ফুটবল জাদুকর ম্যারাডোনা ছিলেন সর্বকালের সেরা

3
Social Share

আর্জেন্টাইন ফুটবল জাদুকর ম্যারাডোনা। অনেকেই বলেন ফুটবলের ঈশ্বর। তার হাত ধরেই ১৯৮৬ বিশ্বকাপ জয়ের আনন্দে ভেসেছিল আর্জেন্টাইন ভক্তরা। ম্যারাডোনা নামের সঙ্গে জড়িয়ে আছে আনন্দ-বেদনার বহু স্মৃতি। ফুটবল নৈপুণ্যে তিনি ছিলেন সেরাদের সেরা।

ফুটবলেরই আরেক নাম ম্যারাডোনা। অনেকে ফুটবল বিশেষজ্ঞ, সমালোচক, সাবেক ও বর্তমান খেলোয়াড় এবং ফুটবল সমর্থক তাকে সর্বকালের সেরা ফুটবলার হিসেবেই গণ্য করেন।

ফিফার বিংশ শতাব্দীর সেরা খেলোয়াড়ে তার পাশে ছিলেন কেবলই ব্রাজিলের আরেক কিংবদন্তি পেলে।

দুবার ট্রান্সফার ফির বিশ্বরেকর্ড গড়া একমাত্র ফুটবলার ম্যারাডোনা। প্রথমবার বার্সেলোনায় স্থানান্তরের সময় ৫ মিলিয়ন ইউরো এবং দ্বিতীয়বার নাপোলিতে যাওয়ার সময় ৬ দশমিক ৯ মিলিয়ন ইউরো।

নিজের পেশাদার ক্যারিয়ারে আর্জেন্টিনোস জুনিয়র্স, বোকা জুনিয়র্স, বার্সেলোনা, নাপোলি, সেভিয়া এবং নিওয়েলস ওল্ড বয়েজের হয়ে খেলেছেন এ কিংবদন্তি।

আর্জেন্টিনার হয়ে ৯১টি আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলে ৩৪টি গোল করেছেন ম্যারাডোনা। চারটি বিশ্বকাপ খেলা এ ফুটবলার দেশটি একক নৈপুণ্যে বিশ্বসেরার ট্রফি জিতিয়েছেন। ১৯৮৬ বিশ্বকাপে তার অবদান শুধু আর্জেন্টিনাতেই নয়, বিশ্ব ফুটবলে রাজার আসনে আসীন করেছে তাঁকে। বলা যায়, এই ম্যারাডোনাই দুনিয়াজুড়ে আকাশি-সাদা জার্সির লাখো কোটি ভক্ত সমর্থক তৈরি করে গেছেন।

১৯৮৬ বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে আর্জেন্টিনা ২–১ গোলে জয়লাভ করে। আর্জেন্টিনার পক্ষে দুটি গোলই করেন ম্যারাডোনা। দুটি গোলই ফুটবল ইতিহাসে স্মরণীয় হয়ে আছে দুটি ভিন্ন কারণে। প্রথম গোলটি ছিল হ্যান্ডবল যা ‘হ্যান্ড অব গড’ নামে খ্যাত। দ্বিতীয় গোলটি ম্যারাডোনা প্রায় ৬০ মিটার দূর থেকে ড্রিবলিং করে পাঁচজন ইংলিশ ডিফেন্ডারকে কাটিয়ে করেন। ২০০২ সালে ফিফাডটকমের ভোটাররা গোলটিকে শতাব্দীর সেরা গোল হিসেবে নির্বাচিত করেন।

আজ বুধবার হৃদযন্ত্রের ক্রিয়া বন্ধ হয়ে চলে গেলেন না ফেরার দেশে। হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে নিজ বাসায় মারা যান তিনি। বেশ কিছুদিন ধরেই অসুস্থ ছিলেন ৮৬ সালের বিশ্বকাপজয়ী এ কিংবদন্তি।