বঙ্গবন্ধু ॥ মহামৃত্যুঞ্জয়ী

Social Share
  • ড. ইফতেখার উদ্দিন চৌধুরী

শোকাবহ আগস্ট। বাঙালীর জীবনে যে ক্রন্দনের কোন শেষ নেই; সেই করুণ-হৃদয়বিদারক ক্রন্দনের মাস বছর ঘুরে আবার সমাগত। সভ্যতার ইতিহাসে নির্মম ও নিষ্ঠুরতম হত্যাযজ্ঞের কালো অধ্যায় ১৯৭৫, ১৫ আগস্ট। মুক্তির মহানায়ক স্বাধীন-সার্বভৌম বাংলাদেশের স্থপতি জাতির জনক বঙ্গবন্ধু প্রায় সপরিবারে শাহাদাত বরণের এই মাসটি শুধু বাংলাদেশ নয়; বিশ্বের সকল ন্যূনতম বিবেকবান মানুষের কাছে কঠিন এক নৃশংসনীয়, ঘৃণ্য ও নিন্দনীয়। ‘বাঙালীর বঙ্গবন্ধু বিশ্ববন্ধু শেখ মুজিব’ সাধারণ কোন ব্যক্তি নন। পৃথিবী নামক এই গ্রহে সর্বোচ্চ মানবিকতা-সততা- নৈতিকতায় পরিপুষ্ট আদর্শিক চেতনার পথিকৃৎ এই মহামানব একটি বিশাল প্রতিষ্ঠান।

বঙ্গবন্ধু ও তাঁর পরিবারের সকল শহীদ সদস্যদের প্রতি বিন¤্র শ্রদ্ধা জ্ঞাপনের উদ্দেশ্যে নিবেদিত এই ক্ষুদ্র নিবন্ধে বিশ্বকবি রবীঠাকুরের ‘শিশুতীর্থ’ কবিতার কিছু পঙ্ক্তি বিনয়ের সঙ্গে উচ্চারণ করতে চাই- ‘কেউ বা অলক্ষিতে পালিয়ে যেতে চায়, পারে না;/ অপরাধের শৃঙ্খলে আপন বলির কাছে তারা বাঁধা।/পরস্পরকে তারা শুধায়, ‘কে আমাদের পথ দেখাবে।’/ পূর্ব দেশের বৃদ্ধ বললে, ‘আমরা যাকে মেরেছি সেই দেখাবে।’/ সবাই নিরুত্তর ও নতশির।/ বৃদ্ধ আবার বললে, ‘সংশয়ে তাকে আমরা অস্বীকার করেছি,/ ক্রোধে তাকে আমরা হনন করেছি,/ প্রেমে এখন আমরা তাকে গ্রহণ করব,/ কেননা, মৃত্যুর দ্বারা সে আমাদের সকলের জীবনের মধ্যে সঞ্জীবিত, সেই মহামৃত্যুঞ্জয়।’/সকলে দাঁড়িয়ে উঠল, কণ্ঠ মিলিয়ে গান করল, ‘জয় মৃত্যুঞ্জয়ের জয় ॥’ আজ বিশ্বব্যাপী যে সত্য প্রতিষ্ঠিত; বঙ্গবন্ধু বিশ্ব পরিবারে চিরপ্রতিষ্ঠিত, চিরস্মরণীয় এবং চিরবরণীয়। মানবধর্মে ঋদ্ধ নিপীড়িত-নির্যাতিত-স্বাধীনতাকামী মানবগোষ্ঠীর জন্য তিনি হচ্ছেন মৃত্যুহীন এক অনুপ্রেরণার অনুকরণীয় দৃষ্টান্ত।

