ফের বিদ্যুতের দাম বাড়ানোর প্রস্তাব

দুই বছর পর গ্রাহক পর্যায়ে ফের বিদ্যুতের দাম বাড়ানোর প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। গ্রাহক পর্যায়ে বিদ্যুতের দাম বাড়াতে এরই মধ্যে বিতরণ কম্পানিগুলো থেকে প্রস্তাব পেয়েছে বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি)। বিদ্যুতের দাম বাড়ানো নিয়ে বিতরণ কম্পানিগুলোর প্রস্তাবের ওপর গণশুনানি শুরু হচ্ছে আগামী ২৮ নভেম্বর বৃহস্পতিবার। চার কর্মদিবসে চলবে এই শুনানি। শুনানির পর ৯০ দিনের মধ্যে সবার মতের ওপর ভিত্তি করে দাম বাড়ানোর বিষয়টি ঘোষণা দেবে বিইআরসি।

বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশনের সচিব রফিকুল ইসলাম স্বাক্ষরিত এক চিঠিতে উল্লেখ করা হয়েছে, পাইকারি পর্যায়ে মূল্যহার পরিবর্তন চায় বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড, সঞ্চালন মূল্যহার পরিবর্তন করতে চায় পাওয়ার গ্রিড কম্পানি অব বাংলাদেশ (পিজিসিবি)। এই দুটি কম্পানির প্রস্তাবের ওপর গণশুনানি অনুষ্ঠিত হবে ২৮ নভেম্বর। এ ছাড়া বিতরণ কম্পানি আরইবি, ডেসকো, ডিপিডিসি, নেসকোসহ অন্য কম্পানিগুলোর প্রস্তাবের ওপর আলোচনা হবে যথাক্রমে ১, ২ ও ৩ ডিসেম্বর।

বিইআরসির কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, এর আগে ২০১৭ সালে সবশেষ গ্রাহক পর্যায়ে ২০১৭ সালে বিদ্যুতের দাম বাড়ানো হয়েছিল। ওই সময় ইউনিটপ্রতি ৩৫ পয়সা বাড়ানো হয়েছিল। সব পক্ষের সঙ্গে আলোচনা শেষে ওই বছরের ডিসেম্বর থেকে নতুন দাম কার্যকর হয়। সর্বশেষ ২০১৭ সালের ২৩ নভেম্বর গ্রাহক পর্যায়ে বিদ্যুতের মূল্য বাড়ানো হয়। তখন ইউনিটপ্রতি ৩৫ পয়সা বা ৫.৩ শতাংশ হারে মূল্য বাড়ানো হয়, যা একই বছরের ডিসেম্বর থেকে কার্যকর করা হয়। কিন্তু ওই সময় পাইকারি বিদ্যুতের মূল্য বাড়ানো হয়নি। সর্বশেষ ২০১৫ সালে পাইকারি বিদ্যুতের মূল্য ১৮.১২ শতাংশ বাড়ানো হয়।

বিইআরসির তথ্য বলছে, পিডিবি সবার আগে অর্থাৎ গত ২৩ অক্টোবর বিদ্যুতের পাইকারি মূল্য পরিবর্তনের আবেদন করে পিডিবি। সরকারি কম্পানিটির হিসাবে, ২০২০ সালে বিদ্যুৎ বিক্রি করে তাদের আয় হতে পারে প্রায় ৩৭ হাজার কোটি টাকা। যদিও ওই সময় তাদের প্রয়োজন হবে ৪৫ হাজার কোটি টাকা। ফলে বাকি আট হাজার কোটি টাকা পূরণে মূল্য সমন্বয় করতে কমিশনের কাছে অনুরোধ জানায় পিডিবি।