বর্তমান সরকার তরুণ ও যুব সমাজকে দক্ষ জনশক্তিতে রূপান্তর করে কর্মসংস্থানের নিশ্চয়তা প্রদানে বদ্ধপরিকরঃ যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী 

Social Share

‘বিশ্ব যুব দক্ষতা দিবস’ উপলক্ষে ‘অদম্য যুবদের জন্য দক্ষতা- SkILLS for a resilient YOUTH’ – এ প্রতিপাদ্য বিষয়ের উপর  আজ বিকাল ৩.০০টায় যুব উন্নয়ন অধিদপ্তর কর্তৃক অনলাইনভিত্তিক এক আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়। আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের মাননীয় প্রতিমন্ত্রী জনাব জাহিদ আহসান রাসেল, এমপি। অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ে সচিব জনাব মোঃ আখতার হোসেন উপস্থিত ছিলেন। এ আলোচনা সভায় সভাপতিত্ব করেন যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের  মহাপরিচালক জনাব আখতারুজ জামান খান কবির (অতিরিক্ত সচিব)। যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের উর্ধ্বতন কর্মকর্তা, ৮টি বিভাগীয় জেলা ও অন্যান্য ২০টি জেলার  উপপরিচালক/কো-অর্ডিনেটর/ডেপুটি কো-অর্ডিনেটর, ৬৪ জেলা হতে যুব সংগঠক, সাবেক ও  বর্তমান প্রশিক্ষণার্থীগণ এ আলোচনা সভায়  অনলাইনে যুক্ত হন।

