ফ্রান্সের রাষ্ট্রদূত বহিষ্কার ইস্যু: আন্দোলন থামাতে পার্লামেন্টে ভোটের সিদ্ধান্ত পাকিস্তান সরকারের

37
Social Share

ফ্রান্সের রাষ্ট্রদূতকে বহিষ্কার দাবিতে কঠোর আন্দোলনের মুখে অবশেষে পার্লামেন্টে ভোটের বিষয়ে রাজি হয়েছে পাকিস্তান সরকার।

কট্টরপন্থী ইসলামি দল তেহরিক-ই-লাব্বাইক পাকিস্তান (টিএলপি) জোরালো আন্দোলনের মুখে এই সিদ্ধান্ত বাধ্য হল দেশটির সরকার। খবর ডন’র।

মঙ্গলবার দেশটির স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী শেখ রশিদ আহমদ বলেন, টিএলপির সঙ্গে দীর্ঘ আলোচনার পর সরকার ফ্রান্সের রাষ্ট্রদূতকে বহিষ্কার করার বিষয়ে একটি প্রস্তাবনা পার্লামেন্টে উপস্থাপন করতে রাজি হয়েছে।

এছাড়া, বিক্ষোভ বন্ধ করার বিনিময়ে সরকার টিএলপির বিরুদ্ধে করা সব ফৌজদারি মামলা তুলে নেওয়ারও প্রতিশ্রুতি দিয়েছে বলে জানান তিনি।

মঙ্গলবার সন্ধ্যায় পার্লামেন্টের এক বিশেষ অধিবেশনে ফ্রান্সের দূতকে বহিষ্কারের বিষয়ে বিতর্কের জন্য একটি রেজ্যুলেশন উপস্থাপন করা হয়েছে।

বিরোধীদলগুলো এর তীব্র বিরোধিতা করে টিএলপির সঙ্গে সরকারের চুক্তির পুরোটা প্রকাশ্যে আনার দাবি জানিয়েছে।

এদিকে সরকারের এমন সিদ্ধান্তের পরই পাকিস্তানজুড়ে বিক্ষোভ বন্ধের ঘোষণা দিয়েছে নিষিদ্ধ ঘোষিত ইসলামপন্থি দল টিএলপি।

টিএলপির মুখপাত্র শফিক আমিনির এক অডিও বার্তায়, দেশজুড়ে যেখানেই যে ধরনের আন্দোলন চলছে সব বন্ধ করার অনুরোধ জানানো হয়েছে।

যদিও এরপরও লাহোরে টিএলপির প্রধান কার্যালয় এবং কার্যালয়ের বাইরে মঙ্গলবারও হাজারো টিএলপি অনুসারী ভিড় করে ছিলেন।

টিএলপি’র পক্ষ থেকে পাকিস্তান সরকারকে ২০ এপ্রিলের মধ্যে ফরাসি রাষ্ট্রদূতকে বহিষ্কারের আলটিমেটাম দেওয়া হয়েছে।

নবীর কার্টুন দেখানোর অধিকারের পক্ষে ফ্রান্স যুক্তি দেওয়ার পর পাকিস্তানে কয়েক মাস আগে এই বিক্ষোভ প্রথম শুরু হয়েছিল।

ফ্রান্সে একটি স্কুলের ক্লাসে মত প্রকাশের স্বাধীনতা নিয়ে আলোচনার সময় এ ধরনের কার্টুন দেখানোর পর একজন শিক্ষকের শিরশ্চ্ছেদের ঘটনার পর গত বছর অক্টোবর মাসে, ফরাসি প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাকরন বাকস্বাধীনতার পক্ষে জোরালো যুক্তি দেন।

এর জেরে পাকিস্তানসহ গোটা মুসলিম বিশ্বে ব্যাপক ক্ষোভ সৃষ্টি হয়। পাকিস্তান ফরাসি পণ্য বর্জনের ডাক দেয়।

পাকিস্তানের কট্টরপন্থী রাজনৈতিক দল তেহরিক-ই লাব্বাইক পাকিস্তান (টিএলপি)-এর নেতা সাদ হুসেইন রিজভীকে পাকিস্তান সরকার গ্রেফতার করার পর এ সপ্তাহে প্রতিবাদ আবার মাথাচাড়া দিয়ে ওঠে। এই দলটি পাকিস্তান থেকে ফরাসি রাষ্ট্রদূতকে বহিষ্কারের আহ্বান জানিয়েছিল।

যার জেরে গত সপ্তাহে পাকিস্তান সরকার টিএলপিকে নিষিদ্ধ ঘোষণা করে এবং দলের প্রধানকে গ্রেফতার করা হয়। দেশটির সংবাদমাধ্যমে টিএলপির খবর প্রকাশেও বাধা দেওয়া হচ্ছে।