বলিউডে প্রথম ছবি ব্লকবাস্টার ‘মহাব্বঁতে’-এর পরেও ইন্ডাস্ট্রি থেকে হারিয়ে গেলেন প্রীতি

Social Share

প্রথম মিউজিক ভিডিয়োতেই আকাশছোঁয়া জনপ্রিয়তা। তার রেশ ধরে রাখতে পেরেছিলেন ছবিতেও। কিন্তু বেশিদিন সাফল্য়ের স্বাদ থাকল না প্রীতি ঝঙ্গিয়ানীর কাছে। অতীতের সুপারহিট এই নায়িকা এখন বিস্মৃত দর্শকমনে।

মুম্বইয়ের এক সিন্ধি পরিবারে প্রীতির জন্ম ১৯৮০-র ১৮ অগস্ট। জি ডি সোমানি মেমোরিয়াল স্কুল, সেন্ট জোসেফস কনভেন্ট স্কুলের পরে প্রীতির পড়াশোনা জয় হিন্দ কলেজে।

বিনোদন দুনিয়ায় প্রীতি পা রাখেন ‘ইয়ে হ্য়ায় প্রেম’ মিউজিক ভিডিয়োর হাত ধরে। এই ভিডিয়ো তাঁর পাশাপাশি জনপ্রিয় করেছিল একটি বিশেষ সফ্ট টয়কেও। মিউজিক ভিডিয়োর জনপ্রিয়তা প্রীতিকে কাজের সুযোগ করে দেয় বিজ্ঞাপনে।

বড় পর্দায় প্রথম সুযোগ দক্ষিণী ইন্ডাস্ট্রিতে। তামিল, তেলুগু ও মালয়লম ভাষায় পর পর তিনটি ছবি করার পরে অবশেষে ডাক বলিউড থেকে। প্রথম ছবিতেই যশরাজের ব্যানার। ২০০০ সালে মুক্তি পেল প্রীতির প্রথম হিন্দি ছবি ‘মহাব্বঁতে’।

নবাগত ও প্রবীণ, দু’ধরনের কুশীলবদের নিয়ে তৈরি হয়েছিল ‘মহাব্বঁতে’। পরিচিতি পেলেও এই ছবি প্রীতিকে নায়িকা হিসেবে আলাদা কোনও মাইলেজ দেয়নি। বহু তারকাখচিত ছবির একটি মুখ হয়েই থেকে যান তিনি।

এরপর বেশ কিছু হিন্দি ছবিতে অভিনয় করেন প্রীতি। ‘না তুম জানো না হম’,‘আওয়ারা পাগল দিওয়ানা’, ‘এলওসি কার্গিল’, ‘চাহত’, ‘চেহরা’-সহ বেশ কিছু বলিউডি ছবির নায়িকা ছিলেন প্রীতি। কিন্তু তাঁর প্রথম হিন্দি ছবির মতো বড় মাপের ছবি কোনওদিন ফিরে পাননি।

হিন্দির পাশাপাশি প্রীতি কাজ করছিলেন দক্ষিণী ইন্ডাস্ট্রিতেও। অভিনয় করেছিলেন বাংলা, পঞ্জাবি এবং একটি উর্দু ছবিতেও। মোট আটটি ভারতীয় ভাষার ছবিতে অভিনয় করেছেন প্রীতি।

কিন্তু বলিউড  থেকে তিনি ধীরে ধীরে হারিয়েই যান। ২০১৩ সালে মুক্তি পেয়েছিল তাঁর শেষ হিন্দি ছবি ‘কাশ তুম হোতে।’

২০০৮ সালে প্রীতি বিয়ে করেন অভিনেতা-পরিচালক-মডেল প্রবীণ দাবাসকে।দুই ছেলে জয়বীর এবং দেবকে নিয়ে প্রীতির ভরপুর সংসার। তবে প্রীতি নিজে কিন্তু মানতে চান না তিনি ইন্ডাস্ট্রি থেকে হারিয়ে গিয়েছেন।

২০১৭ সালে প্রীতি একটি রাজস্থানি ছবিতে অভিনয় করেছিলেন। এছাড়া গত সাত বছরে আর কোনও ছবিতে তিনি অভিনয় করেননি। প্রীতির দাবি, তিনি পূর্ণদৈর্ঘ্যের ছবিতে অভিনয় করেননি ঠিকই। কিন্তু প্রচুর ইভেন্টে অংশ নিয়েছেন।

দু’ বছর আগে এক সাক্ষাৎকারে প্রীতি জানিয়েছেন, তিনি আবার কাজে ফিরছেন।  অভিনয় করতে চলেছেন নবাগত পরিচালকদের ছবিতে। কিন্তু সে ছবি থেকে গিয়েছে পরিকল্পনার স্তরেই। মুক্তি পায়নি সিনেমাহলে।

তবে কেরিয়ারে দু’ দশক পেরিয়েও প্রীতি স্বীকার করেন, তিনি দু’টো পরিচয় কোনওদিন কাটিয়ে উঠতে পারবেন না। ‘রাজশ্রী গার্ল’ এবং ‘মহাব্বঁতে গার্ল’।এই দু’টি পরিচয় এখনও উপভোগ করেন প্রীতি। জানিয়েছেন তিনি।

ওই একই সাক্ষাৎকারে প্রীতি আক্ষেপও করেছেন তাঁর কেরিয়ার নিয়ে। তাঁর কথায়, বলিউডে তাঁকে পথ দেখাবার কেউ ছিল না। ভাল ম্যানেজারের অভাবেই কেরিয়ার মসৃণ হয়নি বলে মনে করেন প্রীতি। কারণ, তাঁর কথায় ইন্ডাস্ট্রিতে টিকে থাকা কার্যত কর্পোরেট চাকরিরই নামান্তর।

তাঁর কথায়, যে রকম সুযোগ তিনি পেয়েছেন, তিনি অভিনয় করেছেন। তাঁর বাড়ির কেউ এই ইন্ডাস্ট্রিতে ছিলেন না। ফলে নিজের সিদ্ধান্তে ভুল ছিল কোথাও কোথাও, সে কথাও স্বীকার করেন প্রীতি।

ইন্ডাস্ট্রিতে বহিরাগত না হলে সুযোগ পেতে সুবিধে হয়। এ কথা স্বীকার করেন প্রীতি। তবে একইসঙ্গে তিনি মনে করেন স্বজনপোষণ থাকলেও একটা সময়ের পরে নিজেকে প্রমাণ করতেই হয়।