বাংলাদেশের এসএমইখাতের উন্নয়নে কাজ করতে আগ্রহী তুরস্ক

Social Share

বাংলাদেশের ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পখাতের (এসএমই) উন্নয়নে তুরস্ক কাজ করতে আগ্রহী বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশে নিযুক্ত তুরস্কের রাষ্ট্রদূত মুস্তাফা ওসমান তুরান (Mr. Mustafa Osman Turan) । তিনি বলেন, এসএমই শিল্পখাতে তুরস্কের দীর্ঘদিনের অভিজ্ঞতা রয়েছে। এ অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে দু’দেশের শিল্পোদ্যোক্তারাই  লাভবান হতে পারে।

আজ শিল্পমন্ত্রী নুরুল মজিদ মাহমুদ হুমায়ূন এমপি এর সাথে ভার্চুয়াল মাধ্যমে অনুষ্ঠিত বৈঠকে  তুরস্কের রাষ্ট্রদূত এ আগ্রহ প্রকাশ করেন। এসময় শিল্প মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব বেগম পরাগসহ  শিল্প মন্ত্রণালয় এবং পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা অনলাইনে সংযুক্ত ছিলেন।
বৈঠকে দ্বিপাক্ষিক স্বার্থ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা হয়। এসময় বাংলাদেশের উদীয়মান শিল্পখাতে তুরস্কের বিনিয়োগ, মান অবকাঠামোর উন্নয়ন, দু’দেশের মধ্যে  ব্যবসায়িক প্রতিনিধিদলের সফর বিনিময়, ডিজিটাল প্লাটফর্মে এসএমই উদ্যোক্তাদের মধ্যে দ্বিপাক্ষিক যোগাযোগ ও সহযোগিতার ক্ষেত্র চিহ্নিতকরণসহ অন্যান্য বিষয় আলোচনায় স্থান পায়।
বৈঠকে শিল্পমন্ত্রী বাংলাদেশ ও তুরস্কের মধ্যে  বাণিজ্য প্রসারের সুযোগ রয়েছে উল্লেখ করে বলেন, দ্বিপাক্ষিক উদ্যোগের মাধ্যমে এসএমই খাতের উন্নয়ন ঘটিয়ে এ সুযোগ কাজে লাগানো সম্ভব।  টেকসই ও প্রযুক্তিনির্ভর এসএমইখাত গড়ে তোলার লক্ষ্যে বাংলাদেশ সরকার ইতিমধ্যে জাতীয় এসএমই নীতি প্রণয়ন করেছে। এ নীতির আওতায় উদ্যোক্তাদের ঋণ সুবিধা, প্রশিক্ষণ, বিপণন, পণ্য বৈচিত্র্যকরণ, বাজার লিংকেজ স্থাপনসহ বিভিন্ন ধরনের সহায়তা দিচ্ছে। তিনি বাংলাদেশের এসএমই খাতের উন্নয়নে তুরস্কের সহযোগিতার প্রস্তাবকে স্বাগত জানান।
তুরস্কের রাষ্ট্রদূত বাংলাদেশের সাথে ঐতিহাসিক বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্কের কথা উল্লেখ বলেন, মুসলিম ভাতৃপ্রতিম দেশ হিসেবে তুরস্ক বাংলাদেশের সাথে আর্থ-সামাজিক সম্পর্ক জোরদারে বিশেষভাবে আগ্রহী। দুই দেশেরই  দ্রুত বর্ধনশীল অর্থনীতির উল্লেখ করে তিনি বলেন, শিল্পখাতে বিদ্যমান সম্ভাবনার উপযুক্ত ব্যবহার পারস্পরিক অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি অর্জনে অবদান রাখতে পারে। তিনি দু’দেশের মধ্যে বাণিজ্য প্রতিনিধিদলের সফর বিনিময়ের ওপর গুরুত্ব দেন। করোনা পরিস্থিতিতে ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পখাতের  সম্ভাবনা কাজে লাগাতে তিনি ডিজিটাল প্লাটফর্মে ম্যাচ-মেকিং ইভেন্ট এবং অগ্রাধিকার খাত চিহ্নিত করে ফোকাসড মিটিং আয়োজনের ওপর গুরুত্ব দেন।
শিল্পমন্ত্রী এসএমই ফাউন্ডেশনের মাধ্যমে এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেয়া হবে বলে রাষ্ট্রদূতকে জানান। এসএমই খাতের উন্নয়নে তুরস্কের যে কোনো ইতিবাচক প্রস্তাব বাস্তবায়নে শিল্প মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে সম্ভব সব ধরনের সহায়তা দেওয়া হবে বলে তিনি উল্লেখ করেন।