বরিশালে আকাশ ও নৌপথে টিকিটের হাহাকার

17
Social Share

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, এ রুটে বর্তমানে বেসরকারি ইউএস বাংলা প্রতিদিন দুটি ফ্লাইট এবং নভোএয়ার প্রতিদিন একটি ফ্লাইট চালু রেখেছে। কিন্তু বিমান বাংলাদেশের সার্ভিস বন্ধ থাকায় বেসরকারি এ দুটি কোম্পানি যাত্রী চাপের ফায়দা লুটছে।

সরকারি ছুটি উপলক্ষ্যে ঢাকা-বরিশাল রুটের আকাশপথে আগামীকাল বৃহস্পতিবার থেকে ২২ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত টিকিট নেই। ফলে অধিক দামেও মিলছে না টিকিট। গত বছরের মার্চ মাসের শেষের দিকে লকডাউনে বন্ধ ঘোষণার পর ফের মে মাসে চালু হয় আকাশ পথ। কিন্তু পূর্বে বাংলাদেশ বিমানের সপ্তাহে পাঁচ দিন একটি করে ফ্লাইট চালু থাকলেও গত ৯ মাস ধরে তা বন্ধ রয়েছে। এছাড়া পূর্বে দুটি ফ্লাইট থাকলেও বর্তমানে একটি ফ্লাইট চালু রেখেছে নভোএয়ার। কিন্তু ইউএস বাংলা পূর্বের নিয়মেই দুটি ফ্লাইটে যাত্রী পরিবহন করে আসছে। ফলে আকাশপথের এ লাভজনক রুটে বেসরকারি দুটি কোম্পানি একচেটিয়ে ব্যবসা করছে।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, পূর্বে বরিশাল-ঢাকা রুটে আকাশপথের একমুখী সর্বনিম্ন ভাড়া ছিল ২ হাজার ৫০০ টাকা। বর্তমানে বেসরকারি বিমানে সর্বনিম্ন ভাড়া ধার্য করা হয়েছে ৩ হাজার ২০০ টাকা। এছাড়াও ২১ ফেব্রুয়ারি সরকারি ছুটি উপলক্ষ্যে আগামী এক সপ্তাহের টিকিট মিলছে না। দুই-একটি টিকিট পাওয়া গেলেও তা ৮ থেকে ৯ হাজার টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এছাড়াও সপ্তাহের বৃহস্পতি, শুক্র ও শনিবারের টিকিটও প্রায়ই দুই তিনগুণ বেশি দামে বিক্রি হয়। আকাশপথে যাতায়াতকারী একাধিক যাত্রী জানান, বিমানের সার্ভিস বন্ধ থাকায় বেসরকারি ফ্লাইটগুলো ইচ্ছেমাফিক ভাড়া আদায় করছে। কেননা বিমান বাংলাদেশ চালু থাকলে যাত্রীদের চাপ কমে যেত এবং বেসরকারি কোম্পানিগুলো ভাড়াও বৃদ্ধি করতে পারত না।

বরিশাল সচেতন নাগরিক কমিটি (সনাক) সভাপতি প্রফেসর শাহ সাজেদা ইত্তেফাককে জানান, লোকসানের অজুহাত দেখিয়ে ইতিপূর্বে একাধিকবার ঢাকা-বরিশাল রুটে বিমান বাংলাদেশের সার্ভিস গুটিয়ে নেওয়া হয়। কিন্তু দক্ষিণাঞ্চলের ব্যাপক উন্নয়নের ফলে ব্যবসা-বাণিজ্যে প্রভাব পড়ায় আকাশ পথে যাত্রী বৃদ্ধি পেয়েছে। এতে বেসরকারি কোম্পানিগুলো প্রতিদিন একাধিক ফ্লাইটে যাত্রী পরিবহন করছে। বাংলাদেশ বিমান নানা অজুহাতে ফ্লাইট বন্ধ রাখায় যাত্রী দুর্ভোগ বাড়ছে। তিনি অবিলম্বে বিমান বাংলাদেশের সার্ভিস চালুর দাবি জানান। এ ব্যাপারে বিমানের বরিশাল কর্মকর্তারা জানান, কেন্দ্রীয় অফিস থেকে সিদ্ধান্ত এলেই সার্ভিস চালু হবে।

এদিকে নৌপথে সবচেয়ে বেশি মানুষ যাতায়াত করলেও বিভিন্ন ছুটিতে টিকিটের কোটা ও প্রভাবশালী ব্যতীত সাধারণ মানুষের পক্ষে টিকিট পাওয়া সম্ভব হয় না। তবে কালোবাজার থেকে চড়া দামে কেউ কেউ টিকিট পেয়ে থাকেন। কয়েক দিন যাবত্ লঞ্চের কাউন্টারগুলোতে ধর্না দেওয়া যাত্রী ও তাদের স্বজনরা জানান, কালোবাজারে টিকিট পাওয়া গেলেও তার দাম কয়েকগুণ বেশি। যাত্রী চাপের পুরো সুযোগটি নিচ্ছেন লঞ্চের মালিকরা। কেননা ধারণক্ষমতার কয়েকগুণ বেশি যাত্রী নিয়ে লঞ্চ ছাড়লে তাদের লাভও কয়েকগুণ বেড়ে যাবে।