বঙ্গবন্ধু হত্যাকাণ্ড ॥ চাই আন্তর্জাতিক তদন্ত কমিশন

55
Social Share
  • ডাঃ কামরুল হাসান খান

সপরিবারে বঙ্গবন্ধু হত্যাকাণ্ড বিশ্বের ইতিহাসে এক ঘৃণ্য, নিষ্ঠুরতম ঘটনা। যে নেতা সারাজীবন বাঙালী জাতির মুক্তি, স্বাধীনতা, সমৃদ্ধির জন্য লড়াই করেছেন তাঁকেই জীবন দিতে হয়েছে কতিপয় হিংস্র দানবের হাতে। এই হত্যাকাণ্ডের মধ্য দিয়ে একটি জাতির স্বপ্ন ধূলিসাৎ হয়ে যায়। এই নির্মম হত্যাকাণ্ড নিয়ে আলোচনা করলেই প্রশ্ন আসে কেন বঙ্গবন্ধুকে হত্যা করা হয়েছিল? এ নিয়ে গবেষণা চলছে। এখন পর্যন্ত কোন নিশ্চিত উপসংহারে পৌঁছান যায়নি। বিভিন্ন তথ্য-উপাত্ত থেকে বেশ কিছু ধারণা পাওয়া গেছে মাত্র। দ্রæততম সময়ের মধ্যে একটি চ‚ড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেয়া জরুরী। দেশের স্বাধীনতার প্রশ্নে, ভবিষ্যতে এমন ঘটনার পুনরাবৃত্তিরোধ এবং আগামী প্রজন্মের জন্য একটি মসৃণ পথ তৈরির জন্যই তা করতে হবে।

বঙ্গবন্ধু হত্যা সম্পর্কে যেসব ধারণা আমাদের মাধ্যে বিরাজ করছে সেগুলো হলো-

১) বাংলাদেশের স্বাধীনতা : বঙ্গবন্ধুই বিশ্বের একমাত্র নেতা যিনি একটি জাতিকে স্বাধীনতার স্বপ্ন দেখিয়েছেন এবং স্বপ্ন বাস্তবায়ন করেছেন। তিনি যদি আমাদের স্বাধীনতা এনে না দিতেন তাহলে তাঁকে জেল-জুলুম-নির্যাতন সহ্য করতে হলেও জীবন দিতে হতো না। বাংলাদেশের এই স্বাধীনতা দেশের মোশতাক-জিয়া চক্র, পাকিস্তান এবং আরও কিছু আন্তর্জাতিক গোষ্ঠী মেনে নিতে পারেনি। তাই যখনই সুযোগ পেয়েছে তখনই জাতির পিতাকে হত্যা করেছে। বাঙালীর অধিকার, স্বাধীনতা না চেয়ে বঙ্গবন্ধু অনায়াসে হতে পারতেন মোনায়েম খাঁর পরিবর্তে পূর্ব পাকিস্তানের গবর্নর। ৭০ সালের নির্বাচনের পর তিনি হতে পারতেন অবিভক্ত পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী। অর্থ চাইলে ছয় দফার বিনিময়ে গ্রহণ করতে পারতেন জেনারেল আইয়ুব খানের বø্যাংক চেক। হতে পারতেন জেনারেল মোটরস কোম্পানির ৪৯ পার্সেন্টের মালিক এবং পূর্ব পাকিস্তানের সোল এজেন্ট। তাঁকে এসবের কিছুই দিতে পারেনি, কারণ তিনি কেবল চেয়েছেন বাঙালীর স্বাধীনতা। বাংলার মানুষের সুখী-সমৃদ্ধ জীবন। যার জন্য তাঁকে নিজের প্রাণটাও দিতে হলো।

