বঙ্গবন্ধুর ঘাতককে ফিরিয়ে নেয়া ছাড়াও প্রাধান্য পাবে রোহিঙ্গা ইস্যু : পররাষ্ট্রমন্ত্রী

17
Social Share

ওয়াশিংটন ডিসিতে চারদিনের সফরকালে বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আব্দুল মোমেন যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী অ্যান্টনি ব্লিনকেনের কাছে বঙ্গবন্ধুর ঘাতক হিসেবে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত রাশেদ চৌধুরী এবং একাত্তরের বুদ্ধিজীবী হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার দায়ে ফাঁসির দণ্ডপ্রাপ্ত আলবদর আশরাফুজ্জামান খানকে বাংলাদেশে ফিরিয়ে নেয়ার পুরনো প্রসঙ্গটি আরও বিস্তারিতভাবে উল্লেখ করবেন।

বাইডেন প্রশাসনের মুক্ত আন্তর্জাতিক কূটনীতির কৌশলের আওতায় বাংলাদেশের জন্যে জিএসপি সুবিধা পুনর্বহাল, রোহিঙ্গা ইস্যুতে আরো কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ ইত্যাদি ইস্যুতে দুই পররাষ্ট্রমন্ত্রী ২৩ ফেব্রুয়ারি মঙ্গলবার রাতে (বাংলাদেশ সময় বুধবার ভোরে) বৈঠকে মিলিত হবেন বলে স্টেট ডিপার্টমেন্ট সূত্রে জানা গেছে।

উল্লেখ্য, সাবেক প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের আইনমন্ত্রী উইলিয়াম বার এক ঘোষণায় বঙ্গবন্ধুর ঘাতক রাশেদ চৌধুরীর এসাইলাম প্রক্রিয়া খতিয়ে দেখার উদ্যোগ নিয়েছিলেন। সেটি সক্রিয় থাকতেই জো বাইডেন প্রশাসন অধিষ্ঠিত হয়েছে। ডেমক্র্যাট-প্রশাসনে মানবতাবিরোধী এবং ঘাতকদের ব্যাপারে কোন ছাড় থাকে না। দীর্ঘ সাড়ে তিন দশক যুক্তরাষ্ট্রে অধ্যাপনার পাশাপাশি ডেমক্র্যাটিক পার্টির ডেলিগেট হিসেবে ড. মোমেনের অনেক অভিজ্ঞতা রয়েছে। সে আলোকে দায়িত্ব গ্রহণের পরই করোনার ভীতি সত্ত্বেও ছুটে এসেছেন ওয়াশিংটন ডিসিতে। প্রবাসের রাজনৈতিক সচেতন ব্যক্তিরা মনে করছেন মোমেনের এই সফর বাইডেন প্রশাসনের সাথেও শেখ হাসিনা প্রশাসনের সম্পর্ক আরো মজবুত করতে অপরিসীম ভূমিকা রাখবে। একইসাথে যুক্তরাষ্ট্রে পালিয়ে থাকা দণ্ডিত ঘাতকসহ বাংলাদেশের আরো কিছু গুরুতর অপরাধে লিপ্ত ব্যক্তিদেরকেও গ্রেফতার করে বাংলাদেশে নেয়ার পথ সুগম হতে পারে।

ওয়াশিংটন ডিসি সফরকালে ড. মোমেন ইউএস সিনেটে ফরেন রিলেশন্স কমিটির চেয়ারম্যান (নিউজার্সির ডেমক্র্যাট) সিনেটর বব ম্যানেন্ডেজের সাথেও বৈঠকে মিলিত হবেন। সে বৈঠকে রোহিঙ্গা ইস্যুর পাশাপাশি দক্ষিণ এশিয়াভিত্তিক গুরুত্বপূর্ণ কিছু ইস্যুতেও কথা বলবেন ড. মোমেন।

