বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বের বিশালতা ॥ একটি বিশ্লেষণ

Social Share

যারা স্বাধীনতা সংগ্রামে নেতৃত্ব দিয়ে বিশ্ব ইতিহাসে অবিস্মরণীয় উদাহরণ সৃষ্টি করেছেন, তাদেরই একজন বাঙালী জাতির অবিসংবাদিত নেতা হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ বাঙালী বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। তাঁর মধ্যে অসাধারণ সব নেতৃত্বের গুণাবলী ছিল বলেই তিনি পাকিস্তানী সামরিক শাসকদের বিরুদ্ধে ২৩ বছরের গণতান্ত্রিক আন্দোলনকে ধাপে ধাপে চূড়ান্ত পর্যায়ে এনে সশস্ত্র আন্দোলনে রূপ দিতে পেরেছিলেন। জনগণকে সুসংগঠিত করে জনযুদ্ধের জন্য প্রস্তুত করেছিলেন। এরই ধারাবাহিকতায় ১৯৭১ সালে নয় মাসের সশস্ত্র যুদ্ধে ৩০ লাখ শহীদের আত্মদান এবং দুই লাখ মা-বোনের সম্ভ্রমের বিনিময়ে স্বাধীন-সার্বভৌম বাংলাদেশের অভ্যুদয় ঘটে। বঙ্গবন্ধুর মাঝে কী সেই নেতৃত্বের গুণাবলী যা সাড়ে সাত কোটি বাঙালীকে ঐক্যবদ্ধ করে সর্বোচ্চ ত্যাগ স্বীকারের জন্য প্রস্তুত করে? এই প্রশ্নের উত্তর নিহিত রয়েছে অবিভক্ত ভারতবর্ষে তাঁর রাজনীতি, বাঙালীর আত্মপরিচয়ের ঠিকানা জাতিরাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার আন্দোলন এবং স্বাধীন বাংলাদেশে সাড়ে তিন বছর রাষ্ট্র পরিচালনায় গৃহীত উদ্যোগ, নীতি ও কৌশলের মধ্যে। এসব কিছুর বিশ্লেষণ করলেই খুঁজে পাওয়া যাবে বঙ্গবন্ধু হঠাৎ করে নেতা হননি। তিনি নেতা হয়েছেন রাজনৈতিক প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে। তাঁর নেতৃত্বের অসাধারণ সব গুণ ছিল বলেই তিনি বিশ্ব নেতায় পরিণত হন। আসলে বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বের মধ্যে আন্দোলন কৌশল, সাহস, সততা, ধর্মনিরপেক্ষ, অনলবর্ষী বক্তা ও যোগাযোগকারী, মানুষের প্রতি ভালবাসা, ক্যারিশমা, ভিশনারিসহ অনেক গুণাবলী রয়েছে যার বিশ্লেষণে একেকটি বড় গ্রন্থ রচনা করা সম্ভব।