২) পাকিস্তানের ভুমিকা : ৪৭-এ দেশ বিভাগের পর থেকে এই রাষ্ট্রটি বাঙালীদের অধিকার অস্বীকার করে আসছিল। অবশেষে বঙ্গবন্ধু বাঙালীর অধিকার এবং স্বাধীনতা আদায়ে চ‚ড়ান্ত নেতৃত্ব দেন। পাকিস্তান রাষ্ট্রের প্রধান শত্রæ ছিলেন বঙ্গবন্ধু। পাকিস্তান সরকার বারবার বাঙালীদের সঙ্গে প্রতারণা করেছে, ন্যায্য অধিকার থেকে বঞ্চিত করেছে। বঙ্গবন্ধু নির্বাচনের মাধ্যমে বাঙালী জাতির নিরঙ্কুশ ম্যান্ডেট নিয়ে পকিস্তানীদের প্রতারণা আর মিথ্যা আশ্বাসের বিরুদ্ধে আপোসহীন অবস্থান নিয়ে আমাদের স্বাধীনতা এনে দিয়েছেন। পাকিস্তান রাষ্ট্রটি আমাদের কখনও বন্ধু হবে না। বাংলাদেশের স্বাধীনতার পর আমাদের প্রাপ্য অর্থ-সম্পদ প্রতারণা করে ফেরত দেইনি। তাদের এদেশীয় এজেন্টদের মাধ্যমে বারবার বাংলাদেশকে মিনি পাকিস্তান বানাতে চেয়েছে। নানাভাবে জঙ্গী তৎপরতা চালিয়ে দেশকে অস্থিতিশীল করতে চেয়েছে। এমনকি বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনাকে ১৯ বার হত্যা করার চেষ্টা করেছে। বঙ্গবন্ধু হত্যার বিচার, যুদ্ধাপরাধীদের বিচারসহ বাংলাদেশের বিভিন্ন কাজে তাদের দোসর রাষ্ট্রকে সঙ্গে নিয়ে বিরোধিতা করে যাচ্ছে, নানা অপপ্রচার চালিয়ে যাচ্ছে। বঙ্গবন্ধুকে হত্যায় পাকিস্তান বড় মদদদাতা এবং সহযোগী হিসেবে কাজ করেছে। যখনই সুযোগ পাবে তখনই পাকিস্তান আমাদের স্বাধীনতার ওপর আঘাত করবে।

৩) পূর্ব পাকিস্তানের সরকারী কর্মচারী : মুক্তিযুদ্ধকালীন কিছু সংখ্যক সরকারী কর্মচারী পাকিস্তান রক্ষায় সরকারের সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে কাজ করেছে। স্বাধীনতার পরও তারা বহালতবিয়তে ছিল। প্রতিনিয়ত ধরা পড়ার শঙ্কায় ষড়যন্ত্র শুরু করে তারা। কিছু সংখ্যক পাকিস্তান ফেরত কর্মচারী তাদের সঙ্গে যোগ দেয়। তারাও সুযোগের ব্যবহার করে।

৪) পাকিস্তান ফেরত সেনা সদস্য : স্বাধীনতার পর পাকিস্তান ফেরত কিছু সংখ্যক সেনা সদস্য শুরু থেকেই মুক্তিযোদ্ধা সেনা সদস্যদের নেতৃত্ব এবং অধিকার কোনটি মেনে নিতে পারেনি। মুক্তিযোদ্ধা সেনা সদস্যদের মুক্তিযুদ্ধে বীরত্বপূর্ণ ভ‚মিকা রাখার জন্য দুটি ইক্রিমেন্ট দেয়া হয়। প্রত্যাগত সেনা সদস্যদের অনেকেই এতে ক্ষুব্ধ হয়। এই দ্ব›দ্বটি তীব্র করতে বাইরে থেকে মদদ দেয়া হয়।

৫) জাসদের উত্থান : একটি গণতান্ত্রিক দেশে রাজনৈতিক দল হতেই পারে। মুক্তিযোদ্ধা ছাত্র নেতাদের উদ্যোগে জাতীয় সমাজতান্তিক দল (জাসদ) গঠিত হলেও মানুষের কাছে বিভ্রান্তি ছড়িয়ে পড়ে। এর কারণ হচ্ছে, এই দলটিতে দলে দলে স্বাধীনতাবিরোধী রাজাকার-আলবদররা ঢুকে পড়ে। সদ্য স্বাধীন দেশে জাতির পিতার সরকারকে উৎখাত করে তারা বিপ্লবী সরকার গঠনের ঘোষণা দেয়। ১৯৭৪-এর ১৭ মার্চ পল্টন ময়দানের সভাশেষে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বাসা ঘেরাও কর্মসূচী দেয়া হয় এবং মিছিল থেকে উস্কানিমূলক গুলি ছোড়া হয়। অনৈতিকভাবে সেনাবাহিনীতে বিপ্লবী সৈনিক সংস্থার নামে রাজনীতি ঢুকিয়ে দেয়া হয়। জাসদের এসব কর্মকাণ্ডে দেশে অস্থিরতা সৃষ্টি হয় এবং ষড়যন্ত্রকারীরা ঘোলা পানিতে মাছ শিকারের সুযোগ পায়।

