প্রবৃদ্ধি নিয়ে সিপিডির মন্তব্য আন্দাজের ভিত্তিতে: অর্থমন্ত্রী

Social Share

বিদায়ী ২০১৯-২০ অর্থবছরে অর্জিত ৫ দশমিক ২৪ শতাংশ জিডিপির সাময়িক প্রবৃদ্ধির হার নিয়ে সমালোচনা করায় সিপিডিকে একহাত নিলেন অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল। তিনি বলেছেন, প্রবৃদ্ধি নিয়ে সিপিডি আন্দাজের ভিত্তিতে কথা বলেছে।

সোমবার (১৭ আগস্ট) আয়কর বিভাগের রাজস্ব আদায়ের অগ্রগতি পর্যালোচনা ও পরিকল্পনা সংক্রান্ত সভা শেষে সাংবাদিকদের তিনি ভার্চুয়াল ব্রিফিংয়ে এ কথা বলেন।

অর্থমন্ত্রী বলেন, ‘বাংলাদেশের খাল-বিল, নদী-নালা, রাস্তাঘাট, আমাদের শিল্পকারখানা, ব্যবসা-বাণিজ্য প্রতিষ্ঠান এবং গ্রামীণ অবস্থা সবকিছু দেখলেই বোঝা যায়, বাংলাদেশের অবস্থা কোথায় আছে।’ তিনি বলেন, ‘জিডিপি’র হিসাব যিনি কষেন, বা হিসাব যিনি তৈরি করেন, তাকে একটি ভিত্তির ওপর নির্ভর করতে হয়। ভিত্তিটি হলো হয় তথ্য-উপাত্ত আর নয়তো অনুমান।’ অর্থমন্ত্রী উল্লেখ করেন, জিডিপি প্রবৃদ্ধি নিয়ে পরিসংখ্যান ব্যুরো যে হিসাবটি তৈরি করেছে, সেটি তথ্য-উপাত্তের ভিত্তিতে। সিপিডি যদি জিডিপি নিয়ে কোনও আন্দাজভিত্তিক কথা বলে, তাহলে তা কতটা গ্রহণযোগ্য হবে তা আপনারাই বুঝতে পারবেন।

তিনি বলেন, ‘তাদের কাছে কোনও তথ্য নেই।তারা কিছু দেখে না। তারা আন্দাজ করে বলে। তারা কি রাস্তাঘাট দেখে না? আমাদের পাওয়ারপ্ল্যান্টগুলো দেখে না? আমাদের মেগা প্রজেক্টগুলো দেখে না?’

অর্থমন্ত্রী বলেন, ‘আমাদের রাজস্ব আয়ের হিসাব দেখলে তারা সমালোচনা করতো না। কারণ, আমাদের ২০১৮-১৯ অর্থবছর ছিল সবচেয়ে শক্তিশালী অর্থবছর। এই অর্থবছরে রাজস্ব আয় হয়েছিল ২ লাখ ২৩ হাজার কোটি টাকা। আর করোনার মধ্যে ২০১৯-২০ অর্থবছরে রাজস্ব আয় হয়েছে ২ লাখ ১৮ হাজার কোটি টাকা। অর্থাৎ মাত্র ৫ হাজার কোটি টাকা কম হয়েছে। এতেই বোঝা যায়, জিডিপি প্রবৃদ্ধি ৫ দশমিক ২৪ শতাংশ হওয়া অস্বাভাবিক নয়।’

তিনি বলেন, ‘গত ১০ বছরেই সিপিডিকে আমি দেখেছি, তারা আমাদের কাঁচামাল হিসেবে ব্যবহার করে। কাঁচামাল এখান থেকে নিয়ে বিদেশে রফতানি করে।’ সরকারের সমালোচনা করাই তাদের ব্যবসা বলেও উল্লেখ করেন তিনি। তিনি বলেন, ‘সারা বছর খবর নেই, আমরা বাজেট দিলেই তাদের অনুষ্ঠান করার সময় এসে যায়।’ তিনি আরও বলেন, ‘সিপিডি স্বীকার না করলেও আমাদের যে অর্জন তা সারা বিশ্ব স্বীকার করছে।’ তার মতে, সিপিডি যত বেশি নেগেটিভ বলতে পারবে, সিপিডির তত লাভ। এতে দেশের মানুষের লাভ নেই। তবু সিপিডির বিরুদ্ধে আমি কিছু বলবো না। কারণ, তারা আছে বলে আমরা আরও বেশি অনুপ্রাণিত হই। আরও বেশি শক্তিশালী হওয়ার জন্য আমরা আত্মপ্রত্যয়ী হই।’

গত ১০ বছরে আমরা যা বলেছি, তা-ই হয়েছে। গত ৫ বছরে যখন যা বলেছি, সব সময়ই সঠিক হয়েছে। সুতরাং, কে কী বললো, তা দেখে লাভ নেই। আমাদের কাজ আমরা করে যাবো। সিপিডির কাজ সিপিডি করে যাবে।’

সিপিডির মতো একটি গবেষণা প্রতিষ্ঠান আন্দাজের ভিত্তিতে কাজ করছে এই ধরনের মন্তব্য কি যথার্থ হলো—এমন প্রশ্নে অর্থমন্ত্রী বলেন,  ‘যথার্থ হয়েছে। আমি যা বলেছি, যথার্থ বলেছি। তারা যদি পারে তাহলে আমাদের জিডিপি কত হয়েছে তা বের করে দিতে বলেন। এক্ষেত্রে আমাদের অফিস থেকে কোনও তথ্য নেবে না। বিবিএস থেকে কোনও তথ্য নিতে পারবে না।’

অর্থমন্ত্রী বলেন, ‘বিদায়ী অর্থবছরের প্রবৃদ্ধির লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৮ দশমিক ২ শতাংশ। সাময়িক হিসাবে তা হয়েছে ৫ দশমিক ২৪ শতাংশ। এমন তো নয় যে ৮ দশমিক ২ শতাংশই অর্জিত হয়ে গেছে বলে আমরা বলে দিলাম।’

প্রসঙ্গত, রবিবার (১৬ আগস্ট) আয়োজিত এক অনলাইন বিফ্রিংয়ে সিপিডি বলেছিল, অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিকে রাজনৈতিক সংখ্যায় পরিণত করা হয়েছে। সদ্য বিদায়ী ২০১৯-২০ অর্থবছরের জন্য সরকার মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) প্রবৃদ্ধির যে প্রাক্কলন করেছে, তাতে করোনার প্রভাব হিসাব করা হয়নি বলে মন্তব্য করে বেসরকারি গবেষণা প্রতিষ্ঠান সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ (সিপিডি)। সংস্থাটি বলছে, অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিকে রাজনৈতিক সংখ্যায় পরিণত করা হয়েছে। এ ধরনের প্রবৃদ্ধির হিসাব সরকারের নীতি প্রণয়নে বিভ্রান্তি তৈরি করবে। এছাড়াও বৈদেশিক বাণিজ্যের প্রয়োজনে যুক্ত দেশগুলোও বিভ্রান্তিতে পড়তে পারে বলে সতর্ক করেছে সিপিডি। সিপিডির মতে, ২০১৯-২০ অর্থবছরে প্রবৃদ্ধি ২.৫ শতাংশ বা তার কাছাকাছি হওয়ার কথা।