প্রথমেই বলতে হয় বঙ্গবন্ধুর সাহসের কথা। তিনি ছিলেন অসীম সাহসী একজন মানুষ। কোন কিছুতেই ভয় পেতেন না। তাঁর এই সাহসের প্রকাশ দেখা যায় অবিভক্ত ভারতবর্ষের রাজনীতিতে এবং ১৯৪৭ সালে পাকিস্তান সৃষ্টির পর সামরিক সরকারের বিরুদ্ধে সুদীর্ঘ ২৩ বছরের আন্দোলনে। স্কুল জীবনে শেখ মুজিবের রাজনীতিতে অভিষেক ঘটে এই সাহসের প্রকাশ ঘটানোর মধ্য দিয়ে। ১৯৩৮ সালে গোপালগঞ্জ মিশন স্কুলে সপ্তম শ্রেণীতে পড়ার সময়। অবিভক্ত ভারতবর্ষের শ্রমমন্ত্রী হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দীর এ স্কুল পরিদর্শনে এলে ক্লাসের ক্যাপ্টেন শেখ মুজিব ছাত্রদের পক্ষ থেকে স্কুলের ছাদ দিয়ে পানি পড়া ঠিক করা ও ছাত্রাবাস নির্মাণের দাবি তোলেন। সোহরাওয়ার্দী শেখ মুজিবের কথাবার্তা ও সাহস দেখে মুগ্ধ হন। পরবর্তীতে সোহরাওয়ার্দীর সান্নিধ্য লাভ করেন এবং তাকে রাজনৈতিক গুরু হিসেবে গ্রহণ করেন শেখ মুজিব। স্কুল জীবনেই ছাত্র রাজনীতিতে যোগ দিয়ে তিনি সাহসী ও বিপ্লবী নেতা হিসেবে পরিচিত হন। ১৯৪১ সালে কলকাতায় হলওয়েল মনুমেন্ট অপসারণ আন্দোলনে সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করেন। এ বছরই তিনি দুবার গ্রেফতার হন। দ্বিজাতিতত্ত্বের ভিত্তিতে ভারতবর্ষ ভাগের আগে ১৯৪৬ সালের আগস্টে সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা বাঁধে। এই দাঙ্গা দমন ও শান্তি প্রতিষ্ঠায় মহাত্মা গান্ধী ও সোহরাওয়ার্দী যে তৎপরতা শুরু করেন, তাতে তিনি সক্রিয় ভূমিকা পালন করেন। পাকিস্তান সৃষ্টির পর ১৯৪৮ সালে রাষ্ট্রভাষা বাংলা চাই দাবিতে শুরু হওয়া আন্দোলন থেকে ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধ পর্যন্ত ২৩ বছরের আন্দোলনে তাকে বহুবার গ্রেফতার করা হয়। জীবনের প্রায় ১৩ বছর কাটে কারাগারে। ১৯৬৬ সালে ৬-দফা ঘোষণার পর তিন মাসে ৮ বার গ্রেফতার করা হয়। বঙ্গবন্ধু ছিলেন পাকিস্তানী শাসকদের এক নম্বর শক্র। অথচ তিনিই পশ্চিম পাকিস্তানের মাটিতে দাঁড়িয়ে বাঙালীর মুক্তি সনদ ৬-দফা ঘোষণা করেন। তিনি পাকিস্তানী সামরিক সরকারের রক্তচক্ষুকে ভয় করতেন না।

বঙ্গবন্ধু মৃত্যুকেও ভয় পেতেন না। পাকিস্তানের মিয়ানওয়াল কারাগারে বন্দী অবস্থায় ইয়াহিয়া খান বঙ্গবন্ধুকে সামরিক ট্রাইব্যুনালে গোপন বিচারের মাধ্যমে হত্যার পাশাপাশি আরেকটি হত্যা পরিকল্পনা ছিল কারাগারের অভ্যন্তরে হত্যা করার। ১৯৭১ সালের ১৮ জানুয়ারি দ্য নিউইয়র্ক টাইমস-এ বঙ্গবন্ধুর সাক্ষাতকার থেকে হত্যা পরিকল্পনার কথা জানা যায়। পত্রিকাটি লিখেছে জেনারেল নিয়াজির গ্রমের জেলা শহর মিয়ানওয়ালের বন্দীদের বাঙালীরা তাকে (নিয়াজিকে) হত্যা করেছে খবর রটিয়ে বঙ্গন্ধুকে হত্যা। এ জন্য কারাগারেই বঙ্গবন্ধুর সেলের অদূরে কবর খোঁড়া হয়। কারা তত্ত্বাবধায়ক তাকে অন্যত্র নিয়ে যাওয়ার কথা বললে বঙ্গবন্ধু বলেন, ‘ইফ ইউ আর গোয়িং টু এক্সিকিউট মি, দেন প্লিজ গিভ মি ফিউ মিনিটস টু ছে মাই লাস্ট প্রেয়ারস।’ কারা তত্ত্বাবধায়ক সময় নেই বলে টেনে নিয়ে যাওয়ার সময় বঙ্গবন্ধু তাঁর সেলের বাইরে খোঁড়া কবর দেখতে পান।

