বঙ্গবন্ধুর ভাস্কর্য বিরোধীতার আড়ালে সুদূরপ্রসারী ‘স্বাধীনতা বিরোধী সূক্ষ্ম ষড়যন্ত্র‘

46
Social Share

স্টার্ফ রিপোর্টার: বঙ্গবন্ধুর ভাস্কর্য বাস্তবায়ন পরিষদের আহ্বায়ক ড. মো. আওলাদ হোসেন বঙ্গবন্ধুর ভাস্কর্য যথাসময়ে সম্পন্ন করার দাবিতে ঢাকা রিপোর্টাস ইউনিটিতে সাংবাদিক সন্মলনে বলেছেন, বঙ্গবন্ধুর ভাস্কর্য বিরোধীতার আড়ালে সুদূরপ্রসারী ‘স্বাধীনতা বিরোধী সূক্ষ্ম ষড়যন্ত্র‘ এর বিরুদ্ধে সোচ্চার হওয়ার আহবান।

বঙ্গবন্ধুর ভাস্কর্য বাস্তবায়ন পরিষদের আহ্বায়ক ড. মো. আওলাদ হোসেন বলেছেন, ভাস্কর্য একটি মীমাংসিত ইস্যু কিন্তু সেই বিষয়ে ধর্মীয় অপব্যাখা দিয়ে সাধারণ মানুষকে বিভ্রান্ত করায় সমাজে বিভাজন সৃষ্টি হয়েছে। এই পরিস্থিতিতে ভাস্কর্য বিরোধীদের শুভ বুদ্ধির উদয় হয়েছে, তাঁরা সরকারের সাথে আলোচনা করে সমঝোতায় এসেছেন। কিন্তু তাঁদের সাম্প্রতিক কর্মকান্ডের মাধ্যমে সমাজের তৃণমূল পর্যায়ে যে বিভাজন সৃষ্টি হয়েছে, সমাজে যে ক্ষত সৃষ্টি হয়েছে সেটা এখনও চলামান। কাজেই তাঁরা যেভাবে ভাস্কর্যবিরোধী প্রচারণা করেছিলেন, জননেত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় বিশ্বাসীরা ঐক্যবদ্ধ হয়ে ঠিক তেমনিভাবে প্রচারণা চালিয়ে ভাস্কর্য ইস্যুতে সৃষ্ট তৃণমূলের ক্ষত সারিয়ে তুলতে হবে।
ভাস্কর্য ইস্যু এবং দেশের সামগ্রিক উন্নয়নের বিভিন্ন দিক নিয়ে বাংলা ইনসাইডারের সঙ্গে কথা বলেছেন তিনি। পাঠকদের জন্য সাক্ষাৎকারটি নিয়েছেন বাংলা ইনসাইডারের নিজস্ব প্রতিবেদক জুয়েল খান।
ড. মো. আওলাদ হোসেন বলেন, করোনাকালে সারাবিশ্বে অর্থনৈতিক মন্দা হলেও বাংলাদেশের অর্থনীতি মন্দা হয়নি। বিশ্ব খাদ্য সংস্থা করোনাকালে বিশ্বে খাদ্য সংকটে কয়েক কোটি মানুষের মৃত্যু হবে বলে সম্ভাবনা ঘোষণা করলেও আল্লাহর রহমত এবং শেখ হাসিনার দূরদর্শি নেতৃত্বের কারণেই বাংলাদেশে খাদ্য সংকট হয়নি। করোনা মহামারী কালে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার গৃহীত পদক্ষেপসমূহ সারাবিশ্বে প্রশংসিত হয়েছে। বিশেষ করে বাংলাদেশের রেমিটেন্স বেড়েছে রেকর্ড পরিমাণ। এক্ষেত্রে সরকারের একটি সিদ্ধান্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। সরকারের সিদ্ধান্ত ছিলো বৈধ পথে রেমিটেন্স পাঠালে ২ শতাংশ টাকা দেয়া হবে। আর এই সিদ্ধান্তের কারণেই প্রবাসীরা বৈধ পথে টাকা পাঠিয়েছেন এবং বাংলাদেশের রেমিটেন্স রেকর্ড পরিমাণে বৃদ্ধি পেয়েছে। সরকারের গৃহীত বিভিন্ন পজিটিভ সিদ্ধান্তের কারণে অর্থনৈতিকভাবে বাংলাদেশ যেভাবে এগিয়ে যাচ্ছে সেই অগ্রগতিকে বাধাগ্রস্ত করতে একটি স্বার্থান্বেষী মহল ইর্ষান্বিত হয়ে দেশের মধ্যে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির চেষ্টা করছে। এক্ষেত্রে ধর্মের অপব্যাখ্যা করে সাধারণ ধর্মপ্রাণ মুসলমানদের অনুভূতিকে কাজে লাগিয়ে দেশের মধ্যে বিশৃঙ্খলা করার একটা সুক্ষ ষড়যন্ত্র চালিয়েছে।
বাংলাদেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নে ইর্শান্বিত হয়ে মীমাংসিত বিয়ষ নিয়ে সারাদেশে বিতর্ক সৃষ্টি করে তৃণমূলে মানুষের মধ্যে এক ধরনের বিভাজন সৃষ্টি করেছে জানিয়ে তিনি বলেন, বিভিন্ন মসজিদে ভাস্কর্যবিরোধীদের কতিপয় অনুসারিরা বুঝে বা না বুঝে বা উদ্দেশ্য প্রণোদিতভাবে হীন রাজনৈতিক ফায়দা নেয়ার জন্য বঙ্গবন্ধুর ভাস্কর্য নিয়ে কুরুচিপূর্ণ কথা বলেছেন। ১৯৭১ সালে মহান মুক্তিযুদ্ধের সময় স্বাধীনতা বিরোধীরা ধর্মীয় অপব্যাখা দিয়ে যেমনিভাবে স্বাধীনতা যুদ্ধের বিরোধীতা করেছিলো ঠিক তেমনিভাবে শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বাংলাদেশের উন্নয়নকে বাধাগ্রস্ত করার জন্য এবং দেশকে পিছিয়ে দেয়ার জন্য মীমাংসিত ইস্যু নিয়ে সামাজিকভাবে বিপর্যয় ঘটিয়েছে। এই পরিস্থিতিতে মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় বিশ্বাসী সকল শক্তি ও জনগণের উচিত, জননেত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে ঐক্যবদ্ধ হয়ে ভাস্কর্য বিরোধীতার আড়ালে সুদূরপ্রসারী ‘স্বাধীনতা বিরোধী সূক্ষ্ম ষড়যন্ত্র‘ এর বিরুদ্ধে সোচ্চার হওয়া, ষড়যন্ত্রকারীদের করা।