বঙ্গবন্ধুকন্যাই ভরসার বাতিঘর ড. আতিউর রহমান

Social Share

বঙ্গবন্ধুকন্যাই ভরসার বাতিঘর
ড. আতিউর রহমান

আজ বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনার জন্মদিন। তাঁর এবারের জন্মদিনটি অন্য রকম এক অন্ধকার ভেদ করে এগিয়ে যাওয়ার দিন। বিশ্বজুড়ে নেমে এসেছে করোনাকালের এক নিকষ আঁধার। সেই অন্ধকার পাড়ি দিয়ে তিনি এগিয়ে চলেছেন আলোর পথে। তাই তো তিনি ‘তিমির হননের নেত্রী’। বিশ্বব্যাংক বলছে এ বছর বিশ্বের অর্থনীতি ৫.২ শতাংশ সংকুচিত হতে পারে। ওই প্রতিষ্ঠানের প্রধান অর্থনীতিবিদ হালে বলেছেন, চলমান বিশ্ব অর্থনৈতিক মন্দা থেকে পুরোপুরি বের হয়ে আসতে কম করে হলেও আরও পাঁচ বছর লেগে যাবে। এশিয়ান উন্নয়ন ব্যাংক হালে তার ‘এশিয়ান ডেভেলপমেন্ট আউটলুক’-এ বলেছে, এশিয়ার তিন-চতুর্থাংশ দেশের অর্থনীতি সংকুচিত হলেও চলতি অর্থবছরে বাংলাদেশের প্রবৃদ্ধি হবে ৬.৮ শতাংশ। বাংলাদেশ নিজে অবশ্য বলছে, বাস্তবে এই হার আরও অনেকটাই বেশি হবে। চারদিকের এই হতাশাজনক পরিস্থিতি সত্ত্বেও বাংলাদেশের অর্থনীতির এই অসাধারণ সাফল্যের রূপকার বঙ্গবন্ধুকন্যা। তাঁর সম্মুখমুখী ডিজিটাল অন্তর্ভুক্তিমূলক উন্নয়ন কৌশলের সুফল আমরা এই চ্যালেঞ্জিং সময়েও ভোগ করছি।

১৯৭৪ সালের ২৫ সেপ্টেম্বর জাতিসংঘের সাধারণ সভায় দাঁড়িয়ে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু বিশ্বকে এই বলে স্বপ্ন দেখিয়েছিলেন যে, “… আমরা তাকাব এমন এক পৃথিবীর দিকে, যেখানে বিজ্ঞান ও কারিগরি জ্ঞানের বিস্ময়কর অগ্রগতির যুগে মানুষের সৃষ্টি ক্ষমতা ও বিরাট সাফল্য আমাদের জন্য এক শঙ্কামুক্ত উন্নত ভবিষ্যৎ গঠনে সক্ষম।” বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনা তাঁর একান্ত প্রচেষ্টায় বঙ্গবন্ধুর সেই স্বপ্নকে আজ বাস্তবে রূপায়ণে ব্যস্ত। তিনি নিজেও স্বপ্ন দেখেন। বাবার মতোই দেশবাসীকে স্বপ্ন দেখাতে ভালোবাসেন। তাই তাঁর হাত ধরেই জোর কদমে এগিয়ে চলেছে ‘আরেক বাংলাদেশ’। যে দেশের দিকে অবাক বিস্ময়ে তাকিয়ে থাকে সারা বিশ্বের পরিশ্রমী ও স্বপ্নকাতর মানুষ। তাঁর পথচলার শুরুটা মোটেও মসৃণ ছিল না। এমন এক দুঃসময় নেমে এসেছিল মুক্তিযুদ্ধের বাংলাদেশে যখন সর্বত্রই ছিল গভীর অন্ধকার। দেশি-বিদেশি ষড়যন্ত্রের শিকার বাঙালির জাতির পিতাকে আচমকা আক্রমণে তাঁর প্রিয় দেশবাসী থেকে শারীরিকভাবে বিচ্ছিন্ন করে ফেলা হয়। তাঁর পরিবারের সবাইকে তারা সে রাতে হত্যা করে নির্মমভাবে। শুধু বেঁচে যান তাঁর দুই কন্যা বিদেশে থাকার কারণে। পুরো বাঙালি জাতি তখন দুঃখে মুহ্যমান। এই তমসাচ্ছন্ন বাংলাদেশে আলোকবর্তিকা হিসেবে যেদিন পা রাখেন বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হসিনা, সেদিন চারদিক হঠাৎ আলোকোজ্জ্বল হয়ে ওঠে। আর তাই অন্যতম শ্রেষ্ঠ কবি সৈয়দ শামসুল হক লিখে ফেলেন সেই বৃষ্টিভেজা দিনটিই ছিল শেখ হাসিনার জন্মদিন। রূপক অর্থেই তিনি বঙ্গবন্ধুকন্যার এই জন্মদিনের অবতারণা করেছিলেন। তিনি লিখেছেন :