৬) বাঙালীদের প্রতি বঙ্গবন্ধুর অকৃতিম ভালবাসা ও বিশ্বাস:- বঙ্গবন্ধু কখনই ভাবেননি কোন বাঙালী তাঁকে হত্যা করতে পারে। এক বিদেশী সাংবাদিক তাঁকে জিজ্ঞেস করেছিলেন, আপনার কোয়ালিফিকেশন কি? তিনি হাসতে হাসতে বলেছিলেন- আমি আমার দেশের মানুষকে ভালবাসি। আপনার ডিসকোয়ালিফিকেশন কি? তিনি বলেছিলেন- আমি তাদের খুব বেশি ভালবাসি। এই ভালবাসার কারণে অনেক সতর্ক করা সত্তে¡ও তিনি তাঁর নিরাপত্তার বিষয়টি গুরুত্ব দেননি। বঙ্গবন্ধু যদি সেদিন এই অকৃত্রিম ভালবাসা এবং বিশ্বাস কিছুটা উপেক্ষা করে নিরাপত্তার বিষয়ে একটু নজর দিতেন তাহলে এই জাতিকে পিতৃহারা হতে হতো না। অল্প সময়ে বাংলাদেশ হতো বিশ্বের অন্যতম উন্নত দেশ।

৭) আরও কিছু কারণ : সর্বহারা পার্টির নামে সাধারণ মানুষ হত্যা, লুটপাট, জনমনে আতঙ্ক সৃষ্টি করে সরকারের কাজে ব্যাঘাত সৃষ্টি করা হয়েছিল। কিছু সামরিক-বেসামরিক আমলা এবং রাজনীতিবিদের ব্যক্তিগত আক্রোশ ও উচ্চাবিলাস ষড়যন্ত্রে বড় ভ‚মিকা রাখে। ষড়যন্ত্রকারীরা জনগণকে বিভ্রান্ত করার জন্য অপপ্রচার ও মিথ্যা গুজবকে বড় অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করেছে।

বঙ্গবন্ধু হত্যাকাণ্ডে সিআইএর কথিত সম্পৃক্ততার বিষয়ে উল্লেখ করা হয়েছে মার্কিন সাংবাদিক লরেন্স লিফশুলজের ‘বাংলাদেশ : দি আনফিনিশড রেভুলুশন’ বইটিতে। বিশ্বের অধিকাংশ লেখক এ বিষয়ে তাকেই উদ্ধৃত করে থাকেন। বঙ্গবন্ধু ও বাংলাদেশের প্রতি হেনরি কিসিঞ্জারের ব্যক্তিগত বিরাগ দালিলিকভাবে প্রমাণিত। তিনি বাংলাদেশের স্বাধীনতার বিরোধী ছিলেন। ১৯৭২-৭৩ সাল থেকেই সম্ভাব্য সামরিক অভ্যুথানের গুজব ঢাকা, ইসলামাবাদ ও দিল্লীর মার্কিন দূতাবাস এবং ওয়াশিংটনে পররাষ্ট্র দফতরে বাংলাদেশ ডেস্ক কর্মকর্তাদের আলোচনার খোরাকে পরিণত হয়েছিল। কিসিঞ্জার নিবিড়ভাবে এসব পর্যবেক্ষণ করছিলেন। ১৯৭৫ সালের মার্চে ‘অভ্যুথানের গুজব’ নিয়ে মার্কিন দূতাবাস খুবই ব্যস্ত হয়ে পড়েছিল।

