প্রসিকিউটর জেয়াদ আল মালুম মারা গেছেন

57
Social Share

একাত্তরের স্বাধীনতা যুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধে জড়িতদের বিচারের জন্য গঠিত আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউটর অ্যাডভোকেট জেয়াদ আল মালুম মারা গেছেন (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)। তিনি ঢাকায় সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে (সিএমএইচ) চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যুবরণ করেছেন। তার মৃত্যুতে আইনমন্ত্রী আনিসুল হক ও অ্যাটর্নি জেনারেল এএম আমিন উদ্দিন গভীর শোক প্রকাশ করেছেন।

শনিবার (২৬ জুন) দিবাগত রাত পৌনে ১টায় সিএমএইচে তার লাইফ সাপোর্ট খুলে ফেলা হয়। এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন ট্রাইব্যুনালের আরেক প্রসিকিউটর তাপস কান্তি বল। অ্যাডভোকেট জেয়াদ আল মালুম মৃত্যুকালে স্ত্রী অধ্যাপক ডা. সানিয়া তাহমিনা ও দুই সন্তানসহ অসংখ্য গুণগ্রাহী রেখে গেছেন।

জেয়াদ আল মালুম গত ২৫ মে রাতে অসুস্থ হয়ে পড়লে তাকে শ্যামলীস্থ বাংলাদেশ স্পেশালাইজড হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। কিন্তু তার শারীরিক অবস্থার আরো অবনতি হলে গত ২ জুন তাকে সিএমএইচে স্থানান্তর করা হয়। এ কদিন সেখানেই তিনি চিকিৎসাধীন ছিলেন।

২০১০ সালের ২৫ মার্চ আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল গঠিত হলে রাষ্ট্রপক্ষে মামলা পরিচালনার জন্য অ্যাডভোকেট জেয়াদ আল মালুম প্রসিকিউটর হিসেবে নিয়োগ পান। সেই থেকে মৃত্যুর আগ পর্যন্ত তিনি দায়িত্ব পালন করছিলেন। তিনি জামায়াতে ইসলামীর সাবেক আমীর গোলাম আজম ও মতিউর রহমান নিজামী, সেক্রেটারি জেনারেল আলী আহসান মোহাম্মদ মুজাহিদ, বিএনপি নেতা সালাহউদ্দিন কাদের (সাকা) চৌধুরীসহ বেশ কয়েকজনের বিরুদ্ধে ট্রাইব্যুনালে করা মামলার বিচারে রাষ্ট্রপক্ষে বিশেষ ভূমিকা রাখেন।

টাঙ্গাইল সদরের করোটিয়া গ্রামে জন্ম নেওয়া জেয়াদ আল মালুম ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশুনার সময় ছাত্র ইউনিয়নের সহসভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। পরবর্তীতে তিনি বাংলাদেশ ক্ষেতমজুর সমিতির কেন্দ্রীয় সভাপতি এবং সিপিবির কেন্দ্রীয় কমিটি সংশ্লিষ্ট একটি শাখার সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। তিনি বর্তমানে গণতান্ত্রিক আইনজীবী সমিতির সহসভাপতি পদে আছেন।

জেয়াদ আল মালুম ছাত্রজীবন শেষে ১৯৮৩ সালে ঢাকা জজ কোর্টে আইনজীবী হিসেবে পেশা শুরু করেন। তিনি ১৯৮৩ সালের ১৮ ডিসেম্বর ঢাকা আইনজীবী সমিতির সদস্য পদ পান। এরপর ১৯৯৯ সালে সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগের আইনজীবী হিসেবে তালিকাভুক্ত হন। এরপর থেকে তিনি সুপ্রিম কোর্টে আইন পেশায় নিয়োজিত ছিলেন।