‘বাংলাদেশের সাম্যবাদী আন্দোলন’ নামে নতুন দল আত্মপ্রকাশ

50
Social Share

‘বাংলাদেশের সাম্যবাদী আন্দোলন’ নামে শ্রমিক শ্রেণির বিপ্লবী দল গঠনের প্রক্রিয়া শুরুর ঘোষণা দেওয়া হয়েছে।

আজ শনিবার (৩ এপ্রিল) সকাল ১১টায় জাতীয় প্রেসক্লাবের কাজী জহুর মিলনায়তনে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এই  ঘোষণা দেওয়া হয়।

বাংলাদেশের সাম্যবাদী আন্দোলন কেন্দ্রীয় পাঠচক্র ফোরাম সদস্য সত্যজিৎ বিশ্বাসের পাঠানো এক বিজ্ঞপ্তিতে এতথ্য জানানো হয়েছে।

বিজ্ঞপ্তিতে দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, সংবাদ সম্মেলনে  লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন বাসদ (মার্কসবাদী) কেন্দ্রীয় পাঠচক্র ফোরামের সমন্বয়ক কমরেড শুভ্রাংশু চক্রবর্তী। সংবাদ সম্মেলন পরিচালনা করেন ফোরামের সদস্য কমরেড মনজুর আলম মিঠু।

লিখিত বক্তব্যে শুভ্রাংশু চক্রবর্তী বলেন, ‘করোনাভাইরাসের সংক্রমণে বাংলাদেশসহ বিশ্বব্যাপী নিপীড়িত শোষিত জনগণের জীবন-জীবিকা ভয়াবহ বিপর্যয়ের মুখে পড়েছে।  অন্যদিকে, পুঁজিপতিগোষ্ঠী রেকর্ড পরিমাণ মুনাফা করে চলেছে। বাংলাদেশে শ্রমিক শ্রেণির দল গড়ে তোলার লক্ষ্যে ১৯৮০ সালে বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দল-বাসদ গঠন করা হয়। কিন্তু এই দলের নেতৃত্ব শ্রমিক শ্রেণির বিপ্লবী দল গড়ে তোলার নীতিগত পদ্ধতিগত সংগ্রাম অনুসরণ না করায় দলটি পেটিবুর্জোয়া দল হিসেবেই থেকে যায়। তাই ২০১৩ সালে বাসদ (মার্কসবাদী) নামে শ্রমিক শ্রেণির দল গঠনের সংগ্রাম শুরু হয়। কিন্তু বাসদ (মার্কসবাদী) গঠনের পর অতীত রাজনীতির নির্মোহ মূল্যায়ন ও অতীতের পেটিবুর্জোয়া রাজনীতির সঙ্গে ছেদ ঘটিয়ে শ্রমিক শ্রেণির দল গঠন প্রক্রিয়ার সাংগ্রামকে বাধাগ্রস্ত করে। তাই বাসদ (মার্কসবাদী) কেন্দ্রীয় কার্যপরিচালনা কমিটির সংখ্যাগরিষ্ঠতার দোহাই দিয়ে অযৌক্তিক মূল্যায়ন ও সিদ্ধান্ত চাপিয়ে দেওয়া হয়। এর প্রতিবাদ করলে কেন্দ্রীয় কার্য পরিচালনা কমিটির সদস্য কমরেড শুভ্রাংশু চক্রবর্তী ও নির্ধারিত ফোরামের ১৬ জন সদস্যকে বহিষ্কার করা হয়।

শুভ্রাংশু চক্রবর্তী আরো বলেন, সারা দেশের বিভিন্ন স্তরের নেতাকর্মী, সমর্থক বাসদ (মার্কসবাদী) কেন্দ্রীয় কার্য পরিচালনা কমিটির এ অযৌক্তিক সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে দাঁড়িয়ে গত এক বছর ধরে বাসদ (মার্কসবাদী) পাঠচক্র ফোরাম নামে শ্রমিক শ্রেণির বিপ্লবী দল গড়ে তোলার লক্ষ্যে কার্যক্রম পরিচালনা করেছি। অতীতের ভুল-ভ্রান্তি থেকে শিক্ষা নিয়ে এবং অতীত দিনের পেটিবুর্জোয়া রাজনীতির সঙ্গে ছেদ ঘটিয়ে বাংলাদেশের মাটিতে শ্রমিক শ্রেণির বিপ্লবী দল গঠনের সংগ্রাম পরিচালনা করার লক্ষ্যে ‘বাংলাদেশের সাম্যবাদী আন্দোলন’ নামে একটি নতুন দল গঠন প্রক্রিয়ার ঘোষণা করা হয়। শ্রমিক শ্রেণি দলের পরিপূর্ণ শর্ত পূরণের আগ পর্যন্ত এটি একটি দল গঠন প্রক্রিয়া হিসেব থাকবে। শোষণমুক্ত সমাজ প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে সংগ্রাম পরিচিলনা এবং বিদ্যমান পুঁজিবাদী, সাম্রাজ্যবাদী বিশ্ব ব্যবস্থার নির্মম ফ্যাসিবাদী শাসন শোষণের বিরুদ্ধে গণতান্ত্রিক অধিকার প্রতিষ্ঠার লড়াই বেগবান করতে সচেষ্ট থাকবে।