প্রবাসী বাংলাদেশ সরকারের পররাষ্ট্রমন্ত্রী খন্দকার মোশতাক আহমদ পাকিস্তানের সঙ্গে কনফেডারেশন গঠনের প্রশ্নে নিক্সন-কিসিঞ্জার প্রশাসনের সঙ্গে যোগাযোগ শুরু করে। হেনরি কিসিঞ্জার ১৯৭৯ সালে তার ‘হোয়াইট হাউস ইয়ারস’-এ লিখেছেন, ‘যুক্তরাষ্ট্রে নিযুক্ত ভারতের রাষ্ট্রদূত এল কে ঝায়ের প্রস্তাবের পরিপ্রেক্ষিতে যুক্তরাষ্ট্র প্রবাসী বাংলাদেশ সরকার ও জেনারেল ইয়াহিয়া খানের মধ্যে যোগাযোগ স্থাপনে উদ্যোগী হয়েছিল।’ মার্কিন সাংবাদিক ক্রিস্টোফার এরিক হিচেন্স ২০০১ সালে তাঁর দ্য ট্রায়াল অব হেনরি কিসিঞ্জার বইয়ে কিসিঞ্জারকে একজন যুদ্ধাপরাধী হিসেবে চিহ্নিত করেছেন। কিসিঞ্জারের বিচারের জন্য ন্যুরেনবার্গসহ অন্যকিছু ট্রাইব্যুনালের আদলে একটি আন্তর্জাতিক আদালত গঠনের দাবিও তুলেন তিনি। কিসিঞ্জারকে তিনি অসাধারণ স্মৃতিশক্তিসম্পন্ন এক বিচিত্র মিথ্যাবাদী হিসেবে চিহ্নিত করেন। হিচেন্স লিখেছেন, ‘তার কারণে হাজার হাজার মানুষ প্রাণ দিয়েছে। তার জন্য অসুবিধাজনক কতিপয় ব্যক্তির কথাও আমরা জানি। যাদের মধ্যে রয়েছেন সাল্ভাদর আলেন্দে, আর্চ বিশপ ম্যাকারিওস ও শেখ মুজিবুর রহমান।’ নোবেল বিজয়ী অমর্ত্য সেন ১৯৮১ সালে লিখেছেন, ‘১৯৭৪ সালের বাংলাদেশের দুর্ভিক্ষের কারণ আর যাই হোক সেটা খাদ্য কমে যাওয়ার কারণে ঘটেনি। তবে ওই সময়ে বাংলাদেশকে খাদ্য না দিতে মার্কিন প্রশাসনের রাজনীতিটাও অস্বীকার করা যাবে না।’ অধ্যাপক রেহমান সোবহান লিখেছেন, ‘১৯৭৪ সালে বাংলাদেশে এক প্রকট দুর্ভিক্ষের প্রেক্ষাপটে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র রাজনৈতিক চাপ সৃষ্টি করতে খাদ্য সাহায্যকে ব্যবহার করল। সেই চাপ ছিল এমন একটি রাজনৈতিক পরিবর্তন আনার জন্য যার ফসল হলো ১৯৭৫ সালের পটপরিবর্তন।’ এমা রথচাইল্ড ১৯৭৬ সালে লিখেছেন, ‘কিউবার সঙ্গে বাণিজ্য সম্পর্ক রদ না করা পর্যন্ত মার্কিন খাদ্যবাহী জাহাজ বাংলাদেশে না পাঠানোর সিদ্ধান্ত হয়।’

১৯৯৮ সালের ৮ নবেম্বর বঙ্গবন্ধু হত্যাকাণ্ডের বিচারের রায় ঘোষণা করেন তৎকালীন ঢাকার জেলা ও দায়রা জজ কাজী গোলাম রসুল। রায়ের শেষে বিচারক মন্তব্য করেন- ‘প্রাসঙ্গিকভাবে তা উল্লেখ না করিয়া পারা যায় না যে, এই মামলায় প্রাপ্ত সাক্ষ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে ইহা প্রতীয়মান হয় যে, বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাগণ বিশেষ করিয়া যাহারা ঢাকায় অবস্থান করিতেছিলেন, তাহারা তাহাদের দায়িত্ব পালন করেন নাই, এমনকি পালনের পদক্ষেপ গ্রহণ করেন নাই যথেষ্ট সময় পাওয়া সত্তে¡ও। ইহা অত্যন্ত দুঃখের বিষয় যে, বঙ্গবন্ধুর টেলিফোন আদেশ পাওয়ার পরও নিরাপত্তার জন্য কোন পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয় নাই। সাক্ষ্য-প্রমাণে ইহা পরিষ্কার যে, মাত্র দুইটি রেজিমেন্টের খুবই অল্প সংখ্যক জুনিয়র সেনা অফিসার/সদস্য এই হত্যাকাণ্ডে জড়িত ছিল। বাংলাদেশ সেনাবাহিনী কেন এই কতিপয় সেনা সদস্যকে নিয়ন্ত্রণ/নিরস্ত্র করার চেষ্টা করে নাই তাহা বোধগম্য নয়। ইহা আমাদের জাতীয় ইতিহাসে সেনাবাহিনীর জন্য একটি চিরস্থায়ী কলঙ্ক হিসেবে চিহ্নিত হইয়া থাকিবে।’

