বাংলাদেশি অভিবাসীদের সুরক্ষায় সরকার সচেষ্ট রয়েছে: পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী

16
Social Share

পররাষ্ট্র  প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলম বলেছেন, সরকারি-বেসরকারি অংশীদারিত্বের মাধ্যমে বাংলাদেশি অভিবাসীদের সুরক্ষায় সরকার সচেষ্ট রয়েছে। মুজিববর্ষ উপলক্ষ্যে জর্ডানস্থ বাংলাদেশ দূতাবাস আয়োজিত ‘বেটারিং লেবার মোবিলিটি ফর বেটারিং ইন্টারকানেক্টিং ইকনমিস’-শীর্ষক ওয়েবিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি একথা বলেন।

এসময় পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বলেন,অভিবাসন বিষয়ে কোন দেশ একা কাজ করতে পারে না। দায়িত্ব ভাগাভাগি এবং পারস্পারিক সহযোগিতা অভিবাসন পরিচালনার চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বাংলাদেশ সরকার অভিবাসীদের মর্যাদার উন্নয়নকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেয়।

শাহরিয়ার আলম বলেন, একটি দক্ষ অভিবাসন প্রক্রিয়া অভিবাসী এবং স্থানীয় জনগণ প্রত্যেকের জন্যই সুযোগ তৈরি করতে পারে। এটি যেকোনো সীমানা অতিক্রম করে দেশ এবং মহাদেশগুলোর মানুষকে বিভিন্ন আঙ্গিকে সংযুক্ত হতে সহায়তা করে। তা সত্ত্বেও অনেক সময় বিশ্বব্যাপী ভীতি, নিয়ন্ত্রণ এবং সার্বভৌমত্বের শঙ্কার কথা বলে মানব গতিশীলতাকে বিতর্কিত বিষয়ে পরিণত করার চেষ্টা করা হয়। গ্লোবাল মাইগ্রেশন প্রশাসনের শক্তিশালী প্রবক্তা হিসাবে গ্লোবাল কম্প্যাক্ট ফর মাইগ্রেশন (জিসিএম) বাস্তবায়নের মাধ্যমে নিরাপদ, সুশৃঙ্খল এবং সুষ্ঠ মানব গতিশীলতার জন্য একটি কার্যকর কাঠামো স্থাপনের ওপর বাংলাদেশ সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেয়। বাংলাদেশের গৃহীত কর্মসূচি বাস্তবায়নে জাতিসংঘের সংস্থা এবং সুশীল সমাজ সক্রিয় ভুমিকা পালন করবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

জর্ডানস্থ বাংলাদেশ রাষ্ট্রদূত নাহিদা সোবহানের সঞ্চালনায় ওয়েবিনারে বিশেষ অতিথি হিসেবে যুক্ত হন বাংলাদেশের প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের সচিব ডক্টর আহমেদ মুনিরুছ সালেহীন এবং জর্ডান সরকারের শ্রম মন্ত্রণালয়ের সচিব ফারুক আল হাদিদি। এছাড়া বিশেষ বক্তা ছিলেন মধ্য প্রাচ্য ও পশ্চিম এশিয়া বিষয়ক অনুবিভাগের মহাপরিচালক এ এফ এম বোরহান উদ্দিন, জর্ডানে নিযুক্ত আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থার (আইওএম) মিশন প্রধান মিসেস তাজমা কুর্ট, আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থা (আইএলও-এর দক্ষিণ এশিয়া অঞ্চলের আঞ্চলিক শ্রম অভিবাসন বিশেষজ্ঞ শাবারিনাথ নায়ের এবং জর্ডানের আন্তর্জাতিক সংস্থা, মেডা’র (এম-ই-ডি-এ)কান্ট্রি ডিরেক্টর আহসান উল হক হেলাল।

রাষ্ট্রদূত নাহিদা সোবহান তার স্বাগত বক্তব্যে বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দিক নির্দেশনায় একটি নিরাপদ ও সুশৃঙ্খল অভিবাসন বাংলাদেশের উন্নয়ন পরিকল্পনার একটি অগ্রাধিকার বিষয়। শ্রম অভিবাসন অভিবাসীদের জীবনমান উন্নয়নের পাশাপাশি অভিবাসীর নিজের দেশ ও গন্তব্য রাষ্ট্রে অর্থনৈতিক উন্নয়নে ভুমিকা রাখে। তাই অভিবাসী শ্রমিকদের সুরক্ষা ও মানসম্মত জীবন নিশ্চিত করার মাধ্যমে সকলের অর্থনৈতিক উন্নয়ন সম্ভব। পৃথিবীর বেশিরভাগ দেশই একাধারে অভিবাসী প্রেরণকারী ও গন্তব্য রাষ্ট্রের ভুমিকা পালন করে। বাংলাদেশ অভিবাসী প্রেরণকারী দেশ হিসেবে পরিচিত হওয়া সত্ত্বেও বাংলাদেশে প্রায় ২.১ মিলিয়ন অভিবাসী রয়েছে।