‘সেই বৃষ্টি সেই অশ্রু আপনার সেই ফিরে আসা
নিমজ্জিত নৌকোটিকে রক্ত থেকে টেনে তুলবেন,

মানুষের দেশে ফের মানুষের সংসার দেবেন

ফিরেছেন বুকে নিয়ে বঙ্গবন্ধুর প্রত্যাশা।

সেদিনই হয় জন্মলাভ প্রকৃত অর্থেই,

আপনার জন্মদিন আমাদের কাছে সেই দিন,

যেদিন ফেরেন ঘরে আমাদের হৃদয়ে আসীন,

যেদিন স্বর্গের ফুল ফুটে ওঠে মাটির মর্ত্যইে।’

(শেখ হাসিনার জন্মদিন : ২০০৯)

ইতিহাসের এই অনন্য কন্যা বরাবরই ছিলেন ‘জনকের স্বপ্নবাহু’। আজও তিনি তাই আছেন। তিনি অনেক ত্যাগের বিনিময়ে হতে পেরেছেন বাঙালির ‘অন্ধকারে বাতিঘর, মুমূর্ষের নিঃশ্বাস’। এই জায়গায় আসাটা তাঁর জন্য মোটেও সহজ ছিল না। কত ঘাত-প্রতিঘাত পায়ে দলে তাঁকে এগোতে হয়েছে। কতবার তাঁকে মৃত্যুর মুখ থেকে ফিরিয়ে এনেছে নিয়তি।