অবশ্যই প্রশ্ন আছে কেন রাষ্ট্রপতির নিরাপত্তায় নিয়োজিত বাহিনী নিরস্ত্র ছিল? কেন বঙ্গবন্ধু সেনাসদর, পুলিশ কন্ট্রোল রুম, রাজারবাগ পুলিশ লাইনস এবং গণভবনে টেলিফোন করার চেষ্টা করে কাউকে পেলেন না? যাদেরকে পেলেন একমাত্র কর্নেল জামিল ছাড়া অন্য কেউ ঘণ্টাখানেক সময় পেয়েও কেন কোন পদক্ষেপ নেয়নি? সেনাপ্রধান শফিউল্লাহর নিষেধাজ্ঞা সত্তে¡ও জিয়াউর রহমান কেন চাকরিচ্যুত মেজর ডালিম, মেজর নূরকে ক্যান্টনমেন্টে অবাধে চলাফেরার অনুমতি দিল? কেন একটি দেশের রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তা সংস্থাগুলো এবং রাষ্ট্রপতির সকল নিরাপত্তা বাহিনী তাদের দায়িত্ব এড়িয়ে গেল? এসবের জবাব নতুন প্রজন্মকে পেতে হবে।

এবার শোকের মাসে জনতার দাবি, বঙ্গবন্ধু হত্যাকাণ্ডে জড়িত সাজাপ্রাপ্ত খুনের আসামিদের অবিলম্বে দেশে ফিরিয়ে এনে ফাঁসি কার্যকর করতে হবে। বাংলাদেশের স্বাধীনতা, স্বাধীনতার মূলমন্ত্র রক্ষা, স্বাধীনতার বিরুদ্ধে জাতীয়-আন্তর্জাতিক ষড়যন্ত্র চিরতরে বন্ধ করার জন্য একটি শক্তিশালী আন্তর্জাতিক তদন্ত কমিশন গঠন করতে হবে, যাতে কোন পরিস্থিতিতেই এর কার্যক্রম বাধাপ্রাপ্ত না হয়। এটা এখন দিবালোকের মতো স্পষ্ট যে, জাতীয় বেইমানদের সঙ্গে অনেক আন্তর্জাতিক মহল বঙ্গবন্ধু হত্যাকাণ্ডে প্রত্যক্ষভাবে জড়িত। ১৯৮০ সালের ১৮ সেপ্টেম্বর বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনা উদ্যোগ নিয়ে লন্ডনভিত্তিক ব্রিটিশ পার্লামেন্ট সদস্য স্যার টমাস উইলিয়ামসের নেতৃতে একটি শক্তিশালী কমিশন গঠন করেছিলেন। একাত্তরে মুক্তিযুদ্ধে পাকিস্তানী ১৯৫ জন যুদ্ধাপরাধীর বিচারের তিক্ত অভিজ্ঞতা আমাদের স্মরণ রাখতে হবে। বঙ্গবন্ধু এই যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের আপ্রাণ চেষ্টা করেও আন্তর্জাতিক মহলের সমর্থন পাননি বলে সে বিচার করা যায়নি।

ইতিহাস তার নিজস্ব গতিতে চলবে এটাই নিয়ম; কিন্তু অন্ধকারাছন্ন জায়গাগুলো আলোকিত করা আমাদের সকলের দায়িত্ব। অবশ্যই একদিন আলো ঝলমল করবে আগামী প্রজন্মের এই বাংলাদেশে, বঙ্গবন্ধুর সোনার বাংলায়।

লেখক : সাবেক উপাচার্য, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়