বঙ্গবন্ধুর স্বদেশ প্রত্যাবর্তন দিবস উপলক্ষে ব্রিটিশ হাইকমিশনের শুভেচ্ছা

Social Share

আগামীকাল ১০ জানুয়ারি স্বাধীন বাংলাদেশের স্থপতি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের স্বদেশ প্রত্যাবর্তন দিবস। ১৯৭১ সালের ১৬ ডিসেম্বর বাংলাদেশ স্বাধীন হওয়ার পর ১৯৭২ সালের এই দিনে তিনি পাকিস্তানের বন্দিত্ব থেকে মুক্তি পেয়ে যুদ্ধবিধ্বস্ত স্বাধীন-সার্বভৌম বাংলাদেশের মাটিতে পা রেখেছিলেন।

আর স্বদেশ প্রত্যাবর্তন দিবস উপলক্ষে ব্রিটিশ হাইকমিশন শুভেচ্ছা জানিয়েছে। বাংলাদেশে নিযুক্ত ব্রিটিশ হাইকমিশনর রবার্ট চ্যাটারটন ডিকসন এক ভিডিও বার্তায় বলেন, বাংলাদেশে নিযুক্ত ব্রিটিশ হাইকমিশনার হিসেবে আমি ইউকে-বাংলাদেশ বন্ধুত্বের একটি ঐতিহাসিক ঘটনার কথা স্মরণ করে মুজিববর্ষকে স্বাগত জানাচ্ছি।

তিনি বলেন, মুক্তিযুদ্ধ শেষে ৮ জানুয়ারি ১৯৭২ সালে যখন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান পাকিস্তান থেকে মুক্তি হোন তখন তিনি বাংলাদেশে আসার পথে যুক্তরাজ্য সফরের সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন। ১৯৭২ সালের ৮ জানুয়ারি রাতে বঙ্গবন্ধু তৎকালিন ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী স্যার এডওয়ার্ড হিথ এর সঙ্গে ১০নং ডাইনিং স্ট্রিটে সাক্ষাৎ করেন। বঙ্গবন্ধুর সঙ্গে সাক্ষাৎ করার জন্য স্যার এডওয়ার্ড হিথ তার ছুটি শেষ হওয়ারই আগে কার্যালয়ে ফিরে আসেন।

তিনি জানান, ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী স্যার এডওয়ার্ড হিথ এই সাক্ষাতের কথা স্মরণ করে ইউকে পার্লামেন্টে বলেন, যখন শেখ মুজিব আমার সঙ্গে ১০নং ডাইনিং স্ট্রিটে সাক্ষাৎ করেন তখন আমি তাঁকে ভারতীয় উপমহাদেশের তিনটি দেশের সঙ্গে ভালো সম্পর্ক বজায় রাখার আমাদের নীতির বিষয়ে অবগত করি। এই বিষয়ে তিনি (এডওয়ার্ড) আরো বলেন, বর্তমান অবস্থায় বাংলাদেশকে আমরা সর্বোচ্চ সহায়তা প্রদান করবো।

ব্রিটিশ হাইকমিশনার আরো বলেন, দু’দিন পর ১০ জানুয়ারি ব্রিটিশ রয়েল এয়ার ফোর্স এর একটি কমেট জেট বঙ্গবন্ধুকে ঢাকায় নিয়ে আসে, যেখানে বাংলাদেশের মানুষ অধীর আগ্রহে বঙ্গবন্ধুর প্রত্যাবর্তনের অপেক্ষায় ছিল। আমি আনন্দিত যে আগামী ১০ জানুয়ারি মুজিববর্ষ উদ্বোধন করতে এই ঐতিহাসিক ঘটনার পুনরায় প্রণয়ন করা হবে। আমি এই পুনঃপ্রণয়ন দেখার প্রত্যাশা করছি।

রবার্ট চ্যাটারটন ডিকসন ভিডিও বার্তায় বলেন, লন্ডনে বঙ্গবন্ধুর এই সফর ইউকে-বাংলাদেশ পার্টনারশিপ ও দুই দেশের মানুষের বন্ধুত্বের ভিত্তি। সেই সময় থেকে যুক্তরাজ্য স্বাধীন বাংলাদেশের গুরুত্বপূর্ণ সহযাত্রী এবং এই দেশের মানুষের শান্তি ও সমৃদ্ধির শুভাকাঙ্ক্ষী।

তিনি আরো বলেন, বাংলাদেশকে স্বীকৃতি প্রদান করা প্রথম কয়েকটি দেশের মধ্যে অন্যতম যুক্তরাজ্য (১৯৭২ সালের ৪ ফেব্রুয়ারি)। যুক্তরাজ্যের এই স্বীকৃতি বাংলাদেশকে অন্যান্য কমনওয়েলথ ও পশ্চিমা দেশের স্বীকৃতি পেতে সাহায্য করে। ইউকে-বাংলাদেশ পার্টনারশিপের ৪৮ বছর পেরিয়ে গেছে। এই দীর্ঘ সময় দুই দেশের সম্পর্ক আরো ঘনিষ্ঠ ও মজবুত হয়েছে। যুক্তরাজ্য স্বাধীন দেশ হিসেবে বাংলাদেশের ৫০ বছর পূর্তি উদযাপনকে স্বাগত জানায়। যুক্তরাজ্য প্রত্যাশা করে আগামীতে দুই দেশের মানুষের সম্পর্ক আরো বৃদ্ধি পাবে।