বছরের শুরুতে একসঙ্গে দুই ছবি স্টার সিনেপ্লেক্সে

Social Share

নতুন বছরের শুরুতে দর্শকদের একসঙ্গে দু’টি ছবি উপহার দিচ্ছে স্টার সিনেপ্লেক্স। ক্রাইম থ্রিলার ছবি ‘দ্য ইনফরমার’ এবং সায়েন্সফিকশন হররধর্মী ছবি ‘আন্ডারওয়াটার’ আন্তর্জাতিকভাবে মুক্তি পেতে যাচ্ছে ১০ জানুয়ারি। একই দিনে বাংলাদেশের স্টার সিনেপ্লেক্সে মুক্তি পাবে ছবিগুলো।

আন্ডারওয়াটার
সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে সাত মাইল এবং ভূপৃষ্ঠ থেকে পাঁচ মাইল নিচে একটি ভাম্র্যমাণ গবেষণাগারে কাজ করছে সামরিক গবেষকদের একটি দল। এক মাসের কর্মসূচী নিয়ে সেখানে গিয়েছিলো তারা। সবকিছু ঠিকঠাকই চলছিলো। আচমকা এক ভূমিকম্প তাদের ভিত কাঁপিয়ে দেয়। দেয়াল ভেঙ্গে প্রবলবেগে পানি ঢুকতে থাকে তাদের গবেষণাগারে। যে যার মত জীবন বাঁচানোর চেষ্টায় মরিয়া হয়ে ওঠে। খুব দ্রুত সমুদ্রের উপরে না উঠতে পারলে শেষ রক্ষা হবে না তাদের। এই চেষ্টা যখন করছিলো তখন তারা টের পায় রহস্যময় কিছু একটা অনুসরণ করছে তাদেরকে। একের পর এক কর্মী আক্রমণের শিকার হচ্ছে। কি সেই রহস্য? কিভাবে তার হাত থেকে উদ্ধার পাবে তারা? দেখার জন্য চোখ রাখতে হবে পর্দায়। মূলত সায়েন্সফিকশন হররধর্মী এ ছবিটি পরিচালনা করেছেন মার্কিন পরিচালক উইলিয়াম ইউব্যাঙ্ক। প্রধান চরিত্রে অভিনয় করেছেন টোয়াইলাইট তারকা ক্রিস্টেন স্টুয়ার্ট। এ ছবিতে সম্পূর্ণ ভিন্নরূপে দেখা যাবে তাকে। ইতোমধ্যে যারা ছবির ট্রেলার দেখেছেন তারা এ সম্পর্কে কিছুটা ধারণা পেয়েছেন নিশ্চয়ই। লাস্যময়ী অভিনেত্রী ক্রিস্টেন বরাবরই চ্যালেঞ্জিং চরিত্রে কাজ করতে পছন্দ করেন। তার ট্রেডমার্ক ছবিগুলোতে এটা প্রতিয়মান হয়। ‘আন্ডারওয়াটার’ তার নতুন চ্যালেঞ্জ বলে জানিয়েছেন তিনি। হলিউড রিপোর্টারকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, ‘আমি নতুন নতুন চ্যালেঞ্জ নিয়ে দর্শকদের সামনে আসতে চাই। নতুন নতুন অভিজ্ঞতার মধ্য দিয়ে যেতে চাই। ‘আন্ডারওয়াটার’ আমার জন্য তেমনই একটি কাজ। অসাধারণ এক অভিজ্ঞতা। যা দর্শকদের সঙ্গে ভাগাভাগি করতে পারলে আমি আনন্দিত হবো।’ ক্রিস্টেন ভক্তরা প্রস্তুতি নিয়েই ফেলতে পারেন ছবিটি দেখার জন্য। ছবিতে আরো অভিনয় করেছেন শক্তিমান অভিনেতা ভিনস্টেন ক্যাসেল, জেসিকা হ্যানউইক, জন গ্যালাঘার জুনিয়র, টি জে মিলার প্রমুখ।

দ্য ইনফরমার
সুইডিশ উপন্যাস ‘থ্রি সেকেন্ডস’ অবলম্বনে ব্রিটিশ ক্রাইম থ্রিলার ছবি ‘দ্য ইনফরমার’ পরিচালনা করেছেন ইতালিয়ান নির্মাতা আন্দ্রে ডি স্টেফানো। কেন্দ্রীয় চরিত্রে অভিনয় করেছেন সুইডিশ অভিনেতা জোয়েল কিন্নাম্যান। এছাড়া রয়েছেন ক্লাইভ ওয়েন, আনা ডি আরমাস, রোসমন্ড পাইকসহ আরো অনেকে।

ছবিতে দেখা যায়, পিট কসলো একজন দোষী সাব্যস্ত অপরাধী, যিনি এফবিআইয়ের একজন তথ্যদাতা হিসাবে কাজ করছেন। তিনি গোপনে এক রাজ্য কারাগারে যান সেখানে ফেন্টানিলের কারবারের প্রমাণ পাওয়া যায় কিনা তা দেখতে। যদি প্রমাণটি খুঁজে পান তবে তিনি একজন মুক্ত মানুষ হবেন বলে প্রতিশ্রুতি দেয়া হয়। তবে, পিটের স্ত্রী সোফিয়া উদ্বেগ প্রকাশ করেন যে যদি তিনি আবার কারাগারে ফিরে যান তবে তিনি আর কখনোই ফিরবেন না। এদিকে, একজন পুলিশ গোয়েন্দা তার নিকটবর্তী কারও মৃত্যুর বিষয়টি তদন্ত করছেন। এফবিআই এজেন্ট মন্টগোমেরি উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন যে, সেই হত্যাকান্ডে একজন এফবিআই তথ্যদাতা উপস্থিত থাকবেন, তাই তিনি তাঁর সহকর্মী এজেন্ট উইলকক্সের পরামর্শের বিপরীতে পিটকে কারাগারের ভিতরে হত্যা করার নির্দেশ দিয়েছেন। নানা ঘাত-প্রতিঘাতের মধ্য দিয়ে এগিয়ে যায় ছবির কাহিনী। ধুন্দুমার অ্যাকশন আর চোখ ধাঁধানো সব দৃশ্যে ঠাসা ছবিটি যে দর্শকদের মন জয় করেছে তার আভাস পাওয়া যায় যুক্তরাজ্যে ছবির বক্স অফিস ফলাফল দেখে। ইতোমধ্যে যুক্তরাজ্যে মুক্তি পাওয়া ছবিটি প্রায় দেড় মিলিয়ন মার্কিন ডলার আয় করেছে। আশা করা হচ্ছে যুক্তরাষ্ট্রসহ বিশ্বের অন্যান্য দেশেও ছবিটি ভালো সাড়া পাবে। রটেন টমেটো, হলিউড রিপোর্টারসহ খ্যাতনামা পত্রিকাগুলোর রিভিউয়ে ছবিটি ইতিবাচক অবস্থানে আছে।