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের সচিব ডক্টর আহমেদ মুনিরুছ সালেহীন বলেন, নিরাপদ ও নৈতিক অভিবাসন নিশ্চিত করার জন্য সরকার এককভাবে চূড়ান্ত লক্ষ্য অর্জন করতে পারে না। বাংলাদেশ সরকার বিভিন্ন পরিস্থিতিতে বিভিন্ন দেশ থেকে ফিরে আসা অভিবাসী পুনরায় সামাজিক ও অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী করার জন্য বিভিন্ন উদ্যোগ নিয়েছে। বাংলাদেশ সরকার মানসম্মত অভিবাসন নিশ্চিত করতে বদ্ধ পরিকর। চতুর্থ শিল্প বিপ্লব মোকাবিলার লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় দক্ষ জনবল তৈরিতে সরকার বিভিন্ন পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে। তিনি নিরাপদ এবং সুষ্ঠু অভিবাসন নিশ্চিত করার জন্য সকল অংশীজনের সহযোগিতার আহ্বান জানান।

জর্ডানের শ্রম মন্ত্রণালয়ের সচিব ফারুক আল হাদিদি বলেন, জর্ডান সব সময়ই অভিবাসীদের জর্ডানের অর্থনৈতিক উন্নয়নের অংশীদার হিসেবে বিবেচনা করে। পেশাগত প্রয়োজনে ও শরণার্থী হিসেবে অবস্থান করা সকল অভিবাসীর ক্ষেত্রেই জর্ডান সরকারের মানবিক দৃষ্টিভঙ্গি রয়েছে।

জর্ডানের অর্থনীতিতে বাংলাদেশি পোশাক শ্রমিকদের ভুমিকার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, জর্ডানে বাংলাদেশি শ্রমিকের চাহিদার কারণে পোশাক শিল্পে কর্মরত শ্রমিকের প্রায় অর্ধেকের বেশিই বাংলাদেশি। দক্ষিণ এশিয়ার একটি মুসলিম দেশের নারীর ক্ষমতায়ন ও বিভিন্ন সুচকে অগ্রগতি নিঃসন্দেহে প্রশংসার দাবিদার। জর্ডানের প্রবাসী শ্রমিকদের স্বার্থ সুরক্ষা ও নিরাপত্তা নিশ্চিতকল্পে সরকার অত্যন্ত আন্তরিক বলে তিনি উল্লেখ করেন। অভিবাসন বিষয়ে এই ধরনের অনুষ্ঠান আয়োজনের জন্য তিনি বাংলাদেশ দূতাবাসকে আন্তরিকভাবে অভিনন্দন জানান।

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মধ্য প্রাচ্য ও পশ্চিম এশিয়া অনুবিভাগের মহাপরিচালক এ এফ এম বোরহান উদ্দিন বাসন একটি স্বাভাবিক ও প্রয়োজন সাপেক্ষ বিষয়। মানুষ তার নিজেদের প্রয়োজনেই এই প্রক্রিয়ায় অংশ গ্রহণ করে। এই বিষয়টির সাথে অর্থনৈতিক বিষয়টি ওতপ্রোত ভাবে জড়িত। নিরাপদ ও পরিকল্পিত অভিবাসন প্রক্রিয়া অর্থনীতির জন্য সুফল বয়ে আনে। তবে অভিবাসীদের গন্তব্য রাষ্ট্রে তাদের জন্য সুরক্ষা ও নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করা জরুরি। অভিবাসী শ্রমিকদের ন্যায্য অধিকার ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করা গন্তব্য রাষ্ট্রেরই দায়িত্ব। অভিবাসীদের যেন কোন ধরনের নির্মম ও অমানবিক পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয় সে বিষয়টি বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে বিবেচনা করা উচিত।  তিনি এই বিষয়ে ভবিষ্যৎ কর্মপন্থার আলোকে কিছু উল্লেখযোগ্য প্রস্তাবনা রাখেন।