প্রকল্পের চুলচেরা বিশ্লেষণ-মূল্যায়ন চান পরিকল্পনামন্ত্রী

59
Social Share

সরকারের ব্যয় ও বিনিয়োগকে জনবান্ধব করতে প্রতিটি প্রকল্পের চুলচেরা মূল্যায়ন করার আহ্বান জানিয়েছেন পরিকল্পনামন্ত্রী এম এ মান্নান।

মঙ্গলবার (৯ ফেব্রুয়ারি) সকালে রাজধানীর শের-ই-বাংলা নগরে ২০২০-২১ অর্থবছরে নির্বাচিত চলমান ২২টি প্রকল্পের নিবিড় পরিবীক্ষণ ও সমাপ্ত ৮টি প্রকল্পের প্রভাব মূল্যায়ন সংক্রান্ত কর্মশালার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে এ আহ্বান জানান তিনি।

এসময় মন্ত্রী বলেন, সরকারের কোন টাকা নেই, সব টাকা জনগণের। তাই এই অর্থ জনগণের কল্যাণে ব্যয় হচ্ছে কি-না তা নিশ্চিত করতে হবে। জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে হবে। কারণ, এটা স্বাধীন দেশ; কেউ মাথা নত করে থাকবে না। কাজ করতে হবে এবং সেই কাজের ফল ভোগ করতে হবে।

তিনি বলেন, কোন ধরনের স্বজনপ্রীতি ছাড়া, কোন রকমের ছাড় না দিয়ে সরকারের কাজ পর্যবেক্ষণ ও মূল্যায়ন করতে হবে। যেন কোন ব্যয় অযথা না হয়। সেই মূল্যায়ন থেকে যেন আগামীর প্রকল্প নির্ধারণে আরও স্বচ্ছ ও সঠিক সিদ্ধান্ত নেয়া যায়।

এসময়, পরিকল্পনা মন্ত্রণলায়ের অধীন বাস্তবায়ন পরিবীক্ষণ ও মূল্যায়ন বিভাগের সচিব প্রদীপ রঞ্জন চক্রবর্তী বলেন, চলমান করোনা মহামারির মধ্যেও কোন প্রকল্প বন্ধ করে দেয়া হয়নি। এই মূল্যায়নের মাধ্যমে সরকার জানতে চায়, যে প্রকল্প একনেক সভায় পাশ করে দেয়া তা আসলে বাস্তবে কতোটা জনবান্ধব ও জন গুরুত্বপূর্ণ। তাই এই পর্যবেক্ষণ ও মূল্যায়নের প্রতিবেদনে এমন পরামর্শ সরকার আশা করে যেখানে আগামীর প্রকল্প হাতে নেয়ার ক্ষেত্রে স্পষ্ট পরামর্শ পাওয়া যায়।

নিবিড় পরিবীক্ষণের (মনিটরিং) জন্য নির্বাচিত চলমান প্রকল্পগুলো হলো: 
আমিনবাজার-মাওযা-মংলা ৪শ’ কেভি সঞ্চালন লাইন, মাতারবাড়ি ২গুণ৬০০, মেগা ওয়াট আল্ট্রা সুপার ক্রিটিক্যাল কোল ফায়ার্ড পাওয়ার প্রজেক্ট, সকল জেলায় মুক্তিযুদ্ধ কমপ্লেক্স ভবন নির্মাণ প্রকল্প, ওয়েস্টার্ন বাংলাদেশ ব্রিজ ইমপ্রুভমেন্ট প্রকল্প, আরবান রেজিলিয়েন্স প্রকল্প (ডিএনসিসি পার্ট), অগ্রাধিকার ভিত্তিতে গুরুত্বপূর্ণ পল্লী অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্প- (১ম সংশোধিত), আরবান প্রাইমারি হেলথ কেয়ার সার্ভিসেস ডেলিভারি প্রজেক্ট (২য় পর্যায়), গড়াই নদী ড্রেজিং ও তির সংরক্ষণ প্রকল্প (১ম সংশোধিত), বাংলাদেশ ওয়েদার অ্যান্ড ক্লাইমেট সার্ভিসেস রিজিওনাল প্রজেক্ট: পানি বিজ্ঞান সম্পর্কিত তথ্য সেবা ও আগাম সতর্কীকরণ ব্যবস্থা শক্তিশালীকরণ (কম্পোনেন্ট-বি) (১ম সংশোধিত), কৃষক পর্যায়ে উন্নতমানের ডাল, তেল ও মসলা বীজ উৎপাদন, সংরক্ষণ ও বিতরণ (৩য় পর্যায় প্রকল্প) (১ম সংশোধিত), ক্লিনিক্যাল কন্ট্রাসেপশনস সার্ভিস ডেলিভারি প্রোগ্রাম, মুন্সিগঞ্জ বিসিক কেমিকেল ইন্ডাস্ট্রিয়াল পার্ক (১ম সংশোধিত), ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স ডুবরি ইউনিট সম্প্রসারণ, জলাশয় সংস্কারের মাধ্যমে মৎস্য উৎপাদন বৃদ্ধি (২য় সংশোধিত), সুনামগঞ্জ জেলার তিনটি বেসরকারি কলেজের অবকাঠামো উন্নয়ন, বিকেএসপির প্রমিলা প্রশিক্ষণার্থীদের উন্নয়ন, চট্টগ্রাম শহরের জলাবদ্ধতা নিরসনকল্পে খাল পুনঃখনন, সম্প্রসারণ, সংস্কার ও উন্নয়ন, ঢাকার মিরপুরস্থ ৯ নং সেকশনে ১৫টি ১৪তলা বিশিষ্ট আবাসিক ফ্লাট নির্মাণ প্রকল্প (২য় পর্যায়), রাজশাহীতে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান নভোথিয়েটার স্থাপন প্রকল্প, অংশীদারিত্বমূলক পল্লী উন্নয়ন প্রকল্প-৩ (পিআরডিপি-৩) (১ম সংশোধিত), সাসটেইনেবল ফরেস্ট অ্যান্ড লাইভলিহুড (সুফল), ৬৪টি জেলায় জেলা সমাজ সেবা কমপ্লেক্স নির্মাণ (১ম সংশোধিত) প্রকল্প।

শেষ হওয়া যে সব প্রকল্পের প্রভাব মূল্যায়ন করা হবে:
পল্লী বিদ্যুতায়ন সম্প্রসারণের মাধ্যমে ১৮ লাখ গ্রাহক সংযোগ প্রদান, পটুয়াখালী-কুয়াকাটা সড়কে শেখ কামাল সেতু, শেখ জামাল সেতু, শেখ রাসেল সেতু নির্মাণ (৩য় সংশোধিত), বাংলাদেশ রুরাল ওয়াটার সাপ্লাই ও স্যানিটেশন প্রজেক্ট, সমন্বিত বালাই ব্যবস্থাপনা (আইপিএম) কৌশলের মাধ্যমে নিরাপদ ফসল উৎপাদন প্রকল্প (১ম সংশোধিত), এস্টাবলিশমেন্ট অব ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স বার্ণ ট্রিটমেন্ট হাসপাতাল, বাংলাদেশ পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়সমূহের শিক্ষা সুবিধাদি উন্নয়নকল্পে বৈজ্ঞানিক যন্ত্রপাতি ক্রয়, আমার বাড়ি আমার খামার (৪র্থ সংশোধিত), এসএএসইসি রোড কানেক্টিভিটি প্রজেক্ট ইমপ্রুভমেন্ট অব বেনাপোল বুড়িমাড়ি ল্যানড পোর্ট (১ম সংশোধিত) প্রকল্প।