যাদের ওয়াজ শুনলে মানুষ কাঁদে তারা আজ কারাগারে : ফখরুল

76
ফখরুল
Social Share

বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, পরিকল্পিতভাবে সরকার দেশ থেকে গণতন্ত্রকে নির্বাসিত করেছে। রাজনীতিকে ধব্বংস করেছে, সুষ্ঠু মুক্ত চিন্তাভাবনাকে নির্বাসিত করেছে। এখন দেশের কোথাও শান্তি নেই।

আজ শুক্রবার (১২ নভেম্বর) জাতীয় প্রেস ক্লাবে জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উপলক্ষে এক আলোচনা সভায় তিনি এসব কথা বলেন।

ফখরুল বলেন, আলেম ওলামা যাদের মানুষ সম্মান করে। এরা তাদের এক কথায় ধরে নিয়ে টপ করে জেলে পুরে দেয়। তারপর তার বিরুদ্ধে যত রকমের কল্পিত চরিত্র হরণের ব্যবস্থা করতে থাকে। অবলীলায় গুলি করে হত্যা করে। আমরা কী শাপলা চত্বরের কথা ভুলে গেছি, ভুলিনি তো। কীভাবে এসব আলেম ওলামাদের, যাদের ওয়াজ শুনলে মানুষের চোখ দিয়ে পানি পড়ে, সেই মানুষগুলোকে আজকে কারাগারের অন্তরালে আটকে রেখেছে এ আওয়ামী লীগ সরকার।

তিনি বলেন, ডিজেল ব্যবহার করে বাস-ট্রাক, বড়লোকদের প্রাডো গাড়িতে ডিজেল ব্যবহার হয় না। কেরোসিন ব্যবহার করে গ্রামের মানুষ। প্রজারা কষ্ট পায়। আর যিনি রাজা উনি তখন প্যারিসে বক্তব্য দেন, স্কটল্যান্ডে বক্তব্য দেন, অথবা গ্লাসগোতে পরিবেশের বক্তৃতা করেন, লন্ডনে বক্তৃতা করেন। গোটা বিশ্বের রাজনীতি নিয়ে কথা বলেন। ভালো কথা, আমাদের নেতা যদি সারা বিশ্বের রাজনীতি নিয়ে কথা বলেন, দুঃখের কিছু নেই। কিন্তু তার দেশে কী ঘটছে? দেশের মানুষ কেমন আছে। আজকে কত বড় লজ্জা আমাদের আমেরিকার প্রেসিডেন্ট বাইডেন গণতন্ত্র সভা ডেকেছেন, একশটা দেশকে ডেকেছেন। পত্রিকায় দেখেছি। আমরা শান্তি পেতাম, ভালো লাগতো, নিজের মাথাটা উঁচু হয়ে দাঁড়াতো। আমরা একটা গণতান্ত্রিক দেশ, বাংলাদেশ। অথচ আমাদের নামটা সেখানে নেই।

তিনি আরো বলেন, গত ১২/১৪ বছরে আমরা একটা গণতান্ত্রিক দেশ ছিলাম। গণতন্ত্রের জন্য যুদ্ধ করেছি, লড়াই করেছি, যার জন্য কেয়ারটেকার সরকারের মতো একটা ইউনিক সিস্টেম আমরা নিয়ে এসেছিলাম, সুষ্ঠু নির্বাচন করতাম, সেই দেশটাকে আজকে অগণতান্ত্রিক দেশ হিসেবে পরিচিত করেছে। এর চেয়ে লজ্জার, দুর্ভাগ্যের আর কিছু নেই।

এ সময় আরো বক্তব্য দেন জাতীয় পার্টির (কাজী জাফর) চেয়ারম্যান মোস্তফা জামাল হায়দার, ঢাকা মহানগর দক্ষিণ বিএনপির আহ্বায়ক আব্দুস সালাম, লেবার পার্টির চেয়ারম্যান মোস্তাফিজুর রহমান ইরান, এনপিপির  চেয়ারম্যান ড. ফরিদুজ্জামান ফরহাদ, এলডিপির মহাসচিব শাহাদাত হোসেন সেলিম প্রমুখ।