পাকিস্তানী শাসক গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে আন্দোলনে বঙ্গবন্ধু ছিলেন অত্যন্ত কৌশলী। ১৯৪৮ সাল থেকে ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধ শুরুর আগ পর্যন্ত ২৩ বছরের আন্দোলনের পথ পরিক্রমায় ১৯৫২, ১৯৬২, ১৯৬৬, ১৯৬৮ ও ১৯৬৯ সালে বাংলাদেশের রাজপথ রঞ্জিত হয়েছে শত শহীদের রক্তে। কিন্তু বঙ্গবন্ধু কখনোই আন্দোলন যাতে সহিংস রূপ পরিগ্রহ না করে সেদিকে সতর্ক ছিলেন। গণতান্ত্রিক ধারায় আন্দোলনকে তিনি ধাপে ধাপে এগিয়ে নিয়ে সশস্ত্র সংগ্র্রামের দিকে ধাবিত করেন এবং নয় মাসের যুদ্ধের মধ্য দিয়ে স্বাধীন-সার্বভৌম বাংলাদেশের অভ্যুদয় ঘটে। কেন বঙ্গবন্ধু মুক্তিযুদ্ধের আগ পর্যন্ত আন্দোলনের গণতান্ত্রিক চরিত্র বজায় রাখেন এবং সহিংস রূপ নিতে দেননি? এর কারণ: এক. পাকিস্তানী শাসক গোষ্ঠীকে আন্দোলন বিভ্রান্ত করার সুযোগ না দেয়া; দুই. আস্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কাছে আন্দোলনকে বিচ্ছন্নতাবাদী বা সস্ত্রাসী হিসেবে আখ্যায়িত করার কোনরূপ সুযোগ না দেয়া। গভীরভাবে বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, গণতান্ত্রিক ধারায় আন্দোলন পরিচালনা কৌশল গ্রহণের মধ্য দিয়ে বঙ্গবন্ধু তিনটি অধিকার অর্জন করেন, যা স্বাধীনতার লক্ষ্য অর্জনের পথ সুগম করে।

প্রথমত, রাজনৈতিক অধিকার। পাকিস্তানী সামরিক শাসক গোষ্ঠী নানা অজুহাতে বাঙালীর রাজনৈতিক অধিকার কেড়ে নিতে চেয়েছে। মার্শাল ল জারি করে রাজনৈতিক কার্যক্রম বন্ধও করেছে। এ জন্য তিনি রাজনৈতিক কার্যক্রম এগিয়ে নিয়েছেন গণতান্ত্রিক ধারায়। যে কারণে পাকিস্তানী শাসকবর্গ কখনোই এ আন্দোলনকে বিচ্ছিন্নতাবাদী আন্দোলন হিসেবে অভিহিত এবং আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কাছে একে সহিংস বা সন্ত্রাসী আন্দোলন হিসেবে আখ্যায়িত করতে পারেনি।

দ্বিতীয়ত, দেশ শাসনের সাংবিধানিক অধিকার। গণতান্ত্রিক আন্দোলনের ধারাবাহিকতায় ১৯৭০ সালের নির্বাচনে আওয়ামী লীগ নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে জয়ী হয়ে রাষ্ট্র পরিচালনার সাংবিধানিক অধিকার অর্জন করে। ৩০০ আসনের গণপরিষদে জনসংখ্যার অনুপাতে পূর্ব পাকিস্তানের ১৬৯ আসনের মধ্যে ১৬৭ আসন লাভ করে আওয়ামী লীগ আর পশ্চিম পাকিস্তানের ১৩১ আসনের মধ্যে জুলফিকার আলী ভুট্টোর পিপলস পার্টি পায় ৮১টি আসন। আর প্রাদেশিক পরিষদের ৩০০ আসনের মধ্যে ২৮৮ আসন লাভ করে আওয়ামী লীগ। বঙ্গবন্ধু নির্বাচনকে আন্দোলনের কৌশল হিসেবে বেছে নেন। যে কারণে ওয়েস্ট মিনিস্টার টাইপের গণতন্ত্রে বিশ্বাসী হয়েও সামরিক সরকারের জারি করা লিগ্যাল ফ্রেমওয়ার্ক অর্ডারের (এলএফও) অধীনে বঙ্গবন্ধু নির্বাচনে অংশ নেন। নির্বাচনী প্রচার চলাকালে এক পাকিস্তানী সংবাদিকের প্রশ্নের উত্তরে শেখ মুজিব বলেন, নির্বাচনের পরে ঐ এলএফও আমি ছিড়ে ফেলব।

