বজলুর রশীদের জামিনের আবেদন হাইকোর্টে খারিজ

দুদকের করা মামলায় কারা অধিদপ্তরের সাবেক উপ-মহাপরিদর্শক বজলুর রশীদের জামিনের আবেদন খারিজ করেছেন হাইকোর্ট। তবে মামলার তদন্ত কর্মকর্তাকে ৬ মাসের মধ্যে মামলার তদন্ত সম্পন্ন করার নির্দেশ দিয়েছেন।

বিচারপতি মো. নজরুল ইসলাম তালুকদার ও বিচারপতি কে এম হাফিজুল আলমের হাইকোর্ট বেঞ্চ আজ বুধবার এক রায়ে এ আদেশ দেন।

বজলুর রশীদের পক্ষে আইনজীবী ছিলেন অ্যাডভোকেট আব্দুল মতিন খসরু এমপি। দুদকের পক্ষে ছিলেন অ্যাডভোকেট খুরশীদ আলম খান। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল এ কে এম আমিন উদ্দিন মানিক।

আদালত বলেছেন, তার কারাবাসের মেয়াদ বেশিদিন হয়নি। তাই এত তাড়াতাড়ি জামিন দেওয়া হলে আদালত সম্পর্কে সাধারণ মানুষের মনে বিরূপ ধারনার সৃষ্টি হতে পারে। এ ছাড়া এখন জামিন দেওয়া হলে মামলার তদন্ত কাজ বাঁধাগ্রস্থ হওয়ার আশঙ্কা আছে। তাই এ মূহুর্তে তাকে জামিন দেওয়া যুক্তিসংগত হবে না।

দুদকের মামলার পর গতবছর ২০ অক্টোবর বজলুর রশীদকে গ্রেপ্তার করা হয়। সেই থেকে তিনি কারাবন্দি। এরপর তিনি নিম্ন আদালতে জামিনের আবেদন করেন। ঢাকার আদালত তার আবেদন খারিজ করার পর তিনি হাইকোর্টে জামিন আবেদন করেন। আদালত গতবছর ১৭ ডিসেম্বর জামিন প্রশ্নে রুল জারি করেন। এই রুলের ওপর চূড়ান্ত শুনানি শেষে আদালত বুধবার তা খারিজ করে রায় দিলেন।

মামলার অভিযোগে বলা হয়, ঢাকার সিদ্বেশ্বরী রোডে দুই হাজার ৯৮১ বর্গফুট আয়তনের একটি অ্যাপার্টমেন্ট কেনেন বজলুর রশীদ। এ বিষয়ে তার আয়কর নথিতে কোনো তথ্য নেই। এর দাম হিসেবে পরিশোধ করা তিন কোটি ৮ লাখ টাকার কোনো বৈধ উৎস তিনি দুদককে দেখাতে পারেননি।

এজাহারের তথ্য অনুযায়ী, ২০১৮ সালের ২৪ এপ্রিল অ্যাপার্টমেন্ট কেনার জন্য চুক্তি করেন। এরপর ওই বছরের ৭ জুন পর্যন্ত ৫৪ হাজার টাকা ইউনাইটেড কমার্শিয়াল ব্যাংকের মাধ্যমে চেকে পরিশোধ করেন। আর বাকি তিন কোটি ৭ লাখ ৪৬ হাজার টাকা নগদে পরিশোধ করেন। এ মামলায় জামিনের আবেদন করেন কারাবন্দি বজলুর রশিদ। আদালত জামিন প্রশ্নে রুল জারি করেন। এই রুলের ওপর শুনানিকালে মামলার নথিসহ মামলার তদন্ত কর্মকর্তা নাসির উদ্দিন হাইকোর্টে হাজির হন। এই নথি পর্যালোচনা করে আদালত রায় দেন।

তার বিরুদ্ধে পত্রিকায় প্রকাশিত খবরে বলা হয়, বিপুল পরিমাণ ঘুষের টাকা স্থানান্তর করতে ডিআইজি প্রিজনস (হেডকোয়ার্টার্স) বজলুর রশীদ অভিনব পন্থা বেছে নেন। কুরিয়ার সার্ভিসের মাধ্যমে শতাধিক ধাপে স্ত্রী রাজ্জাকুন নাহারের কাছে কয়েক কোটি টাকা পাঠান। এজন্য প্রকৃত ঠিকানা গোপন করে স্ত্রীর নামে সিম তোলা হয়। সরাসরি নিজে টাকা না পাঠিয়ে নির্ভরযোগ্য ব্যক্তির মাধ্যমে ওই টাকা পাঠানো হয়। এই রিপোর্ট দেখার পর তদন্তে নামে দুদক। এই তদন্তকালে তার অ্যাপার্টমেন্টের তথ্য পায় দুদক।