বঙ্গবন্ধু আমাদের জাতীয় জীবনে জ্যোতির্ময় এক আলোক বর্তিকা: প্রধান বিচারপতি

‘১৫ আগস্টের ঘৃণ্য হত্যাকাণ্ডের বিচার সম্পন্ন করে বিচার বিভাগ জাতিকে কলঙ্কমুক্ত করেছে’

সুপ্রিম কোর্টের জাজেস লাউঞ্জে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতিকৃতিতে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন প্রধান বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেন
Social Share

প্রধান বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেন বলেছেন, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান অন্যায়ের কাছে কখনো মাথা নত করেননি বলেই তার জীবনের অনেকটা সময় কারাগারে কেটেছে। গণতন্ত্র ও আইনের শাসনকে সুসংহত করতেই তিনি জীবনের শেষ দিন পর্যন্ত প্রাণান্তকর চেষ্টা করেছেন। আদর্শ ও মূল্যবোধ থেকে বঙ্গবন্ধু কখনো পিছু হটেননি। এই মহান নেতা আমাদের জাতীয় জীবনে জ্যোতির্ময় এক আলোক বর্তিকা।

জাতীয় শোক দিবস ও বঙ্গবন্ধুর ৪৫ তম শাহাদাৎ বার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত ভার্চুয়াল স্মরণসভায় প্রধান বিচারপতি এসব কথা বলেন। ভিডিও কনফারেন্সিংয়ের মাধ্যমে অনুষ্ঠিত এই সভায় আপিল ও হাইকোর্ট বিভাগের বিচারপতিরা অংশ নেন। এতে আপিল বিভাগের চারজন ও হাইকোর্টের ২৮ জন বিচারপতি স্মৃতিচারণ করেন।

প্রধান বিচারপতি বলেন, বঙ্গবন্ধু বিচার বিভাগ পৃথকীকরণের কথা শুধু ১৯৭২ সালের সংবিধানেই বলেননি, তারও আগে ১৯৫৬ সালের ৬ ফেব্রুয়ারি পাকিস্তানের গণপরিষদে আইন সভার সদস্য হিসেবে নির্বাহী বিভাগ থেকে বিচার বিভাগ পৃথকীকরণের জোর দাবি উত্থাপন করেছিলেন। দেশ স্বাধীনের পর ১৯৭২ সালের ১৬ ডিসেম্বর তিনি আমাদের সংবিধান উপহার দেন। যদি দেশের মানুষকে স্বল্প সময়ে ন্যায়বিচার দেওয়া সম্ভব হয় তাহলে জাতির পিতার স্বপ্ন বাস্তবায়িত হবে। তিনি বলেন, বিচার বিভাগ জাতির জনকের আদর্শকে ধারণ করে আইনের শাসন এবং সকলের জন্য ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠায় নিরন্তর কাজ করে যাচ্ছে এবং যাবে। ভাষা আন্দোলন, বাঙালি জাতির মুক্তির সনদ ছয় দফা আন্দোলন, স্বাধীনতা সংগ্রাম, জয় বাংলা, বাঙালি জাতীয়তাবাদ-এই শব্দগুলোর অপর নাম বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান।

সভায় অন্যান্য বিচারপতিগণ তাদের বক্তব্যে বলেন, ন্যায় বিচার ও বিচার বিভাগের স্বাধীনতা প্রতিষ্ঠায় বঙ্গবন্ধু আজীবন সংগ্রাম করে গেছেন। ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্টের ঘৃণ্য ওই হত্যাকাণ্ডের বিচার সম্পন্ন করে বিচার বিভাগ জাতিকে কলঙ্কমুক্ত করেছে। বঙ্গবন্ধুর আদর্শ এবং চেতনাকে ধারণ করে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠায় সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতিরা অঙ্গীকারাবদ্ধ। স্মরণ সভায় ১৫ আগস্টে শহীদ হওয়া বঙ্গবন্ধু এবং তাঁর পরিবারের সদস্যদের রুহের মাগফেরাত কামনা করে বিশেষ মোনাজাত পরিচালনা করেন হাইকোর্টের বিচারপতি এম. ইনায়েতুর রহিম।

এর আগে সকাল ১০ টায় সুপ্রিম কোর্টের জাজেস লাউঞ্জে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতিকৃতিতে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন প্রধান বিচারপতি। এরপর বঙ্গবন্ধুর জন্ম শতবার্ষিকী উদযাপন বিষয়ক সুপ্রিম কোর্টের জাজেস কমিটির পক্ষ থেকে পুষ্পস্তবক অর্পণ করা হয়। পরে সুপ্রিম কোর্ট জামে মসজিদে পবিত্র কোরআনখানির আয়োজন ও দুস্থদের মাঝে খাবার বিতরণ করা হয়।