তৃতীয়ত, নৈতিক অধিকার। সত্তরের নির্বাচনে আওয়ামী লীগের নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে জয় লাভের পর প্রেসিডেন্ট ইয়াহিয়া সংসদের অধিবেশন আহ্বান করেও তা অনির্দিষ্টকালের জন্য স্থগিত ও ক্ষমতা হস্তান্তরে টালবাহানা করলে বঙ্গবন্ধু ২৬ মার্চের প্রথম প্রহরে গ্রেফতারের আগে স্বাধীনতার ঘোষণা দেন। এই স্বাধীনতা ঘোষণা দেয়ার নৈতিক ও আইনগত অধিকার ছিল একমাত্র বঙ্গবন্ধুরই, যা তিনি সত্তরের নির্বাচনে বিজয়ের মাধ্যমেই অর্জন করেন। কোন ড্রামের ওপর দাঁড়িয়ে কারও এই স্বাধীনতা ঘোষণার দাবি করার সুযোগ নেই। বাংলাদেশের স্বাধীনতা ঘোষণার অধিকার এককভাবেই ছিল বঙ্গবন্ধুর।

বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বের অন্যতম গুণাবলী হচ্ছে সততা। তিনি এই শিক্ষা পেয়েছেন পরিবার থেকে। তাঁর পিতা শেখ লুৎফর রহমান ১৯৪২ সালে তাকে বলেছিলেন, ‘বাবা রাজনীতি কর আপত্তি করব না, পাকিস্তানের জন্য সংগ্রাম করছ এত সুখের কথা, তবে লেখাপড়া করতে ভুলিও না। লেখাপড়া না শিখলে মানুষ হতে পারবে না। আর একটা কথা মনে রেখ, ‘সিনসিয়ারিটি অব পারপোস এ্যান্ড অনেস্টি অব পারপোস’ থাকলে জীবনে পরাজিত হবা না।’ (শেখ মুজিবুর রহমান, অসমাপ্ত আত্মজীবনী, পৃষ্ঠা ২১)। সারা জীবনে তিনি সততার অনুশীলন করেছেন। রাজনীতিতে কখনও মিথ্যা, ভ-ামির আশ্রয় নেননি। ৯ ডিসেম্বর ১৯৭০ সালে দ্য নিউইয়র্ক টাইমসে ‘আনডিসপুটেড লিডার অব দ্য বেঙ্গলিস’ শীর্ষক প্রতিবেদনটিতে আরও লেখা হয়, ‘নো ওয়ান হ্যাস একিউসড শেখ মুজিব অব ফলস মডেস্টি।’ বঙ্গবন্ধুর সততা ছিল বলেই মানুষই তাকে নেতা বানিয়েছে।

