুয়ার সামনে বক্তব্য দেন। দুপুর ২টার দিকে মোদি ঢাকার উদ্দেশে ওড়াকান্দি ত্যাগ করেন।

মোদি গতকাল সকালে ঢাকা থেকে প্রথমে যান সাতক্ষীরার শ্যামনগর উপজেলার যশোরেশ্বরী কালীমন্দিরে। মন্দির প্রাঙ্গণে নারীরা শাঁখ বাজিয়ে এবং উলু দিয়ে মোদিকে স্বাগত জানায়। সকাল সোয়া ১০টার দিকে তিনি যশোরেশ্বরী কালীমন্দিরে পূজায় অংশ নেন। এ সময় তিনি দেবীর মাথায় চূড়া পরান এবং দুটি শাড়ি অর্পণ করেন। পাশাপাশি দেবীর পাদদেশে একটি উত্তরীয় রাখেন দেবীর আশীর্বাদের জন্য, যেটি পূজা শেষে পুরোহিত তাঁর গলায় জড়িয়ে দেন। পূজা চলাকালে দেবীর সামনে সুখাসনে বসে প্রায় ১৫ মিনিট ধরে প্রার্থনা করেন মোদি। পরে দেবীকে একবার প্রদক্ষিণ করে প্রণামের মধ্য দিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে শেষ হয় মোদির পূজা। এরপর তিনি মন্দির প্রাঙ্গণ পরিদর্শন এবং সেখানে উপস্থিত মন্দিরের কয়েকজন সেবকের সঙ্গে মতবিনিময় করেন।

এ সময় মোদি বলেন, ‘আমি মা কালীর সামনে প্রার্থনা করার সুযোগ পেয়েছি। আমি তাঁর কাছে কভিড-১৯ থেকে মানুষের মুক্তির জন্য প্রার্থনা করেছি।’

মোদি আরো বলেন, যখন এই মন্দিরে মা কালীর পূজা অনুষ্ঠিত হয়, তখন এখানে ভারত ও বাংলাদেশের সীমান্ত এলাকা থেকে অনেক ভক্ত আসেন। ফলে তাঁদের জন্য এখানে একটি কমিউনিটি হলের প্রয়োজন, যেটা কালীপূজার সময় আসা ভক্তদের জন্য খুবই ফলপ্রসূ হবে।

সাতক্ষীরা-৪ আসনের সংসদ সদস্য এস এম জগলুল হায়দার বলেন, মোদির আগমনে দুই দেশের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক আরো সুদৃঢ় হবে। বিদেশি অতিথির এই এলাকায় আগমনের ফলে সরকারেরও এলাকাটির প্রতি একটু সুনজর থাকবে এবং এলাকার উন্নয়ন ঘটবে। পাশাপাশি এই এলাকার হিন্দু সম্প্রদায়ের লোকজন মনে করছে, এখন থেকে এলাকাটি একটি তীর্থস্থানে পরিণত হবে।