বাঙালি জাতির স্বপ্নদ্রষ্টা হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ বাঙালি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে কৃতজ্ঞচিত্তে স্মরণ করে প্রধান অতিথির বক্তব্যে যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের মাননীয় প্রতিমন্ত্রী জনাব জাহিদ আহসান রাসেল. এমপি – বলেন এ মহান নেতার জন্ম শতবার্ষিকীতে কেউ কর্মহীন থাকবে না। বঙ্গবন্ধুর সুযোগ্য তনয়া বর্তমান সরকারের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা  ঘোষিত রূপকল্প ২০২১ ও ২০৪১ এবং জাতিসংঘ ঘোষিত টেকসই উন্নয়ন এর অভিষ্ট নির্ধারিত সময়ের মধ্যে অর্জনে সরকার বদ্ধপরিকর।  রূপকল্প ২০২১ ও ২০৪১ এবং জাতিসংঘ ঘোষিত টেকসই উন্নয়ন অভিষ্ট অর্জন দেশের জন্য এক বিরাট চ্যালেঞ্জ। এ চ্যালেঞ্জ মোকাবেলার জন্য দেশের সকল কর্মক্ষম মানুষ বিশেষ করে যুবসমাজকে দক্ষ করে গড়ে তোলা প্রয়োজন। রূপকল্প ও টেকসই উন্নয়নের অভিষ্ট অর্জনের লক্ষ্যে প্রযুক্তি নির্ভর  শিক্ষা ও প্রশিক্ষণে যুবসমাজের অংশগ্রহণের কোন বিকল্প নেই। এজন্য দেশের যুবসমাজকে কারিগরি শিক্ষায় শিক্ষিত করে গড়ে তুলতে হবে। মাননীয় মন্ত্রী বলেন বর্তমান সরকার তরুণ ও যুব সমাজকে দক্ষ জনশক্তিতে রূপান্তর করে কর্মসংস্থানের নিশ্চয়তা প্রদানে বদ্ধপরিকর।   বর্তমান সরকারের মূল অঙ্গীকার “তারুণ্যের শক্তি, বাংলাদেশের সমৃদ্ধি”। তারুণ্যের শক্তিকে দক্ষ মানব সম্পদে রূপান্তরের লক্ষ্যে সরকার দেশের প্রতিটি উপজেলায় ‘যুব প্রশিক্ষণ-বিনোদন’ কেন্দ্র স্থাপনের উদ্যোগ গ্রহণ করেছে।
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের সচিব জনাব মোঃ আখতার হোসেন বলেন-যবুসমাজই দেশের প্রাণশক্তি। তিনি বলেন- বিশ্ব যুব দক্ষতা দিবস ২০২০ একটি চ্যালেঞ্জিং সময়ে অনুষ্ঠিত হচ্ছে। কোভিড-১৯ মহামারী এবং লকডাউন ব্যবস্থা বিশ্বব্যাপী দক্ষতা বিকাশের ধারাবাহিকতাকে হুমকির মুখে ফেলেছে। দক্ষ যুবসমাজের বিকাশের গুরুত্ব বিবেচনা করে এবারের বিশ্ব যুব দক্ষতা দিবসের প্রতিপাদ্য নির্ধারণ করা হয়েছে ‘‘Skills for a Resilient Youth’’ উল্লিখিত প্রেক্ষাপট বিবেচনায় যুবদের উৎপাদিত পণ্য বাজারজাতকরণের যে চ্যালেঞ্জ তা সফলভাবে মোকাবেলার জন্য একটি ‘‘যুব ব্র্যান্ড’ প্রতিষ্ঠা করতে হবে। যার মাধ্যমে গ্রামীণ ও প্রান্তিক যুব জনগোষ্ঠিকে অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী করা সম্ভব হবে এবং আগ্রহী ও উদ্যোগী যুবদের উৎপাদিত পণ্য বিপণন ও বিক্রয়ে ইতিবাচক ভূমিকা রাখা যেতে পারে।  ইতোমধ্যে যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে যুবদের অনলাইন মার্কেটিং চ্যানেল তৈরির লক্ষ্যে প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে ‘‘পাইকারী সেল ডট কম’।  যুবদের মেধা, শ্রম ও উদ্ভাবনী ক্ষমতাকে কাজে লাগাতে পারলে সরকারের পক্ষে টেকসই উন্নয়ন অভীষ্ট (SDG) ২০৩০ ও রূপকল্প ২০৪১ বাস্তবায়ন তথা একটি সমৃদ্ধ বাংলাদেশ বিনির্মাণ সম্ভব হবে।
সভাপতির বক্তব্যে যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের সুযোগ্য মহাপরিচালক জনাব আখতারুজ জামান খান কবির (অতিরিক্ত সচিব) বলেন যুব উন্নয়ন অধিদপ্তর যুবদের দক্ষতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে নিরন্তর কাজ করে যাচ্ছে। তিনি বলেন- যুবদের দক্ষতা বৃদ্ধিকল্পে যুব উন্নয়ন অধিদপ্তর ৬৪টি জেলা প্রশিক্ষণ কেন্দ্র, ৬৪টি আবাসিক যুব প্রশিক্ষণ কেন্দ্র এবং ৪৯৬টি উপজেলা কার্যালয়ের মাধ্যমে ৪১টি প্রাতিষ্ঠানিক ও ৪২টি অপ্রাতিষ্ঠানিক ট্রেডে নিয়মিত যুবদের দক্ষতাবৃদ্ধিমূলক প্রশিক্ষণ কার্যক্রম পরিচালনা করছে। এ পর্যন্ত মোট ৬১,২৪,৫৭৮ জন যুবকে প্রশিক্ষণ প্রদান করেছে, এদের মধ্যে ২২,৭৯,৭৪৭ জন আত্মকর্মী এবং ২৫,৩৫৭ জন উদ্যোক্তায় পরিণত হয়েছে। যাদের মাসিক আয় ১০ হাজার টাকা থেকে ০১ লক্ষ টাকা বা ততোধিক।  মহাপিরিচালক আরো বলেন- কোভিড-১৯ পরবর্তী সমাজের চ্যালেঞ্জগুলো সফলভাবে মোকাবেলা করে ভবিষ্যতের বাধাগুলি মানিয়ে নিয়ে পুনরুদ্ধারের প্রচেষ্টাতে আমাদের যুবসমাজ যাতে করে অবদান রাখতে পারে সে লক্ষ্যে  যুব উন্নয়ন অধিদপ্তর  কর্তৃক ‘‘করোনা পরিস্থিতিতে যুবদের জন্য গ্রামে উদ্যোক্তা সৃষ্টি ও দারিদ্র্য হ্রাসকরণ ‘শীর্ষক  প্রকল্প গ্রহণের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। যার আওতায় প্রকল্প মেয়াদে মোট ৭,২২,৪০০ জন গ্রামীণ যুবকে স্থানীয় চাহিদার ভিত্তিতে বিভিন্ন ট্রেডে প্রশিক্ষণ প্রদান করা হবে। তন্মধ্যে ৫০% যুবকে ঋণ সহায়তা প্রদান করা হবে। তিনি বলেন যুবদের দক্ষতা বৃদ্ধির জন্য যুব সংগঠন গুলোকে কাজে লাগাতে হবে। বিশ্ব যুব দক্ষতা দিবস উপলক্ষে প্রতিটি জেলা হতে ন্যূনতম ১টি করে যুব সংগঠন নিবন্ধন করা হচ্ছে।  এ দিবসে  ৮ বিভাগের মোট ৯৬ জন প্রশিক্ষিত যুবকে মোট ৩৬ লক্ষ ৮০ হাজার টাকা যুব ঋণ প্রদান করা হয়।
এ অনুষ্ঠানে যুব উন্নয়ন অধিদপ্তর এবং  Social Development Foundation(SDF) এর মধ্যে ৫(পাঁচ) বছর মেয়াদি একটি MoU স্বাক্ষরিত হয়। এ MoU এর আওতায় ৬০০০ জন যুবক ও যুবনারীকে যুব উদ্যোক্তায় পরিণত করার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে।
যুব সংগঠকগণ, সাবেক এবং বর্তমান প্রশিক্ষণার্থীবৃন্দ এধরনের একটি অনুষ্ঠান আয়োজনের জন্য কর্তৃপক্ষকে ধন্যবাদ জানান।
 পিআরও/ স্পোর্টস মিনিস্ট্রি