ভারত বাংলাদেশের সম্পর্ক ঐতিহাসিক আত্মিক ও রক্তের সম্পর্কের উপর প্রতিষ্ঠিত : হানিফ

191
Social Share

আওয়ামী লীগের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক মাহবুব-উল আলম হানিফ বলেছেন, ভারত বাংলাদেশের সম্পর্ক ঐতিহাসিক আত্মিক ও রক্তের সম্পর্কের উপর প্রতিষ্ঠিত। এ সম্পর্ক কোন অবস্থায় ছিন্ন করা যাবে না। স্বাধীনতাবিরোধী শক্তি ভারতবিরোধী অপপ্রচার চালিয়ে দেশের মানুষকে বিভ্রান্ত করছে। তিনি আজ (২৫ মার্চ) বৃহস্পতিবার সকাল ১১ টা ৩০ মিনিটে বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমিতে ‘ফ্রেন্ডস অফ বাংলাদেশ’ আয়োজিত স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী জাতির জনক বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবার্ষিকী ও ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্কের ৫০ বছর পূর্তি উপলক্ষে আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এ কথা বলেন।

হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ বাঙ্গালী জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এর শততম জন্মবার্ষিকী এবং স্বাধীনতার সূবর্ণজয়ন্তী পালনে ‘ফ্রেন্ডস অব বাংলাদেশ’ বাংলাদেশ ও ভারত সমারহের যৌথ উদ্যোগে দুই দেশের ভবিষ্যৎ সম্পর্কের উন্নতি ও কর্মপরিকল্পনা নিয়ে এই বিশেষ আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়েছে।

ভিনিউজ সম্পাদক জয়ন্ত আচার্যের সঞ্চালনায় এবং ব্যারিস্টার জাকির আহাম্মদ এর সভাপতিত্বে আয়োজিত আলোচনা সভায় অন্যান্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন মুক্তিযুদ্ধের সাব সেক্টর কমান্ডার ও ‘ফ্রেন্ডস অফ বাংলাদেশের’ সমন্বয়ক এ এস এম শামসুল আরেফিন, সংসদ সদস্য পংকজ দেবনাথ ও সাবেক সংসদ সদস্য আব্দুল ওয়াদুদ দারা, ভারত চ্যাপ্টারের কার্যকারী সভাপতি রাজা তমাল গোস্বামী, ভারতীয় চ্যাপ্টারের ভাইস প্রেসিডেন্ট ও সিস্টার নিবেদিতা ইউনিভার্সিটির উপাচার্য সত্যম রায়চৌধুরী, বিপ্লব গাঙ্গুলী , প্রকৌশলী পুলক কান্তি বড়ুয়া, যুব মহিলা লীগের কেন্দ্রীয় নেত্রী তানিয়া সুলতানা হ্যাপি প্রমূখ।

আওয়ামী লীগের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক মাহবুব-উল-আলম হানিফ আরো বলেন, সত্তরের নির্বাচনে এদেশের ৭৩ পারসেন্ট মানুষ নৌকায় ভোট দিয়েছিল , বাকি ২৭ পার্সেন্ট লোক কখনো স্বাধীনতা চাইনি। আজ এখনো তারা স্বাধীনতার বিরোধিতা করে চলছে।

তিনি বলেন , ভারত বাংলাদেশের সম্পর্ক উন্নয়ন করতে হলে দুই দেশের জনগণের মধ্যে সম্পর্ক উন্নয়ন করতে হবে।

তিনি বলেন, ‘বঙ্গবন্ধুর পররাষ্ট্রনীতি অনুযায়ী সব দেশের সঙ্গে আমাদের সম্পর্ক এখন বন্ধুত্বপূর্ণ।

হানিফ আরো বলেন, প্রতিবেশী দেশ ভারতের সঙ্গে আমাদের সম্পর্ক অনেক নিবিড়, গভীর ও রক্তের সম্পর্ক রয়েছে। মুক্তিযুদ্ধকালীন সময়ে বাংলাদেশের ১ কোটি ২০ লাখ মানুষকে আশ্রয় দিয়েছিল তারা, শুধু তাই নয় ৯টি মাস তারা এসব মানুষের আহার যুগিয়েছিল, মুক্তিযোদ্ধাদের প্রশিক্ষণ ও অস্ত্র দেওয়াসহ তাদের সৈন্যরা এসে যুদ্ধ করে, বাংলাদেশ স্বাধীনে অগ্রণী ভূমিকা রেখেছিল। এখানে তাদের বহু সৈন্য প্রাণ হারিয়ে বাংলার মাটি রক্তে রঞ্জিত করেছিল। এখন কারও সঙ্গে বৈরী আচরণে সম্পর্ক নষ্ট হবে, তা হতে পারে না। কারও সঙ্গে কোনো সমস্যা হলে দ্বিপাক্ষিক আলোচনা হতে পারে। তবে ধর্মের দোহাই দিয়ে সমাজে অস্থিতিশীলতা ও হানাহানি করতে দেওয়া হবে না।

মুক্তিযুদ্ধের সাব সেক্টর কমান্ডার এস এম শামসুল আরেফিন বলেন, ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্ক উন্নয়নের জন্য ফ্রেন্ডস অফ বাংলাদেশ কাজ করে চলেছে। আমি বিশ্বাস করি আগামীতে এ সম্পর্ক আরো দৃঢ় হবে। সত্যম রায়চৌধুরী ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্ক উন্নয়নের জন্য ১০ দফা প্রস্তাব পেশ করেন।