এই করোনা মহামারীর ক্রান্তিকালে প্রায় সাড়ে চারকোটি শিক্ষার্থীর উপলব্ধিতে বঙ্গবন্ধুর কল্যাণ চিন্তা-চেতনার কার্যকর কর্ষণ অবশ্যই প্রয়োজন। সোনার বাংলা প্রতিষ্ঠায় সোনার মানুষ উৎপাদনে বঙ্গবন্ধু মানসকে পরিপূর্ণভাবে অনুধাবন করতে হবে। শুধু প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা ও আনুষ্ঠানিক পাঠ্যক্রমের মাধ্যমে নয়; প্রায়োগিক অর্থে বাস্তবসম্মত শিশু-কিশোর বান্ধব যুগোপযোগী উদ্ভাবনী কৌশলপত্র প্রণয়ন অনিবার্য। মানবজীবন দর্শনের উৎকৃষ্ট প্রবাহে বঙ্গবন্ধুর নীতি-নৈতিকতার সম্প্রসারণ এবং নবতর প্রাণময়তার উন্মেষ প্রাসঙ্গিকতায় অত্যুজ্জ্বল। তার ব্যত্যয় ঘটলে সাময়িক উন্নয়ন-দৃশ্যপট টেকসই জাতি-রাষ্ট্র গঠনে প্রবল প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করবে- নিঃসন্দেহে তা বলা যায়।

জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের ‘সব্যসাচী’ কবিতার সমস্বরে প্রতিধ্বনি করতে চাই – ‘ওরে ভয় নাই, আর দুলিয়া উঠেছে হিমালয়-চাপা প্রাচী!/ গৌরীশিখরে তুহিন ভেদিয়া জাগিছে সব্যসাচী!/ দ্বাপর যুগের মৃত্যু ঠেলিয়া/ জাগে মহাযোগী নয়ন মেলিয়া,/ মহাভারতের মহাবীর জাগে, বলে ‘আমি আসিয়াছি।’/ নব-যৌবন-জলতরঙ্গের নাচে রে প্রাচীন প্রাচী!/ বিরাট কালের অজ্ঞাতবাস ভেদিয়া পার্থ জাগে,/ গান্ডীব ধনু রাঙিয়া উঠিল লক্ষ লাক্ষারাগে!/ বাজিছে বিষাণ পাঞ্চজন্য,/ সাজে রথাশ্ব, হাঁকিছে সৈন্য,/ ঝড়ের ফুঁ দিয়া নাচে অরণ্য, রসাতলে দোলা লাগে,/ দোলায় বসিয়া হাসিছে জীবন মৃত্যুর অনুরাগে!’ বিশ্বের মহান নেতা বঙ্গবন্ধুকে নিবেদন করার লক্ষ্যেই যেন বিদ্রোহী কবি এই অমর কবিতাখানি রচনা করেছেন। জন্মলগ্নেই বিশ্বমানবতার জয়গানের জ্ঞাপনীয় নিঃসঙ্গ নির্মাণে বঙ্গবন্ধু বাঙালীর মুক্তি অর্জনে জীবন বিসর্জনের ব্রত গ্রহণ করেছিলেন।

‘আমি আসিয়াছি’ অদৃশ্য ঘোষণার মধ্যেই বীজন মানদ-ে বাঙালীসহ সমগ্র মানব জাতির মঙ্গল সাধনে বঙ্গবন্ধু মৃত্যুর অনুরাগে আরদ্ধ জীবন পরিচালনা করেছেন। উল্লিখিত কবিতার প্রতিটি পঙ্ক্তি কালক্রমে যেন প্রতিনিয়ত বঙ্গবন্ধুর সারথী ছিল। এ জন্যই নিজেকে মৃত্যুঞ্জয়ী করতে পেরেছিলেন সমধিক ত্যাগ-তিতিক্ষা ও সর্বোপরি প্রাণ উৎসর্গের বিনিময়ে। মহান ¯্রষ্টার মায়াবী মাটি ও মানুষ নির্মিত বৈচিত্র্যময় গ্রহ এই পৃথিবী। ভিন্ন বৈশিষ্ট্যে গড়ে তুলেছেন ধর্ম-বর্ণ-অঞ্চল নির্বিশেষে জাগতিক ইন্দ্রিয়বৃত্ত। জ্ঞানমানসের দুর্জ্ঞেয় সত্তায় তপস্যানির্ভর ক্ষণজন্মা স্বল্পসংখ্যক কৃতিমানব এই ধরিত্রীকে করেছেন নতুন অভিধায় অভিসিক্ত। রচিত হয়েছে সমাজ-সভ্যতার ক্রৌর্য-পরিক্রমার দিদৃক্ষা। গৌরবদীপ্ত ঐতিহ্যিক ঐশ্বর্যের দিগ¦লয় যাঁরা নির্মাণ করেছেন, তাঁরাই বিশ্বখ্যাত এবং ইতিহাসের অধ্যায়ে যুগান্তর প্রবাহে অতিশয় প্রৌজ্জ্বল। তাঁদের সমাজ-জীবন-রাজনীতি-ধর্ম ও রাষ্ট্রদর্শন যেমন নান্দনিকতায় পরিপূর্ণ; তেমনি মনন-সৃজনের বিস্ময়কর নমস্যভব্য।