নিরন্তর তিনি ভয়কে জয় করে এগিয়ে গেছেন সম্মুখপানে। যেমনটি ছিলেন বঙ্গবন্ধু। তেমনি সাহসী তাঁর কন্যা। আমার স্পষ্ট মনে আছে ২০০৪ সালের একুশে আগস্টের পরের দিনগুলোর কথা। গ্রেনেড মেরে তাঁকে উড়িয়ে দিতে চেয়েছিল মানবতার শত্রুরা। নিজের নিরাপত্তা কর্মী মাহবুবের চোখের সামনে গুলিবিদ্ধ হয়ে চলে যেতে দেখেছেন। দেখেছেন প্রিয়নেত্রী আইভি রহমানসহ কত নেতা-কর্মীর আত্মদান। নিজেও আহত হয়েছেন। কিন্তু তিনি দিক হারাননি। আবার ফিনিক্স পাখির মতো উঠে দাঁড়িয়েছেন। জেল খেটেছেন। কিন্তু মাথা নোয়াননি। এমন সংকট পাড়ি দিয়ে বন্দীশালায় বসে স্বপ্ন দেখেছেন সম্ভাবনাময় বাংলাদেশের। গণতন্ত্রের মানসকন্যা তাই জাতিকে উপহার দিতে পেরেছিলেন ‘দিন বদলের সনদ’। সে সময়টায় খুব কাছে থেকে তাঁকে দেখেছি। মুখে নেই ক্লান্তি। নেই অন্যায়ভাবে তাঁকে জেলে আটকে রাখার কোনো খেদ। দেখেছি শুধু স্বপ্নভরা এক মুখ। ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ে সোনার বাংলায় পৌঁছে যাওয়ার অনাবিল আকুতি। ২০০৮ সালের ২৯ ডিসেম্বর নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জনগণ বিপুল ভোটে তাঁকে এবং তাঁর দলের পক্ষে ভোট দিয়েছিলেন। এরপর আর তাঁকে পেছনে তাকাতে হয়নি। দিন বদলের সংগ্রামের এক অবিস্মরণীয় নেতৃত্ব দিয়ে চলেছেন তিনি নিঃশঙ্ক চিত্তে। বঙ্গবন্ধু হত্যা ও মানবতার বিরোধী অপরাধীদের প্রচলিত আদালতেই বিচার সাপেক্ষে শাস্তি কার্যকর করে চলেছেন একের পর এক। জঙ্গি দমনে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ বঙ্গবন্ধুকন্যা সমাজ ও প্রশাসনকে উজ্জীবিত করে সমাজে শান্তি নিশ্চিত করেছেন। বাংলাদেশের অর্থনীতিকে দারুণ গতিময় করেছেন। এশিয়া অঞ্চলের সবচেয়ে বাড়ন্ত দেশটির নাম বাংলাদেশ। চীন ও ভিয়েতনামের প্রবৃদ্ধি ইতিবাচক হলেও তারা বাংলাদেশের চেয়ে ঢের পিছিয়ে। এই সময়ে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির হার নিয়মিত বেড়ে বেড়ে করোনার আগ দিয়ে ৮ শতাংশের ওপরে উঠে গিয়েছিল। ভোগ বেড়েছিল চার গুণ। বিনিয়োগ তিন গুণের বেশি। বৈদেশিক মুদ্রার মজুদ বেড়েছে ছয় গুণ। মূল্যস্ফীতি এখনো স্থিতিশীল। দারিদ্র্য কমে ২০ শতাংশের আশপাশে নেমে এসেছিল। গড়আয়ু বেড়ে দাঁড়িয়েছিল ৭৩ বছর।

কিন্তু হঠাৎ করে করোনা সংকটের মুখে পড়ে যায় বাংলাদেশ ও সারা বিশ্ব। এপ্রিল থেকে মাস তিনেক খুবই সংকটে ছিল বাংলাদেশ। স্বাস্থ্য খাতের দুর্বলতা স্পষ্টতই ভেসে ওঠে। অনানুষ্ঠানিক খাতের মানুষগুলো দিশাহারা হয়ে পড়ে। এই চ্যালেঞ্জ মোকাবিলাতেও দারুণ পারদর্শিতা দেখিয়েছেন বঙ্গবন্ধুকন্যা। স্বাস্থ্য খাতের হ-য-ব-র-ল অবস্থা অনেকটাই বাগে আনতে সক্ষম হয়েছে তাঁর সরকার। সংক্রমণের হার আগের চেয়ে কমেছে। বাঁচার তাগিদেই মানুষ ঘর থেকে বের হতে শুরু করেছে। আর বিপুল অঙ্কের প্রণোদনা দিয়ে তাঁর সরকার অর্থনীতিকে ঘুরে দাঁড়াতে সাহায্য করেছেন। কৃষি, শিল্প ও সেবা একযোগে ভালো পারফর্ম করছে। প্রণোদনাগুলো সঠিকভাবে বাস্তবায়ন করা গেলে অর্থনীতি খাড়াখাড়ি তরতর করে উঠে যাবে বলে মনে হচ্ছে। রপ্তানি, প্রবাস আয় বাড়ছে। আমদানি ততটা বাড়ছে না। লেনদেনের ভারসাম্য ইতিবাচক। কৃষি ভালো করছে। গ্রামীণ চাহিদা চাঙ্গা বলে পুরো অর্থনীতি গতিময় হচ্ছে।

