বরগুনায়ও ফেনীর আলামত দেখা যাচ্ছে

বরগুনায় প্রকাশ্য দিবালোকে কুপিয়ে এক তরুণকে হত্যাকারীদের গ্রেফতার করতে না পারাটা সরকারের জন্য মোটেও সুখকর কিছু নয়। প্রথম দিনেই বরগুনার ওসির বক্তব্য পড়ে একটা সংশয় তৈরি হয়েছিল।

অনেককেই আমি বলেছিলাম, বরগুনায়ও ফেনীর আলামত দেখা যাচ্ছে। ওসি আবির মোহাম্মদ ফেনীর মোয়াজ্জেমের ভূমিকায় কী না সেটি নিয়েও প্রশ্ন তুলেছিলাম। এই সন্দেহগুলোই যেনো ক্রমশ সত্যি হয়ে উঠছে।

প্রধান দুই অভিযুক্ত নয়ন এবং রিফাত ফরাজীর নানা অপকর্মের ফিরিস্তি ছাপা হচ্ছে মিডিয়ায়। এতো অপরাধ করা সত্ত্বেও এদের কখনোই আইনের মুখোমুখি হতে হয়নি, এ থেকেই এদের প্রভাব সম্পর্কে আঁচ পাওয়া গেছে। এখন সেই আঁচটা সত্যি হয়ে উঠছে।
গণমাধ্যমের খবর অনুসারে, স্থানীয় সরকার দলীয় সাংসদ এবং জেলা চেয়ারম্যানের ‘আশির্বাদ’ এদের উপর রয়েছে। খুনীদের গ্রেফতার না হওয়া আর সরকার দলীয় নেতাদের আত্মীয়তার সংবাদে মানুষের মনে ভাবনা তৈরি হচ্ছে- খুনীদের আসলেই কিছুই হবে না। কিন্তু আসলেই কি কিছু হবে না? এমন পৈশাচিক আর বিভৎস হত্যাকাণ্ডের দায়ভার আওয়ামী লীগ বা সরকার কেন নেবে?

বরগুনার এমপি আর উপজেলা চেয়ারম্যানের ‘আশির্বাদ’ কি রাষ্ট্রের, সরকারের ভাবমূর্তির চেয়ে, আইনের শাসনের চেয়েও গুরুত্বপূর্ণ? সবাই যে কথায় কথায় বিচারহীনতার সংস্কৃতির কথা বলে- সেটাই কি তা হলে সত্যি হয়ে যাবে?

আমরা বিশ্বাস করতে চাই, বরগুনার এমপি কিংবা জেলা চেয়ারম্যানের স্বার্থের চেয়ে সরকার জনগণের আঙ্ক্ষাকা গুরুত্ব দেবে। আমরা আশা করতে চাই- ফেনীর মতোই বরগুনার খুনীরা স্বল্পতম সময়ে গ্রেফতার হবে।

কোনো এমপি কিংবা, জেলা চেয়ারম্যানের চেয়েও, কোনো থানার ওসির ‘গোপন এজেন্ডার’ চেয়েও প্রধানমন্ত্রীর ক্ষমতা বেশি, তার বাস্তবায়ন আমরা দেখতে চাই।