১৯২০ সালের ১৭ মার্চ জাতির জনক বঙ্গবন্ধুর ভবার্ণব জন্ম বাঙালী জাতির জীবনে তেমন এক আলোকরশ্মির প্রতিসরণ। শৈশব-কৈশোর থেকে প্রচ্ছন্ন প্রকীর্তির আড়ালে দেশপ্রেম, মানবকল্যাণ এবং আত্মপ্রত্যয়ের সজীব দৃষ্টান্ত স্থাপনে বঙ্গবন্ধু ছিলেন কিংবদন্তি। ১৪৭৩ সালের ১৪ ফেব্রুয়ারি আধুনিক জ্যোতির্বিজ্ঞানে বিপ্লবসূচক নিকোলাস কোপারনিকাস, ১৪৮৩ সালে ১০ নবেম্বর খ্রিস্টান ধর্মে প্রোটেস্টানিজম মতবাদের প্রবক্তা মার্টিন লুথার, ১৭৩২ সালের ২২ ফেব্রুয়ারি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রথম প্রেসিডেন্ট এবং আমেরিকানদের মুক্তিদাতা জর্জ ওয়াশিংটন, ১৭৭৪ সালের ১০ মে ব্রাহ্মধর্ম মতবাদ ও সতীদাহ প্রথার নিবারক ভারতের নবযুগের প্রবর্তক রাজা রামমোহন রায়, ১৮২০ সালের ১২ মে আর্তমানবতা সেবাধর্মের মাতৃস্বরূপা ফ্লোরেন্স নাইটিংগেল, ১৮৩৩ সালের ২১ অক্টোবর নোবেল পুরস্কার প্রণেতা আলফ্রেড নোবেলের জন্ম। উল্লেখ্য, সন-তারিখকে করেছে চিরঞ্জীব এবং চিরস্মরণীয়।

আবৃত প্রচ্ছাদনে ১৮৬১ সালের ৭ মে বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, ১৮৭২ সালের ১১ মে মানবতার সীমাহীন মর্মবেদনা ও জ্ঞানের অপরিসীম অনুসন্ধানী বারট্রান্ড রাসেল, ১৮৬৯ সালের ২ অক্টোবর ভারতের জাতির পিতা মহাত্মা গান্ধী, ১৮৭৯ সালের ১৪ মার্চ মহাজ্ঞানী আলবার্ট আইনস্টাইন, ১৮৮৯ সালের ১৪ নবেম্বর ভারতের স্বাধীনতা আন্দোলনের অন্যতম পুরোধা জওহরলাল নেহরু, ১৮৯৯ সালের ২৪ মে বিদ্রোহী কবি কাজী নজরুল ইসলামসহ প্রমুখ এই ধরিত্রী সভায় প্রতিপদস্বরূপ আবির্ভূত হয়েছিলেন বলেই সমগ্র বিশ্ব হয়েছে পরিকাম্যসমৃদ্ধ। নিপীড়িত, নির্যাতিত স্বাধীনতা- মুক্তিকামী মানুষের কাছে বিশ্বপরিম-লে সর্বোচ্চ সমাদৃত পরিকর্ষ নেতৃত্বের কালোত্তীর্ণ প্রাণপুরুষ বাঙালীর অবিসংবাদিত নেতা মহাকালের মহানায়ক সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙালী স্বাধীন বাংলাদেশের স্থপতি জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্ম।