মহামারীর ধাক্কা সামলেও বাংলাদেশ বেশ ভালোভাবেই এগিয়ে যাচ্ছে। এর পেছনের বড় একটি কারণ হিসেবে বর্তমান সরকার বিশেষ করে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর শুরু থেকেই এক ধরনের অন্তর্ভুক্তিমূলক উন্নয়ন কৌশল গ্রহণের বিষয়টিকে চিহ্নিত করেন। ১৯৯৬ সালে প্রথমবার সরকার পরিচালনায় এসে তিনি এই কৌশল নিয়ে কাজ শুরু করেছিলেন। আর ২০০৮-এ দিনবদলের যে সনদ তিনি দিলেন, সেখানে মানুষকে অন্তর্ভুক্ত করবার কৌশলটি আরও স্পষ্ট করে গ্রহণ করেছিলেন। এর সঙ্গে যুক্ত করেছিলেন আর্থিক অন্তর্ভুক্তির বিষয়টি। এই গণমুখী কৌশলটি এখনো সরকার অনুসরণ করে চলেছে। এটিই বাংলাদেশের অর্থনৈতিক অগ্রগতির পেছনের চালিকাশক্তি হিসেবে কাজ করছে। একই সঙ্গে ম্যাক্রো অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা বজায় রেখে ব্যাবসা-বাণিজ্যের জন্য উদ্দীপনামূলক পরিবেশ ধরে রেখেছে। তবে এ সম্পর্কিত নিয়ম-নীতি সহজতর করা গেলে ব্যবসায়ী পরিবেশের আরও উন্নতি করা সম্ভব।

বাংলাদেশের অগ্রগতির দ্বিতীয় কারণ হলো কর্মসংস্থান সৃজন। মানুষের কর্মসংস্থান সৃষ্টি করতে সরকার আধুনিক রপ্তানিনির্ভর শিল্পায়নের ওপর খুব গুরুত্ব দিয়েছে। পাশাপাশি অবকাঠামো খাতে বড় ধরনের বিনিয়োগ হচ্ছে। তৃতীয় কারণ হলো আমাদের সচল কৃষি খাত যা দিন দিন আরও আধুনিক হচ্ছে। এই জায়গাটাতে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী সবসময়ই গুরুত্ব দিয়েছেন। এ খাতে তিনি ফি বছর সরকারি বিনিয়োগ বাড়িয়েছেন। ব্যক্তি খাতও যাতে এতে বিনিয়োগ বাড়ায় সেজন্য রাজস্ব প্রণোদনা অব্যাহত রেখেছেন। আলাদা কৃষি ঋণ নীতিমালা চালু করে এ খাতে অর্থের প্রবাহ বাড়িয়েছেন। সরবরাহ চেইন মজবুত করেছেন। লজিস্টিক সমর্থন বাড়িয়েছেন। আর এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে ডিজিটাল আর্থিক অন্তর্ভুক্তি।