উল্লেখ্য, সিনেটর ম্যানেন্ডেজ ইতিপূর্বেও বাংলাদেশের সামগ্রিক উন্নয়নে অপরিসীম ভূমিকা রেখেছেন। করোনায় বিপর্যস্ত গোটাবিশ্ব। বাংলাদেশও তার বাইরে নয়। এ অবস্থায় যুক্তরাষ্ট্রের বেশ কটি কোম্পানী চুক্তির শর্ত লংঘন করে বাংলাদেশ থেকে পোশাক আমদানিতে টালবাহানা, কেউ কেউ বকেয়া পরিশোধে সীমাহীন উদাসীনতা প্রদর্শন করছে। এ নিয়ে কথা হবে সিনেটর ম্যানেন্ডেজের সাথে। সে সময় বাংলাদেশের তৈরী পোশাকের মত ওষুধ কোম্পানীগুলোও যুক্তরাষ্ট্রের চাহিদার পরিপূরক ওষুধ প্রস্তুত ও সরবরাহে সক্ষম হলে অবহিত করবেন মার্কিন সিনেটে এই প্রভাবশালী নেতাকে।
পর্যবেক্ষক মহলের মতে বাংলাদেশের ধাবমান উন্নয়ন-অভিযাত্রার বিরুদ্ধে বিশেষ একটি মহলের মোটা অর্থ বিনিয়োগ এবং ওয়াশিংটন ডিসিতে প্রভাবশালী মহলকে বিভ্রান্ত করা, বিশেষ করে জো বাইডেনের প্রশাসনকে যাতে বিভ্রান্ত করতে না পারে সেজন্যে আগের সম্পর্ক কাজে লাগিয়ে ড. মোমেন বাইডেন প্রশাসনের আরো ক’জন গুরুত্বপূর্ণ কর্মকর্তার সাথেও কথা বলতে পারেন।

বলার অপেক্ষা রাখে না যে, বাইডেনের এই পররাষ্ট্রমন্ত্রী বিভিন্ন দেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রীগণের সাথে টেলিফোনে শুভেচ্ছা বিনিময় করলেও বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রীকে ওয়াশিংটনে আমন্ত্রণ জানিয়েছেন। উল্লেখ্য, বাইডেনের পরিবেশ ও জলবায়ু বিষয়ক টিমের প্রধান জন কেরীর সাথে ব্যক্তিগত সম্পর্ক ছিল ড. মোমেনের। সেটিকেও এখন ঝালাই করা হবে বাংলাদেশের সাথে বিদ্যমান সম্পর্ক আরো দৃঢ় ভিতের ওপর দাঁড় করাতে। কারণ, জলবায়ু পরিবর্তনের পরিপ্রেক্ষিতে যেসব দেশ বেশি ক্ষতির শিকার হবে বলে মনে করা হচ্ছে, বাংলাদেশ হচ্ছে তার অন্যতম।
ড. মোমেন মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ব্লিনকেন এবং বাইডেনের জলবায়ু বিষয়ক বিশেষ দূত জন কেরীকে বাংলাদেশ সফরের আমন্ত্রণ জানাবেন বলেও শোনা যাচ্ছে।
ডিসিতে অবস্থানকালে ভয়েস অব আমেরিকাসহ কটি গণমাধ্যমেও বাংলাদেশের সামগ্রিক পরিস্থিতি নিয়ে কথা বলবেন। উল্লেখ্য, ২৩ ফেব্রুয়ারি মঙ্গলবার অপরাহ্ন ৩টায় ড. মোমেন ওয়াশিংটন ডিসিতে অবতরণের কথা। এয়ারপোর্টে তাকে স্বাগত জানাবেন ওয়াশিংটনে বাংলাদেশের নতুন রাষ্ট্রদূত শহীদুল ইসলাম। করোনার কারণে ড. মোমেন এবার কমিউনিটির কোন অনুষ্ঠানে যোগদান করবেন না বলে আগেই জানিয়ে দিয়েছেন।