বঙ্গবন্ধুর প্রিয় লেখক ও বিশ্বখ্যাত জ্ঞানমানস দর্শন ও মানবতার কৌমুদী বর্তি নোবেল বিজয়ী বারট্রান্ড রাসেল আত্মজীবনী গ্রন্থের ভূমিকায় জীবনপ্রবাহের নির্যাস উন্মোচনে মানবপ্রেম, জ্ঞানের অসীম অনুসন্ধান এবং আর্তমানবতার অবর্ণনীয় ব্যথা-বেদনার সর্বাঙ্গীণ অনুভূতিকেই সর্বোচ্চ আরাত্রিক বৈশিষ্ট্য হিসেবে বিবেচনা করেছেন। অভিপ্সিত আবেগ ও বিজ্ঞানতপস্যার সমন্বিত অর্জনই হচ্ছে আধুনিক মানবসভ্যতার মৌলিক সৃষ্টিসূত্র। এরই ভিত্তিতে মানবতার ক্রমবিকাশ নানা মাত্রিকতায় ধরিত্রীর বর্তমান অবস্থানকে আলো-আঁধারে পরিমার্জিত ও পরিশীলিত করেছে। এখনও মানব সমাজে অনেকাংশে মনুষ্যত্বের নিরীক্ষমান নান্দীপাঠ মহৎ গুণ এবং পরহিংসক নির্গুণ বলয়ে প্রচ- বিভাজিত।

বারট্রান্ড রাসেলের ধারণায় ‘বিশ্লেষণের সমস্যাই হচ্ছে দর্শন’। করোনাকালের অসহায় অভিজ্ঞতা উল্লেখ্য বিশ্লেষণ-দর্শনের ভিত্তিতে করোনা গবেষণা লোকোত্তর অর্জন-অভিধায় অবশ্যই সঞ্জীবনী হবে এবং পৃথিবী নামক এই গ্রহের ভবিষ্যতকে মহামারী জয়ী-বান্ধব করে তুলবে। সমাজের সকল শাসন-শোষণ-নিপীড়ন-নিবর্তন পরিহারে বিশ্ববাসী নতুন চিন্তা-চেতনায় প্রচীয়মান হবে। মনুষ্যত্ব ও মানবতার ধীয়মান অনুসন্ধান মানব সভ্যতাকে ব্যতিক্রম পথ প্রদর্শনে অনেক দূর এগিয়ে নিয়ে যাবে। ভোগবাদী সাম্প্রতিক বিশ্বায়ন আধুনিক মানবিক সমাজ সভ্যতার প্রাগ্রসরতার মূলে যে কুঠারাঘাত হেনেছে, বিরোধ-বিচ্ছেদ-বিভাজন-বৈষম্যের দেয়াল নির্মাণ করে মানবিকতাকে হত্যা করেছে, আক্রান্ত করোনা বিশ্বের উপলব্ধিতে এর নিধনকল্পে বিশ্ববাসী সত্যাপন্য মূল্যবোধ আবিষ্কারে অধিকতর সতৃষ্ণ হবে – এটিই প্রত্যাশিত।

যুদ্ধোত্তর বাংলাদেশে বঙ্গবন্ধু আর্থ-সামাজিক পুনরুদ্ধারে নির্ভীক সাহসিকতায় জ্ঞান-যুক্তিনির্ভর পরিকল্পনা প্রণয়ন ও বাস্তবায়নে বজ্রকঠিন শপথে বলীয়ান হয়ে দেশবাসীকে ঐক্যবদ্ধ করে দেশের সকল সমস্যা-সম্ভাবনার স্বরূপ উন্মোচন করেছেন। বঙ্গবন্ধুর শৌজাত্য অন্তরে সুদৃঢ় ছিল বারট্রান্ড রাসেলসহ কালোত্তীর্ণ লেখক ও সমাজ চিন্তকের এসব অমর-অম্লাণবার্তা। বাংলা ও বাঙালীর মাধুর্য সন্ধানে সম্ভাবিত বলয় তৈরি করতে পেরেছিলেন বঙ্গবন্ধু স্বমহিমায়। ধারাবাহিকতায় বলা যায়; বঙ্গবন্ধুর চিন্তা-চেতনায় আরেক মহান রাজনীতিকের প্রভাব ছিল অফুরন্ত। তিনি হলেন রবি ঠাকুরের ভাষায় ‘যৌবনের মূর্ত ও চিরবসন্তের উজ্জ্বল প্রতীক’ জওহরলাল নেহরু। অপরিমেয় প্রতিভা, বিনয়ী আচরণ, নির্মল আদর্শ নিষ্ঠা এবং বিশ্বজনীন সৌহার্দ্যরে অবিচল কারিগরি কৌশল নেহরুকে যেমন প্রতিষ্ঠিত করেছিল বিশ্ব দরবারে অনন্য ব্যক্তিত্বে, বঙ্গবন্ধু ছিলেন দুর্বার যৌবনের বৃত্যাভাসে উদ্ভাসিত কঠিন তরঙ্গ যা কিছুতেই হার না মেনে এগিয়ে চলাকে ঋদ্ধ করেছেন। হয়েছেন জাতীয়তাবাদী ধর্মনিরপেক্ষ আদর্শিক বিশ্বনেতার কীর্তনআবর্ত।