আমরা যে গ্রামীণ অর্থনীতিতে এত ভালো করছি তার পেছনে বড় কারণ হচ্ছে, আমাদের টাকা দ্রুত শহর থেকে গ্রামে যেতে পারছে। দুই হাজার কোটি টাকা প্রতিদিন লেনদেন হচ্ছে শুধু মোবাইল ব্যাংকিং-এর মাধ্যমে। এর সঙ্গে যদি এজেন্ট ব্যাংকিং যুক্ত হয়, তাহলে একটা বড় অঙ্কের টাকা আমাদের দেশের মধ্যেই লেনদেন হচ্ছে। সরকার শিক্ষা বৃত্তি, সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচির টাকাও ডিজিটাল আর্থিক সেবার মাধ্যমে পাঠাতে শুরু করেছে। আর এর সঙ্গে যুক্ত হচ্ছে বাড়ন্ত প্রবাস আয়। এই টাকাগুলো গ্রামে গিয়ে নিশ্চয় এক জায়গায় বসে থাকে না। এই টাকা দিয়েই সেখানে নানা ধরনের বিনিয়োগ হয়। এ রকম একটা বহুমুখী বিনিয়োগ প্রক্রিয়া আমাদের গ্রামের মধ্যে চলছে। যার কারণে গ্রামের অর্থনীতি শক্তিশালী হচ্ছে। একই সঙ্গে গ্রামে ভোগের, গ্রামের মধ্যে চাহিদা তৈরি হচ্ছে। সেই চাহিদা আমাদের শিল্প পণ্যের বাজার বাড়াচ্ছে। আমাদের বিদ্যুৎ খাতও এক্ষেত্রে সহায়তা করেছে। অনেক বিনিয়োগই আমরা এক সময় করতে পারিনি বিদ্যুতের অভাবে। বিদ্যুতের ক্ষেত্রে বর্তমান সরকার একটা বড় রকমের সাফল্য অর্জন করতে পেরেছে। তবে এক্ষেত্রে সবুজ উদ্যোগকে উৎসাহিত করার প্রয়োজন রয়েছে। আর জলবায়ু সহিষ্ণু বিশ্ব গড়তে দৃঢ় প্রত্যয়ী শেখ হাসিনা এ কথাটি খুব ভালোভাবেই অনুভব করেন।

আমাদের অর্থনৈতিক খাতের আরেকটি সাফল্য হলো রেমিট্যান্স। এ রকম একটা মহামারীর সময়েও আমাদের রেমিট্যান্স বাড়ছে। এর পেছনে কয়েকটি কারণ কাজ করছে। একটা কারণ হলো সরকার এই খাতে ২ শতাংশ করে প্রণোদনা দিয়েছে। আরেকটা কারণ হলো মোবাইল ব্যাংকিংয়ের কারণে টাকাটা খুব দ্রুত উপকারভোগীদের কাছে পৌঁছে দেওয়া সম্ভব হচ্ছে।

অর্থনীতির যে ব্যাপক ডিজিটাল ট্রান্সফরমেশন ঘটে গেছে, তার ‘আউটকাম’ হিসেবে যে আমাদের অর্থনীতি এমন গতিময় হয়েছে সে বিষয়টি আমাদের পরিসংখ্যানে এখনো সেভাবে উঠে আসেনি। আমাদের ই-কমার্সে কত মানুষ কাজ করছে, কত নয়া ডিজিটাল উদ্যোক্তা আছে, কত ফ্রি-ল্যান্সার আছে, তারা কত আয় করছে, এগুলোর পূর্ণাঙ্গ হিসাব কিন্তু আমরা বিবিএসের হিসাব থেকে পাচ্ছি না। সুতরাং এগুলো যদি ধরি, তাহলে প্রবৃদ্ধির হার হয়তো আরও বেশি হতে পারে। আমার মনে হয় যে, প্রবৃদ্ধি হার কত হলো, সেই আলাপে না গিয়ে আমাদের প্রবৃদ্ধির ধরনটা কেমন, কেন আশপাশের দেশের থেকে বেশি এবং ভিন্নতর সে সব বিষয় নিয়ে কথা হতে পারে। আগেই বলেছি অনেক ক্ষেত্রে আমরা অনেক দেশের চেয়ে ভালো করছি। এক নম্বর আমরা কৃষিতে গুরুত্ব দিয়েছি, দুই নম্বর আমরা রেমিট্যান্সে গুরুত্ব দিয়েছি। তিন নম্বর আমরা গার্মেন্ট শিল্প তথা উৎপাদনের ওপর গুরুত্ব দিয়েছি। চার নম্বর আমরা বিদ্যুৎ খাতে ভালো করেছি।

