বাংলাদেশকে মন খারাপের দিন উপহার দিল ভারত

শেষ বিকেলে প্রথম ইনিংস খেলতে নেমে বেশ ভালোভাবেই দিন শেষ করল স্বাগতিক ভারত। শুরুতেই রোহিত শর্মার বিদায় বাংলাদেশকে কিছুটা স্বস্তি দিলেও তা স্বপ্ল সময়ের মধ্যেই উবে যায়। এমনিতেই মাত্র দেড়শ রানের পূঁজি, তার ওপর ক্যাচ ছাড়ার মিশনে নামেন ইমরুল কায়েসরা। ফলাফল যা হওয়ার তাই হয়েছে। নিজেদের প্রথম ইনিংস খেলতে নামা ভারত দিন শেষ করেছে ১ উইকেটে ৮৬ রান তুলে। ৮ নম্বর পর্যন্ত বিশাল ব্যাটিং লাইন-আপ নিয়ে নামা ভারতকে কত রানে ঠেকাতে পারবে টাইগাররা, সেটাই এখন দেখার।

বাংলাদেশকে দেড়শ রানে প্যাকেট করে দিয়ে ইন্দোর টেস্টের প্রথম দিনেই নিজেদের প্রথম ইনিংসে ব্যাটিংয়ে নেমে সাবধানী শুরু করে ভারত। তবে তাদের উদ্বোধনী জুটি বেশিদূর এগোতে পারেনি। দলীয় ১৪ রানে দুর্দান্ত ফর্মে থাকা রোহিত শর্মা শিকার হন আবু জায়েদ রাহীর। ৬ রান করা রোহিত রাহীর বলে ক্যাচ দেন লিটন দাসের গ্লাভসে। এরপর শক্ত হাতে হাল ধরেন অপর ওপেনার মায়াঙ্ক আগরওয়াল এবং চেতেশ্বর পূজারা। ২৪তম ওভারে আরেকটি উইকেট পেতে পারতেন আবু জায়েদ। তবে ফার্স্ট স্লিপে মায়াঙ্কের ক্যাচ ছাড়েন ইমরুল কায়েস। মায়াঙ্ক ৩৭* এবং পূজারা ৪৩* রানে অপরাজিত থেকে দিন শেষ করেন। ভারতের সংগ্রহ ১ উইকেটে ৮৬ রান।

এর আগে আজ বৃহস্পতিবার ইন্দোর টেস্টের প্রথম দিনের দুই সেশসনেই টাইগাররা অল-আউট হয়ে গেছে মাত্র ১৫০ রানে! টস জিতে ব্যাটিংয়ে নেমেই টাইগারদের বিপদের শুরু। ১২ রানের মধ্যে ফিরে যান দুই ওপেনার। ব্যাটিংয়ে নেমে প্রথম তিন ওভারে কোনো রান নিতে পারেনি বাংলাদেশ। চতুর্থ ওভারে একটি করে সিঙ্গেল নেন দুই ওপেনার। উমেশ যাদবের করা ৬ষ্ঠ ওভারের শেষ বলে দৃষ্টিকটূ শট খেলতে গিয়ে থার্ড স্লিপে ক্যাচ তুলে দেন ১৮ বলে ৬ রান করা ইমরুল। সাদমানও (৬) বেশিক্ষণ টিকতে পারেননি। ইশান্ত শর্মার বলে আলগা শট খেলতে গিয়ে উইকেটকিপারে গ্লাভসে বল পাঠিয়ে দেন তিনি।

এই পরিস্থিতিতে মোহাম্মদ মিঠুনকে নিয়ে বিপদ সামলানোর চেষ্টা করেন অধিনায়ক মুমিনুল হক। ১১ ওভারের মতো কাটিয়ে দেন তারা। ১৮তম ওভারের শেষ বলে মিঠুনকে (১২) লেগ বিফোর উইকেটের ফাঁদে ফেলেন ভারতীয় পেসার মোহাম্মদ শামি। উইকেটে আসেন মুশফিকুর রহিম। মধ্যাহ্ণ বিরতি পর্যন্ত এই দুই অভিজ্ঞ ব্যাটসম্যান দলকে এগিয়ে নিয়ে যান। ২৩.৬ ওভারে ৫০ স্পর্শ করে বাংলাদেশ। ৩ উইকেটে ৬৩ রান নিয়ে মধ্যাহ্ন বিরতিতে যায় বাংলাদেশ। বিরাট কোহলি আর আজিঙ্কা রাহানে ক্যাচ ছাড়ায় দুইবার জীবন পান মুশফিক।

ব্যক্তিগত ৩৪ রানে উইকেটকিপার ঋদ্ধিমান সাহার সৌজন্যে মুশফিকুর রহিম তৃতীয় দফায় জীবন পাওয়ার পরপরই মাহমুদউল্লাহকে (১০) বোল্ড করে দেন রবিচন্দ্রন অশ্বিন। ১১৫ রানে ৫ উইকেট হারায় বাংলাদেশ। ভায়রা-ভাইয়ের বিদায়ের পর ফেরার পালা মুশফিকের। তিনবার জীবন পেয়েও বড় ইনিংস খেলতে পারেননি তিনি। ৪৩ রান করে বোল্ড হন মোহাম্মদ শামির বলে। এই পেসারের পরের বলেই ২১ ম্যাচের টেস্ট ক্যারিয়ারে প্রথমবার ‘গোল্ডেন ডাকের’ তেতো স্বাদ পান মেহেদী মিরাজ।

লিটন দাস আরেকটি সুযোগ পেয়েও ব্যর্থ হন। ফিরেছেন ২১ রানে। এর মধ্যে আবার ৪টি বাউন্ডারি। ১৪০ রানে ৮ উইকেট হারায় বাংলাদেশ। সফরকারীদের ৯ম উইকেটের পতন হয় তাইজুল ইসলামের বিদায়ে। অযথা কুইক সিঙ্গেল নিতে গিয়ে রান-আউট হয়ে যান ‘নাইট ওয়াচম্যান’ খ্যাত এই স্পিনার। এবাদত হোসেনকে (২) উমেশ যাদব বোল্ড করে দিলে মাত্র ১৫০ রানে প্যাকেট হয়ে যায় বাংলাদেশ। ৩ উইকেট নিয়েছেন মোহাম্মদ শামি। ২টি করে উইকেট নিয়েছেন ইশান্ত শর্মা, উমেশ যাদব আর রবিচন্দ্রন অশ্বিন।