প্রযুক্তির কারণে পুলিশের দক্ষতা ও সক্ষমতা বেড়েছে : স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

Social Share

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল বলেছেন, প্রযুক্তির কারণে পুলিশের দক্ষতা ও সক্ষমতা বেড়েছে। পুলিশ বর্তমানে যেকোনো অপরাধ রোধ করতে সক্ষম। কারণ, তারা প্রযুক্তির সদ্ব্যবহার জানে।
বুধবার রাজধানীতে ভার্চুয়াল প্রাইভেট নেটওয়ার্ক (ভিপিএন) কানেক্টিভিটির উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তৃতায় তিনি এ কথা বলেন।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘নতুন কানেক্টিভিটির ফলে পুলিশের দক্ষতা ও সক্ষমতা আরও বাড়বে। বাহিনীর বিভিন্ন পর্যায়ে স্পর্শকাতর তথ্য আদান-প্রদানসহ অভ্যন্তরীণ তথ্যের নিরাপত্তা নিশ্চিত হবে।
তিনি বলেন, ‘ভিপিএন কানেক্টিভিটি বাস্তবায়নের ফলে পুলিশের বিভিন্ন কার্যক্রম পরিচালনার ক্ষেত্রে আধুনিক প্রযুক্তি ও ডিজিটাল পদ্ধতি প্রয়োগ করা সম্ভব হয়েছে। ফলে বিভিন্ন স্পর্শকাতর বিষয়ের গোপনীয়তা নিশ্চিতকরণসহ নির্ভুল তথ্য আদান প্রদানের মাধ্যমে সকল সেবা সঠিকভাবে জনগণের নিকট পৌছে দেয়া সম্ভব হচ্ছে।
তিনি বলেন, এ প্রকল্পের আওতায় এক হাজার পুলিশ অফিসে স্থাপিত ভার্চুয়াল প্রাইভেট নেটওয়ার্ক কানেক্টিভিটি পুলিশের সক্ষমতা আরও বৃদ্ধি করবে।
তিনি বলেন, ‘নতুন কানেক্টিভিটির ফলে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ঘোষিত ভিশন-২০২১ বাস্তবায়নে উল্লেখযোগ্য অবদান রাখবে। মুজিব বর্ষ ২০২০ এ জনগণের দোরগোড়ায় ডিজিটাল সেবা পৌঁছে দেয়ার এক নতুন দ্বার উন্মোচিত হলো।’
পুলিশকে আধুনিক ও প্রযুক্তি নির্ভর করে গড়ে তুলতে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগের অধীন জাতীয় তথ্য ও যোগাযোগ প্রযু্ক্িত অবকাঠামো উন্নয়ন (ইনফো সরকার-৩ পর্যায়) প্রকল্পের আওতায় বাস্তবায়িত পুলিশের ১০০০টি অফিসের ভার্চুয়াল প্রাইভেট নেটওয়ার্ক (ভিপিএন) কানেক্টিভিটির হস্থান্তর ও উদ্বোধনী অনুষ্ঠান আজ জুম প্লাটফর্মে অনুষ্ঠিত হয়।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগের প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহ্মেদ পলক, এমপি। সভাপতিত্ব করেন তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগের সিনিয়র সচিব এন এম জিয়াউল আলম।
এছাড়াও অতিথি হিসেবে সংযুক্ত ছিলেন স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জননিরাপত্তা বিভাগের সিনিয়র সচিব মোস্তাফা কামাল উদ্দীন, পুলিশের মহাপুলিশ পরিদর্শক (আইজিপি) ড. বেনজীর আহমেদ এবং বাংলাদেশ কম্পিউটার কাউন্সিলের নির্বাহী পরিচালক পার্থপ্রতিম দেব। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন ইনফো-সরকার ৩য় পর্যায় প্রকল্পের প্রকল্প পরিচালক বিকর্ণ কুমার ঘোষ।
উল্লেখ্য, “ইনফো-সরকার ৩য় পর্যায়” প্রকল্পটি বর্তমান সরকারের অগ্রাধিকারপ্রাপ্ত প্রকল্পসমূহের মধ্যে অন্যতম। বাংলাদেশ ও চীন সরকারের যৌথ অর্থায়নে বাস্তবায়নাধীন এ প্রকল্পের মাধ্যমে ২ হাজার ৬শ’ ইউনিয়নে দ্রুতগতির ব্রডব্যান্ড ইন্টারনেট কানেক্টিভিটি প্রদান কার্যক্রম শতভাগ সম্পন্ন হওয়ার দ্বারপ্রান্তে।
এ প্রকল্পের আওতায় দেশের শতকরা ৬০ ভাগ ভৌগলিক এলাকার প্রান্তিক গ্রামীণ জনপদের প্রায় ১০ কোটি জনগণের উচ্চগতির ব্রডব্যান্ড ইন্টারনেট ব্যবহারের সুযোগ নিশ্চিত করা সম্ভব হবে। শহর এবং গ্রামের ডিজিটাল বৈষম্য দূরীকরণ এবং নারী-পুরুষের সমতা বাস্তবায়িত হবে। শিক্ষা ব্যবস্থা ডিজিটাইজেশন করার মাধ্যমে শিক্ষার গুণগতমানের ব্যাপক উন্নয়ন সাধিত হবে। ইউনিয়ন পর্যায়ে এবং ইউনিয়ন ডিজিটাল সেন্টারে (ইউডিসি) উচ্চগতির ব্রডব্যান্ড ইন্টারনেট সংযোগ প্রদান, কারিগরি জ্ঞান বিতরণের মাধ্যমে যোগ্যতা বৃদ্ধি এবং আউটসোর্সিং এর মাধ্যমে কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে।
২০২১ সালে ব্রডব্যান্ড ইন্টারনেট গ্রাহক শতকরা ২ দশমিক ২৫ থেকে ১২ এ উন্নীত হবে। ফলে জিডিপি শতকরা একভাগ বৃদ্ধি পাবে।