বঙ্গবন্ধু মাত্র পঞ্চান্ন বছরের জীবনকালে প্রায় বার বছর কাটিয়েছেন কারাগারের অন্ধকার প্রকোষ্ঠে। ব্রিটিশ মানবাধিকার আন্দোলনের নেতা প্রয়াত লর্ড ফেনার ব্রকওয়ে বলেছিলেন, ‘এক অর্থে জর্জ ওয়াশিংটন, মহাত্মা গান্ধী ও ডি ভ্যালেরার চেয়ে শেখ মুজিব ছিলেন বড় নেতা।’ ১৯৭৩ সালে জোট নিরপেক্ষ আন্দোলনের আলজিয়ার্সে অনুষ্ঠিত শীর্ষ বৈঠকে বঙ্গবন্ধুর সঙ্গে প্রথম সাক্ষাতে কিউবার অবিসংবাদিত নেতা ফিদেল কাস্ট্রো বঙ্গবন্ধুকে জড়িয়ে আবেগপ্লাবিত কণ্ঠে বলেছিলেন, ‘আমি হিমালয় দেখিনি। তবে আমি শেখ মুজিবকে দেখেছি। ব্যক্তিত্ব ও সাহসিকতার দিক থেকে এই মানুষটি হিমালয়। তাই আমি হিমালয় দেখার অভিজ্ঞতা পেলাম।’

সম্বোধি অনুধাবন এবং ইতিহাস অধ্যয়নে বুদ্ধিদীপ্ত অন্তদৃষ্টি বঙ্গবন্ধুকে করেছে অভূতপূর্ব প্রোৎসাহিত। এরই ভিত্তিতে দীর্ঘ সময় জনগণ-মন বিজয়ী বঙ্গবন্ধু শুধু বাঙালীকে একতাবদ্ধ করেননি, স্বাপ্নিক স্বদেশের স্বাধীন ভূখ- ও লালসবুজের মানচিত্র অর্জনে নির্ব্যাজ চিত্রকরের অনবদ্য ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়েছেন। ধর্ম-বর্ণ, উচ্চ-মধ্যবিত্ত-দরিদ্র, অঞ্চল নির্বিশেষে বিভাজিত জনগোষ্ঠীর খ-িত বিরোধ-বিচ্ছেদ নির্বাণে বঙ্গবন্ধুর অসামান্য অবদান আজ বিশ্বখ্যাত। বঙ্গবন্ধুর নির্বিকল্প নতুন আদর্শের প্রাখর্য নিলয় হয়েছে বাঙালীর আজন্ম লালিত গন্তব্য। এসব বর্ণাঢ্য কারণেই বঙ্গবন্ধু বিশ্বমানবের কল্যাণ চেতনার নিখাঁদ পরিচর্যা ও প্রতিপালনে অবিনাশী কৃতাত্মার কালজয়ী মহাত্মার অনন্য উচ্চতায় সমাসীন হতে পেরেছিলেন। দেশপ্রেম-মানবকল্যাণ-মঙ্গল চেতনার নির্মাণশৈলীতে বঙ্গবন্ধু ছিলেন অদ্বিতীয় প্রাণপুরুষ। তিনি নিজেই ছিলেন নিজের অপ্রতিদ্বন্দ্বী বিকল্প। শোকাবহ আগস্টের এই দিনে বঙ্গবন্ধু ও পরিবারের সকল শহীদানের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করছি। বঙ্গবন্ধুর গৌরবোজ্জ¦ল জীবন গাঁথার মহাকাব্য বার বার জাগরিত হোক – এটুকুই প্রার্থিত আবেদন। জয় বাংলা, জয় বঙ্গবন্ধু।

লেখক : শিক্ষাবিদ, সাবেক উপাচার্য চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়