বঙ্গবন্ধু তাঁর সারা জীবনে কখনোই সাম্প্রদায়িকতাকে স্থান দেননি। ‘বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব ছিলেন আপাদমস্তক অসাম্প্রদায়িক ও ধর্মনিরপেক্ষ বা সেক্যুলার। এর প্রমাণ তিনি বার বার দিয়েছেন। তবে ধর্মপ্রাণ বাঙালী জনগণের ধর্মীয় অনুভূতির পটভূমিতে ধর্মনিরপেক্ষতা অর্থে পাশ্চাত্যে দর্শন দ্বারা প্রভাবিত না হয়ে তিনি এর সংজ্ঞা নির্ধারণ করে বলেছেন যে, হিন্দু-মুসলমান-বৌদ্ধ-খ্রীস্টান সবাই নিরাপদে যার যার ধর্ম পালন করতে পারবে নির্ভয়ে বাংলাদেশে।’ (অধ্যাপক অজয় রায়, বঙ্গবন্ধুর ৭ মার্চের ভাষণ রাজনীতির মহাকাব্য, পৃষ্ঠা ১২৯)।

বাংলাদেশ রাষ্ট্রের জন্মের আগেই বঙ্গবন্ধু মনে স্বাধীনতার স্বপ্ন আঁকেন। ১৯৪৭ এর মধ্যভাগে তিনি কলকাতায় সিরাজ-উদদৌলা হলে বন্ধু সহকর্মীদের ডেকে নিয়ে বলেছিলেন, ‘পাকিস্তান স্বাধীন হতে যাচ্ছে, এই স্বাধীনতা সত্যিকারের স্বাধীনতা নয়। হয়তো বাংলার মাটিতে নতুন করে আমাদের সংগ্রাম করতে হবে।’ (বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব, মযহারুল ইসলাম, আগামী প্রকাশনী)। একজন নেতা কতটা ভিশনারি হলে বাংলাদেশের স্বাধীনতার ২৩ বছর আগে তাঁর স্বাধীনতার কথা ভাবতে পারেন! শুধু রাজনৈতিক সংগ্রামে নয়, মাত্র সাড়ে তিন বছরে রাষ্ট্র পরিচালনায় একটি যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশ গড়ে তোলার পাশাপাশি এমন কিছু পদক্ষেপ তিনি গ্রহণ করেছিলেন, যা তাঁর দূরদর্শী চিন্তা থেকে উৎসারিত। তিনি বাংলাদেশকে একটি আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর, বিজ্ঞানভিত্তিক ও সমৃদ্ধিশালী দেশ হিসেবে গড়ে তোলার জন্য বিভিন্ন উদ্যোগ গ্রহণ করেছিলেন। এর মধ্যে অন্যতম তৃতীয় শিল্প বিপ্লব বা ডিজিটাল বিপ্লবের সুফল ঘরে তোলার উদ্যোগ। বাংলাদেশ যুদ্ধবিধ্বস্ত একটি দেশ। অন্ন, বন্ত্র, বাসস্থান, শিক্ষার মতো মানুষের মৌলিক চাহিদা অগ্রাধিকার বিবেচনায় থাকার কথা। কিন্তু তিনি এসবের সঙ্গেও তাঁর স্বপ্নের সোনার বাংলা গড়ার জন্য তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তিনির্ভর ডিজিটাল বা তৃতীয় শিল্প বিপ্লবের কথা ভেবেছেন। এমন কোন খাত নেই যেখানে তিনি দূরদর্শী চিন্তা থেকে পদক্ষেপ গ্রহণ করেননি। বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ তলানিতে, অথচ ব্রিটিশ শেল কোম্পানির কাছ থেকে ৪৫ লাখ পাউন্ডে পাঁচটি গ্যাস ক্ষেত্র কিনে নেয়া (যা থেকে বর্তমানে মোট গ্যাস সরবরাহের ৩৫ শতাংশের যোগান আসে), সমুদ্র সম্পদ আহরণে সমুদ্র সীমানা বিরোধ মিটিয়ে ফেলার উদ্যোগ এবং রাশিয়া ও জার্মানির সঙ্গে চুক্তি, জ্ঞান ও বিজ্ঞানভিত্তিক সমাজ বিনির্মাণে কুদরত-ই-খুদা শিক্ষা কমিশন গঠন ছিল তাঁর দূরদর্শী চিন্তারই ফসল।

লেখক : সিনিয়র সাংবাদিক ও বাসসের সাবেক সিটি এডিটর