কৃষি, রেমিট্যান্স, আরএমজি এবং বিদুৎ খাতে উন্নতির পাশাপাশি আরেকটা কাজ আমরা করছি, তা হলো অবকাঠামো খাতে বিনিয়োগ করেছি। বিশেষ করে, বেশ কিছু মেগা প্রজেক্ট বাস্তবায়ন শুরু করেছি। দেশি-বিদেশি দুই ধরনের বিনিয়োগই এক্ষেত্রে আসবে। আর অর্থনৈতিক অঞ্চলগুলো যদি তৈরি হয়ে যায়, তাহলে বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ অনেক বেশি উজ্জ্বল হবে। চীন থেকে সরে আসা অনেক উদ্যোক্তাকেই আমরা আকর্ষণ করতে পারব। এখন আমাদের সামনে বড় চ্যালেঞ্জ হচ্ছে শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও প্রশিক্ষণে গুরুত্ব দিয়ে মানব পুঁজির আরও বিকাশ কী করে করা যায় সেটি। আগামী দিনে ‘আর্টিফিশিয়াল ইনটেলিজেন্স’ ব্যবহার করে ডাটা ম্যানেজমেন্ট করে আমাদের নয়া ধাঁচের অর্থায়ন, বিনিয়োগ নিশ্চিত করতে হবে। আমার বিশ্বাস এই নয়া সুযোগ সৃষ্টির ভিত্তি তৈরি করে চলেছেন বঙ্গবন্ধুকন্যার সরকার।

বাংলাদেশ সম্পর্কে ইতিবাচক একটা ভাবমূর্তি তৈরি হচ্ছে বহির্বিশ্বে। সব জায়গাতেই বাংলাদেশকে নিয়ে একটা আশাবাদ তৈরি হয়েছে। এটাকে সঙ্গী করেই বাংলাদেশ সামনে এগিয়ে যাবে। আমাদের সাফল্যের গল্পগুলো পেশাদারি ভাষায় দেশে ও বিদেশে চৌকসভাবে বলতে হবে। এই যে মাথা উঁচু করে ঘুরে দাঁড়াচ্ছে ‘আরেক বাংলাদেশ’ সেই কথাগুলো আরও আকর্ষণীয়ভাবে তুলে ধরতে হবে সর্বত্র। আর এই গল্পের কেন্দ্রে রয়েছেন বঙ্গবন্ধুকন্যা।

এ বছর বাংলাদেশের অর্থনৈতিক অগ্রগতি পৃথিবীর সেরা হতে পারে। সেজন্য আমাদের অর্থনৈতিক প্রণোদনার কর্মসূচিগুলোর বাস্তবায়ন যাতে সঠিকভাবে সবার জন্য হয় তা ডিজিটালি মনিটরিং করে যেতে হবে। বঙ্গবন্ধুকন্যার দেখানো স্মার্ট বিনিয়োগ করার পথ ধরে হাঁটলে নিশ্চয় আমরা পুরো পৃথিবীকে এই করোনা সংকটকালেও অবাক করে দিতে পারব। এমন একটি আশাবাদী সামাজিক পরিবেশ বজায় থাকুক সেই প্রত্যাশাই করছি। দুর্নীতিমুক্ত সুশাসনের দিকে নজরটা যেন সর্বদাই বজায় থাকে সেই কামনা করছি। এমনি এক চ্যালেঞ্জিং এবং সম্ভাবনাময় সময়ে আমরা মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার জন্মদিন পালন করছি। তিনি দীর্ঘজীবী হোন এবং আরও অনেক দিন বাঙালির স্বপ্নপূরণের সারথী হিসেবে থাকুন সেই প্রত্যাশাই করছি। শুভ জন্মদিন।

লেখক : ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বঙ্গবন্ধু চেয়ার অধ্যাপক এবং বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গভর্নর।

যোগাযোগ : [email protected]