‘প্রশাসনের ঢিলেঢালা ভাব আর শৈথিল্য অবস্থা চলতে থাকলে মাশুল দিতে হবে সকলকেই’

35
Social Share

প্রধানমন্ত্রীর ব্যক্তিগত চিকিৎসক ও ইউজিসি অধ্যাপক ডা. এবিএম আব্দুল্লাহ বলেছেন, পরিস্থিতির দ্রুতই অবনতি হচ্ছে। সরকারের দেয়া নির্দেশনা কেউ মানছে না। কঠোর নজরদারি না করলে এসব নির্দেশনা কেবলই কাগুজে হিসাবেই থাকবে।

তিনি বলেন, পরিস্থিতি সত্যিকার অর্থেই জটিল আকার ধারণ করছে। গত ক’দিনে সার্বিক অবস্থা দ্রুতই অবনতি হচ্ছে। হাসপাতালে কোনো বেড খালি পাওয়া যাচ্ছে না। প্রতিদিনই অনেক মানুষ ফোন করছেন তাদের স্বজনদের জন্য হাসপাতালে বেড পাওয়া যাচ্ছে না বলে।

সংক্রমণের ঊর্ধ্বগতির কারণ সম্পর্কে তিনি বলেন, করোনা যেভাবে ছড়াচ্ছে তার পেছনে অনেকগুলো কারণ বিদ্যমান। সমানে মিটিং-মিছিল হচ্ছে, ওয়াজ হচ্ছে, সভা-সমাবেশ হচ্ছে। কিছুদিন আগে নির্বাচন হয়ে গেল। চারপাশে বিয়ে-শাদীর ধুম লেগেই আছে। ধর্মীয় ও সামাজিক কোনো অনুষ্ঠানেই লোক সমাগম বন্ধ নেই। এ সকল অনুষ্ঠানে কোনো ধরনের স্বাস্থ্যবিধি মানা হচ্ছে না। যেভাবে খুশি সকলে সেভাবেই চলছেন। কেউই স্বাস্থ্যবিধি মানছে না। এ অবস্থা চলতে থাকলে পরিস্থিতি আরও বিপদের দিকে যাবে।

বর্তমান পরিস্থিতিতে করণীয় সম্পর্কে তিনি বলেন, জনগণের যেমন খামখেয়ালি ভাব, সবকিছুতেই গা ছাড়া একই অবস্থা প্রশাসনেরও। সার্বিক অবস্থার উত্তরণ ঘটাতে প্রশাসনকে কঠোর থেকে আরও কঠোর হতে হবে। নজরদারি বাড়াতে হবে। প্রশাসনের ঢিলেঢালা ভাব আর শৈথিল্য অবস্থা চলতে থাকলে মাশুল দিতে হবে সকলকেই। সরকার যদি চাপ প্রয়োগ না করে; বিধিগুলো মানতে বাধ্য না করে তাহলে ১৮ দফা নির্দেশনা কেবলই কাগুজে নির্দেশনা হিসেবেই থাকবে।

হঠাৎ করে গ্রাফরেখা ওপরের দিকে উঠার কারণ সম্পর্কে তিনি বলেন, আমাদের এখানে যেখানে কিছুদিন আগেও দুই পয়েন্ট পাঁচ পারসেন্ট ছিল সংক্রমণের হার সেখানে এখন তা বিশ শতাংশের বেশি। যখন সংক্রমণের হার কম ছিল তখন আমরা স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলেছি যে, আমরা বুঝি বেঁচে গেছি। সকলেই ঢিলেঢালা হয়ে গেছি। তখন থেকেই বারবার হুঁশিয়ার করে বলেছিলাম, আমাদের আত্মতুষ্টির সুযোগ নেই। এটা বৈশ্বিক সমস্যা। আমরা একেবারে মুক্ত হয়ে গেছি এ রকম ভাবার কোনো কারণ নেই। সারা পৃথিবীতেই আক্রান্ত বাড়ছে। দেশের বাইরে থেকে প্রচুর মানুষ আমাদের এখানে আসছে। আমার মনে হয় তিন কারণে করোনা খুব দ্রুত ছড়িয়েছে। প্রথম, যারা এয়ারপোর্ট দিয়ে দেশে এসেছেন তাদের যথাযথ কোয়ারেন্টিন হয়নি, আইসোলেশন হয়েছে কিনা- এসব বিষয়ে শৈথিল্য ছিল। যার ফলে এটি খুব দ্রুত ছড়িয়েছে। দ্বিতীয়ত, সামাজিক, ধর্মীয়, সাংস্কৃতিক, বিনোদন কেন্দ্র, পর্যটন কেন্দ্র, মিছিল মিটিং সহ রাজনৈতিক কার্যক্রম ইত্যাদিসহ সব জায়গাতেই জনসমাগম প্রচুর।  এতেও তা ছড়িয়েছে। তৃতীয়ত, মানুষের মধ্যে একটি ভুল ধারণা কাজ করেছে টিকা তো নিলাম, করোনা বোধহয় আর হবে না। এখন বুঝি যা খুশি তা করতে পারি। এটা ভয়ানক বিপজ্জনক বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে।

পরিস্থিতির উত্তরণ ঘটাতে করণীয় সম্পর্কে ডা. এবিএম আব্দুল্লাহ বলেন, চারটি কাজ করতে সকলকেই অনুরোধ করবো। অবশ্যই মাস্ক পরতে হবে। এটি বাধ্যতামূলক। কেউ মাস্ক না পরলে সরকারকে যথাযথ ব্যবস্থা নিতে হবে। হাত ধোয়ার চর্চা চালু রাখতে হবে। সকলকেই তা করতে হবে। সামাজিক নয়, শারীরিক দূরত্ব বজায় রাখতে হবে। কমপক্ষে তিন ফিট দূরত্ব যেন আমরা বজায় রাখি। সামাজিক অনুষ্ঠান, সভা-সমাবেশ যেন নিয়ন্ত্রণ করা হয়। এগুলো যেন লাগামহীনভাবে না করা হয়।